২৫ সিটে লড়বে জামায়াত

২৫ সিটে লড়বে জামায়াত

পাথেয় রিপোর্ট : ইসলামের নামে মওদুদীবাদি জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে সুসংগঠিত দল। দলটি ইতোমধ্যেই নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে তাদের কার্যক্রম চলছে এখনো। নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে। জাতীয় একাদশ নির্বাচনকে একটি পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে তারা। ২৫টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা লড়বে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক চাপে ধুঁকতে থাকা দলটি কেবল জাতীয় নির্বাচন নয় স্থানীয় উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভার নির্বাচনেও লড়েছে। সিলেটে জোটের সঙ্গে সখ্যতা ভেঙে উল্লেখযোগ্য ভোটও ভাগিয়ে নিয়েছে। জাতীয় একাদশ নির্বাচনে তাদের টার্গেট ২৫ আসন। বিএনপিকে চাপে রাখছে সর্বশেষ ২৫টি আসনের জন্য।

বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার মধ্যে মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা যায়। এই ২৫ আসনে মনোনয়ন না পেলেও জামায়াতপ্রার্থী খাড়া থাকতে পারে। কারণ এই রোগ তাদের আগে থেকেই আছে। জামায়াত নিজেদের জানান দিতেই এই নির্বাচনকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

২৩ দলীয় জোট শরিকদের ৫০টির মতো আসন ছেড়ে দেওয় হবে বলে জানালেও জামায়াতের বিষয়ে কিছু বলেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির অন্য কোনো নেতাও এনিয়ে মুখ খোলেননি।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের ফলে চাপে থাকা জামায়াত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে। বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে রয়েছে আরও পাঁচটি দল।

নির্বাচনে অংশ নিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ২৫টি আসন দেওয়া হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের নেতারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মনোনয়নপ্রাপ্ত ২৫ প্রার্থী হলেন:

শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), আব্দুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও-২), মোহাম্মদ হানিফ (দিনাজপুর-১), আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬), মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩), সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (কুমিল্লা-১১), হামিদুর রহমান আজাদ (কক্সবাজার-২), শামসুল ইসলাম ( চট্টগ্রাম-১৫)।

মনিরুজ্জামান মন্টু (নীলফামারী-২), আজিজুল ইসলাম (নীলফামারী-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), মাজেদুর রহমান সরকার (গাইবান্ধা-১), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), ইকবাল হুসেইন (পাবনা-৫), আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন (যশোর-২), আব্দুল ওয়াদুদ (বাগেরহাট-৩), আবদুল আলিম (বাগেরহাট-৪), মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫), আবুল কালাম আযাদ (খুলনা-৬), রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩), আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-১), ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫) ও হাবিবুর রহমান (সিলেট-৬) ।

হাইকোর্টে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণার পর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তাই দল হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই জামায়াতের। তবে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিংবা নিবন্ধিত অন্য কোনো দলের প্রার্থী হয়ে সেই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এরই মধ্যে জানিয়েছেন, ‘অনিবন্ধিত কোনো দল নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে ইসির কিছু করার থাকবে না। এই বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *