হাটহাজারীর যে ছিদ্র দিয়ে শিবির সভাপতি ও জামায়াত নেতার প্রবেশ

হাটহাজারীর যে ছিদ্র দিয়ে শিবির সভাপতি ও জামায়াত নেতার প্রবেশ

হাটহাজারীর যে ছিদ্র দিয়ে শিবির সভাপতি ও জামায়াত নেতার প্রবেশ

নিশ্ছিদ্র হাসান : কালের সাক্ষী জামায়াতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রেখে যিনি ইন্তেকাল করেছেন তার নাম আল্লামা আহমদ শফী। চিরকাল জামায়াতের চিন্তার সঙ্গে তিনি রেখেছেন বৈরী সম্পর্ক। মওদুদিয়াতকে সবসময় ফেতনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জামায়াতের ইসলাম নিয়ে বাড়াবাড়ি বিষয়ক পুস্তকও রচনা করেছেন।

জানাযা নিয়ে রাজনীতি আছে। রাজনীতির কারণেই নেতাদের জানাযা হয় অনেক জায়গায়। কোথাও কোথাও গায়েবানাতেও গিয়ে ঠেকে। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আজমের জানাযায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির পক্ষ থেকে এসেছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ১৯৫১ সালের ১ নভেম্বর ঢাকার কেরাণীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বয়সের দিক দিয়ে নিশ্চয়ই তিনি বয়োবৃদ্ধ মানুষ। সম্মানী মানুষ। জানাযায় বিএনপি যে কেবল রাজনীতি করেছিল তা সহজেই বুঝা যায়। এসব নিয়ে মূলত আমার কোনো কথা নেই। আমার এ নিয়েও কোনো কথা নেই, আল্লামা আহমদ শফী কীভাবে ইন্তেকাল করলেন, কারা ষড়যন্ত্র করেছেন, কেউ তার অক্সিজেনের তার ছিঁড়ে ফেলেছে কিনা, এম্বুল্যান্সে হামলা চালিয়েছে কিনা, দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হয়েছিল কিনা, যারা কামরাঙ্গীরচড়ে আক্রমাণাত্মক বক্তব্য দিয়েছিল তারাই আহমদ শফীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া নীলনকশা বাস্তবায়নে অগ্রগামী কিনা, সরাসরি আহমদ শফীর শরীরে কোনো জখম আছে কিনা-এসব নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা আপাতত নেই।

আহমদ শফীর বিরুদ্ধে গত কবছর যারা চরমভাবে নিজেদের বিষোদগার প্রকাশ করেছেন তারাও জানাযায় অংশ নিয়েছেন। এটি ভালো কথা। কিন্তু হাটহাজারীর মতো আকাবির ও আসলাফের জয়গান গাওয়া যেই রুহানী প্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবির ঢুকিল কেমনে?

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, জামায়াত নেতারা হযরতের খাটিয়া নিয়ে তারা প্রশংসিত হয়েছেন। তারা ভালো কাজ করেছেন। তাদের সমালোচনা করার কিছু নেই।

ভালো কথা। সমালোচনা করবেন না। কিন্তু জামায়াত নিয়ে সব দ্বন্দ্ব কি মিটে গেছে? জামায়াত-শিবির কি কখনোই কওমির বন্ধু ছিলো? ছাত্র শিবিরের একজন সভাপতি কী কারণে আহমদ শফীর খাটিয়া টেনেছেন তা বোধগম্য নয়। শিবির নেতার কী উদ্দেশ্য ছিলো তা-ও ক্লিয়ার না। তবে তা কতটুকু যুক্তিসংগত? কওমির বলয় ভেদ করে অসাধু প্রবেশের রাস্তা এত সহজ কেন?

যার ডাকে কোটি মানুষ জড়ো হয়, ফেসবুকে তাকে নিয়ে কিছু লিখলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন যে তারুণ্য-তার খাটিয়া টানার জন্য হকপন্থী মানুষের অভাব পড়লো?

আমি জানি, এসবকিছুর পেছনেও রাজনীতিকরণ থাকতে পারে। শত্রুর হাতে নিজের বাবার লাশ তুলে দিয়েও কেউ কেউ তৃপ্তির ঢেঁকুর নিতে পারেন তবে এতে স্বস্তি নেই। যে ছিদ্র দেখা যায়, এ দিক দিয়ে আলো আসবে না। অন্ধকার ভর করবে। এ ছিদ্র শিগগিরই বন্ধ না হলে পথভ্রষ্টরা গোটা কওমি অঙ্গনকেই আস্ত খেয়ে ছাড়বে। সজাগ হোন, দ্রুত শিক্ষা নিন।

লেখক : তরুণ আলেম

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *