পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দগ্ধ শিক্ষার্থীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিবেশ। অ্যাম্বুলেন্স একের পর এক এসে পৌঁছাচ্ছে, আর সঙ্গীদের খোঁজে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন স্বজনরা।
ভাঙা হৃদয়, দগ্ধ শিশু: করিডোরজুড়ে কান্নার ধ্বনি
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ছুটে আসছেন অভিভাবকরা। কেউ সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না, কেউ শনাক্ত করছেন পোশাক দেখে। করিডোরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বহু মানুষ। কারো চিৎকার, কারো নিঃশব্দ হতাশা—সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় দৃশ্য।
স্বেচ্ছাসেবীরা আশার আলো
হাসপাতাল এলাকায় দেখা গেছে শত শত মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে আসছেন। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রক্ত দিতে। অনেকেই নিজে থেকে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন, কেউ রোগীদের বেডে পৌঁছে দিচ্ছেন, কেউ পথ পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ মাইকে রক্ত চেয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন।
কান্নায় ভেঙে পড়া অভিভাবকদের গল্প
- আবদুল কাদের এসেছেন তার মেয়ে আফিয়া (তৃতীয় শ্রেণি) কে খুঁজতে। এখনও খোঁজ পাননি।
- সায়মার বাবার সহকর্মী এসেছেন তাকে খুঁজে পেতে।
- সামিনের ভাই জানালেন, সামিনের ৫০ শতাংশ বাঁচার সম্ভাবনা আছে। সে আইসিইউতে।
- আফিফার মা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন মেয়েকে না পেয়ে। মায়ের আকুতি, “আমি কিছুই চাই না, আমার সন্তানকে এনে দিন।”
- বাপ্পির মা বলেন, “খাবার দিয়ে বাসায় ফিরি, তারপরই শুনি বিমান বিধ্বস্ত। এখন শুধু জানি, আমার ছেলে আইসিইউতে, মুখ পুড়ে গেছে।”
- আয়েশা বেগম, তার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। কোথাও খোঁজ পাচ্ছেন না।
বিধ্বস্ত ভবনের ভিতরের ভয়াল দৃশ্য
হায়দার হল নামের ভবনটিতে ছিল কোচিং ক্লাস, প্রিন্সিপাল ও মিটিং রুম। প্রথম তলায় ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসরুম। বিধ্বস্ত বিমানের আঘাতে ভবনটির উল্লেখযোগ্য অংশ ভস্মীভূত হয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, ছুটি শেষে কোচিংয়ের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিল অনেকে।
রক্তের জন্য হাহাকার
যদিও পজিটিভ গ্রুপের রক্ত পাওয়া যাচ্ছে, নেগেটিভ রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। এজন্য ইনস্টিটিউটের ভিতরে-বাইরে চলছে মাইকিং। রক্ত সংগ্রহে নেমেছেন ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত।
চিকিৎসা ও হতাহতের তথ্য
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছে অন্তত ৭০ জন। এরমধ্যে ২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, বেশির ভাগ দগ্ধের শরীরের বড় অংশই পুড়ে গেছে।


