স্থগিত হল চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

স্থগিত হল চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্প্রতি বরিশালে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুর বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই চার শিশু ও তাদের পরিবারকে কঠোর নিরাপত্তা দিতেও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এ সময় ধর্ষণের ঘটনায় চার শিশুকে যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ প্রদানকারী বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ, ওই চার শিশু ও বাকেরগঞ্জর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় চার শিশুকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে বাকেরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহকে তলব করেন হাইকোর্ট। এছাড়া বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে ওই চার শিশুর অভিভাবকসহ হাইকোর্টে স্বশরীরে উপস্থিত হতেও বলা হয়েছিল।

ওই আদেশ অনুসারে বিচারক, চার শিশুসহ সংশ্নিষ্টরা হাইকোর্টে হাজির হন। শুনানিতে চার শিশুকে জামিন না দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চান বিচারক এনায়েত উল্লাহ।

পরে হাইকোর্ট তাকে সর্তক করে দিয়ে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। এছাড়াও বাকেরগঞ্জর থানার ওসি আবুল কালামকেও ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের মামলায় চার শিশুকে গ্রেপ্তার করে শিশু উন্নয়ন কেন্ত্রে পাঠানো নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারিত হলে ৮ অক্টোবর রাতে তা আমলে নেন হাইকোর্ট। তখন হাইকোর্ট থেকে এক আদেশে বরিশালের শিশু আদালতের বিচারককে ওই চার শিশুর জামিন নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। এ ছাড়া রাতের মধ্যে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে শীতাতাপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে বরিশালের বাখেরগঞ্জে তাদের বাড়িতে পৌছে দিতেও আদেশে বলা হয়েছিল।

এরপর বরিশালের শিশু আদালতের বিচারক রাতেই তৎক্ষণাৎভাবে ওই চার শিশুর জামিন মঞ্জুর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চার শিশুকে শুক্রবার ভোরে তাদের বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাকেরগঞ্জে গত ৪ অক্টোবর ছয় বছরের এক প্রতিবেশি মেয়ে শিশুর সঙ্গে চার ছেলে শিশু বাগানে বসে খেলছিল। এরপর মেয়ে শিশুটিকে তার পরিবার অসুস্থ অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে নিয়ে যায়।

এরপর সেই চার ছেলে শিশুকে গত ৬ অক্টোবর আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মেয়ে শিশুর বাবা ধর্ষণের মামলা করেন। মামলায় চার শিশুকে গ্রেপ্তার করে ৭ অক্টোবর আদালতে হাজির করা হলে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন বাকেরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ।

এদিকে শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, তাদের শিশুরা ধর্ষক নয়। শত্রুতার জেরে তাদের সন্তানদের ফাঁসানো হয়েছে। এরপর এ নিয়ে সময় টিভিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট আদেশ দেন।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *