৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

অনুভবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

অনুভবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

হাসান রোবায়েত ● কখনো চালতাগাঙের পাড়ে রাত্রির করুণ ঝিঁ ঝিঁ দিনের সমস্ত ঝরাপাতার শব্দ চোখে নিয়ে, ঘুমিয়ে থাকে মাটির ছায়ায়, শনের অন্ধকারে। তখন খুব সুরে নিভে যাচ্ছে হাওয়া—সে বাতাস বটের পাতা কাঁপিয়ে, মোনামুনির জঙ্গল হয়ে বহুদূর বাতিস্তম্ভের মতো চাঁদে বাড়ি খাচ্ছে, হালকা চমকে উঠছে চাঁদ—সমস্ত রাত একজন ব্যভিচারিনীর হৃদয়ের মতো অন্ধকার হয়ে ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছে প্রান্তরে। এইসব কূট সঙ্কেত আর বিষণ্ন পরিখার ধারে খিলানের বক্রতার মতো চিরস্থির একটি ছাঁচ ভেসে থাকে শূন্যতায়—সময় তার মহাযুদ্ধের অগণন হিংসা, আপামর মৃত্যু ও চক্রনীল ফাঁদের ভেতর ছুটিয়ে দেয় ঘোড়া, তারপর শাঁই শাঁই ছুটে আসে লোকালয়ে—মানুষ কি কখনো দেখা পেয়েছিল তার? অথচ লওহে মাহফুজ থেকে হাজার লক্ষ ক্রোশ রা রা করে জ্বলে উঠেছিল আলো, ‘কসম মহাকালের, নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ততার মধ্যে ডুবে আছে মানুষ’—তখনো চালতাগাঙের ধারে ঝিঁঝিঁর শব্দ, তখনো মধ্যপাড়ার কেউ বাড়ি ফিরছে অন্ধকারে তরমুজবনের পাশ দিয়ে।

তখন আমাদের কুরআনের তিরিশতম পাড়া অর্থাৎ আমপারার দরস চলছিল। দোতলার একদম দক্ষিণে উনার রুম। বড় এবং ছিমছাম। উস্তাদজি ছিলেন অন্ধ। মাদরাসার সবচেয়ে দক্ষ মুহাদ্দিস। দল ধরে আমরা উস্তাদজির ক্লাসে যেতাম। কখনো এমনও হয় যে কেউ হয়তো টুপিই পরেনি দ্রুত কোনো রকম পাঞ্জাবিটা শরীরে গলিয়েই উস্তাদজির রুমে হাজির। যারা এমন করে তারা কখনোই উস্তাদজির পাশে বসে না। উস্তাদজিকে ঘিরে বসতাম আমরা। রুমের পশ্চিম দেয়ালে বড় বড় দুইটা জানালা, পুবের দেয়াল ঘেঁষে একটা ছোট খাট, খাটের উপর স্তুপাকার বড় বড় আয়তাকার বই, উস্তাদজির সঙ্গে প্রায় সময়েই কেউ না কেউ থাকে, উনি যখনই কিছু পড়তে চাইতেন ছাত্রদেরকে পড়তে বলতেন, সবাই সাহস করতো না, ইবারতে ভুল হলে খুব বকা দিতেন তিনি। এমন তো অনেক দিনই হয়েছে উস্তাদজি দরাজ কণ্ঠে একের পর এক আয়াত বলে যাচ্ছেন আর তাফসির করছেন আশ্চর্যভাবে, হঠাৎ কারো মাথায় হাত দিলে দেখা যেত টুপি ছাড়াই ক্লাশে এসেছে সে—হুংকার দিয়ে উঠতেন উস্তাদজি। রাগের জন্যও বিখ্যাত ছিলেন তিনি মাদরাসায়।

সেদিন ছিল আমাদের মুহাদ্দিস আহমাদুল্লাহ রাহমানি [রহ.] উস্তাদজির ক্লাস—সুরা আলাক পড়াবেন তিনি। সারাটা ক্লাশ জুড়েই ওহি, লওহে মাহফুজ, হেরাগুহার অদ্ভুত ধ্যান, নবীজীর মক্কাজীবনের সংগ্রামের কথা বলছেন তিনি। ডান হাতের তর্জনি হেলিয়ে যখন ভরাট কণ্ঠে আয়াত পড়ছেন মনে হচ্ছে তার অঙ্গুলি হেলনে এখনি কায়সার ও কিসরার প্রতিটি ধূলির কণা বিচ্ছুরিত ভঙ্গিমায় উড়ে যাবে সূর্যরেণুর সাথে। তখন চৈত্রের দুপুর—মাঝে মাঝে হাওয়া উঠছে, নারকেলের সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তির তির করে বয়ে যাচ্ছে রোদ আর তার ঝিলিমিলি ছায়া পড়ছে উস্তাদজির ঘরের মেঝেতে—তিনি মক্কার কথা বলছেন, ইয়াসরিবের কথা বলছেন, হেরাগুহায় নবীজীর আত্মউন্মীলনের কথা বলছেন। যেন এই গ্রীষ্মের বাংলায় পত্রমর্মরের ভেতর ঝরে পড়ছে হেরা—দেখতে পাচ্ছি ভূপৃথিবীর সেই রূপশস্য যেখানে নবীজী হেঁটে যাচ্ছেন সূর্যের হৃদয় কাঁপিয়ে, চারদিকে অনিন্দ্য কুহুর শিস, অনির্দেশ্যের দিগন্ত চিরে টলমল রোদের ওপার। দূরে, চৈত্রনির্জন গাছ, জামের পাতার ছায়া মেলে আছে পশ্চিমে। এই পথেই কি উম্মে জামিল তার চোখের কাঁটা বিছিয়ে রাখে প্রতিদিন! হঠাৎ উস্তাদজির ডাকে চোখ ভেঙে যায়, তিনি পড়ছেন—‘আল্লামাল ইনসানা মা লাম ইয়ালাম।’

