৬৮০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রাশিয়ার

৬৮০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রাশিয়ার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্যসহ ইউক্রেনের ৬৮০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। তাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার ও যুদ্ধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর তাস নিউজ এজেন্সি।

রাশিয়ার প্রধান পাবলিক তদন্তকারী আলেকজান্ডার বাস্ট্রিকিনকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাশিয়ান ফৌজদারি কোডের ৩৫৬ ধারা উল্লেখ করে যুদ্ধের রীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১৮ জন সদস্য রয়েছেন। ব্যাস্ট্রিকিন জানিয়েছেন, ১৩৮ জনের অনুপস্থিতিতেই এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর অফিস বলেছে, প্রায় এক বছরের যুদ্ধে তারা রাশিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্ত করেছে।

উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। কিন্তু উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এরই মধ্যে উভয়পক্ষে সামরিক-বেসামরিক মিলে দুই লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ৮৮ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশের বাইরে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও প্রায় এক কোটি মানুষ।

প্রায় এক বছরের ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর হাজার হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়াও তার মিত্র নয় এমন দেশের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্বে খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গেছে। কয়েকটি দেশ এরইমধ্যে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। আর দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে আরও বেশ কিছু দেশ।

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মূল কারণ হিসেবে এই যুদ্ধকে চিহ্নিত করা গেলেও সেটাকে থামানোর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ২০২৩ সালে অনেক দেশই দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

বার্তা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়, চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অস্ত্র খাত প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সে কারণেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্ষোভকারীরা ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো বন্ধের দাবি করা হলেও তা গ্রাহ্য করছে না মার্কিন প্রশাসন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *