পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হুমকি উপেক্ষা করে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ ধরনের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে ইরানের বিরুদ্ধে শেষ আঘাত হানতে প্রস্তুতির ঘোষণা দেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরানের হুমকির মোকাবিলা করছে। গেল ১৬ মাসে তেল আবিব তেহরানের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আঘাত হেনেছে। আমি নিশ্চিত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করব।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কো রুবিও বলেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু শক্তিধর দেশ হতে দেয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যজুরে ইরানের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন সশস্ত্র শক্তিকে মোকাবিলার ঘোষণা দেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইরানকে কোনো দিন পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হতে দেয়া হবে না। হামাস, হিজবুল্লাহ, সিরিয়া কিংবা ইরাকি মিলিশিয়াদের পেছনে একটি সাধারণ শক্তি রয়েছে আর তা হলো ইরান। এই শক্তিকে অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে। ইরান কখনোই পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। আপনারা একদিকে ইরানকে হুমকি দেবেন, অন্যদিকে সংলাপে সমর্থন দেয়ার দাবি করবেন, তা হতে পারে না।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হিসেবে গত তিন দশক ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি চলছে। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি এখনো চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, ‘অন্যকে হুমকি দেয়া আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদি সেটা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে হয় তাহলে, তারা কোনভাবেই এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে পারে না।’
গাজা যুদ্ধের জেরে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা তুঙ্গে। গত বছর প্রথমবার দেশ দুটি একে অপরের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালায়। গত সপ্তাহে ইসরাইল চলতি বছরের মাঝামাঝি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করে মার্কিন গোয়েন্দারা। বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এ তথ্য জানায় ওয়াশিংটন পোস্টও। এ ধরনের হামলা ইরানের পরমাণু কার্যক্রম পিছিয়ে দেবে একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতরতা তৈরি করবে বলেও সতর্ক করা হয়।