সেদিন দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রুমে অমাবশ্যার মতো ফুটে আছে কালো মর্মর আর বুদবুদ করছে অন্ধকার। আমার পাশেই সজীবের বিছানা, ইউসুফের ভাইয়েরা যেমন কুয়ার গভীরে তাকিয়ে দেখতে চেয়েছিল মৃত্যুর নিকটস্থ হাহাকার সেভাবেই হা করে খুলে রাখা আমার শেলফের দিকে চেয়ে থাকি। ফ্যানের বাতাসে একটা কপাট নড়ছে, তাও কৃতদাসের মতো অসহায়। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন ঘরটাতে দাউদাউ করছে নিশ্বাস। হঠাৎ একটা আশ্চর্য প্রশ্নের মুখে পড়ে যাই। দেখি, সীসার অক্ষর খুঁটে খুঁটে প্রেসের কর্মীরা যেমন বাক্য সাজায়, সেভাবেই আমার শূন্যতায় তৈরি হচ্ছে প্রশ্নটি, কালগোখরার মতো ফণা বাঁকিয়ে হিস হিস করছে কোথাও। মানুষ তার স্মৃতি জমানোর প্রথম দিন থেকেই বারবার পিছনে ফিরে যেতে যায়—যেন সেখানেই তার সঙ্কেতময় হাওয়া প্রতিদিন দোলা দিচ্ছে পাতায়, যেন সে এক নদীর দেশ, যা তাকে পৌঁছে দেবে সুখ-দুঃখের পাড়ে, আমূল মর্মতায়। বারবার মনে করতে চাই—ঠিক কখন নবীজীকে প্রথম অনুভব করতে পারি আমি?

বন্ধ জানালার ওপাশে কে দাঁড়িয়ে আছে তার সমস্ত বৈভবসহ সে খবর কিভাবে পাওয়া যায়—! কত কত নীরব সন্দেহ ঘিরে রাখে প্রতিবেশ অথচ উত্তর মেলে না। আমারও অবস্থা হয়েছে তেমন। তবুও খুঁজতে থাকি কবে কখন নবীজীর নাম শুনেছিলাম। যেটুকু মনে পড়ে তা এমন— ধরমপুরের মধ্য পাড়ায় যে দিঘি তক্ষকের ডাকের মতো ঘন সেখানে প্রায়ই হাঁস খুজতে যাই আমি। হাঁসগুলো সুযোগ পেলেই বাড়ি ফেরে না, রাত্রে দিঘির পাড়েই ডিম দেয়, সকালে যে-ই দেখতে পায় হঠাৎ সৌভাগ্যের দ্বিধায় ডিমগুলো লুকিয়ে হজম করে ফেলে। সেদিন রাতেও আমাদের হাঁসগুলো বাড়ি ফেরে না। মা সকাল সকাল আমাকে পুকুর পাড়ে যেতে বলে কিন্তু ভুলে যাই আমি। তখন দুপুর প্রায় হয়ে এসেছে, সূর্য তার গোল গোল অশ্বের পিঠে চড়ে পিতরাজের গাছের মাথা বরাবর নেমে এসেছে। কাউকে না পেয়ে একলাই পুকুরের দিকে যাই। দেখি, হাঁস তো দূরের কথা পানির উপর তাদের বিলীয়মান ঢেউএ পাড়ে ক্ষয়ে গেছে অনেক আগেই। পিতরাজের ফোকরে একটা পাখি ঢুকতেই চি চি আওয়াজ করতে শুরু করেছে কয়েকটা ভাতশালিকের ছানা। ফরফর করতে থাকে আমার লোভ। গাছে উঠে হাত ঢুকিয়ে খোড়লে—কী ভ্যাপসা গরম যেন বাতাসও সেদ্ধ হয়ে আছে এখানে। রঙ্গন ফুলের নলের মতো নতুন পালক উঠেছে বাচ্চাগুলোর। হাতের তালুর মধ্যে দুইটা বাচ্চা নিয়ে নেমে আসি। পরিবারের অন্য পাখিটা তখন ড্রাগনের মতো তেড়ে আসছে আর কাঁদছে।

এমন সময় সেই আশ্চর্য ফকির যে আমাকে জোড় কবরের ওখানে দূরের গ্রামের গল্প করেছিল সে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পিতরাজের একটা ডাল খামচে ধরে রাখি। কয়েকটা লাল পিঁপড়া মুখে ডিম নিয়ে চলে যাচ্ছে তার বাসার দিকে। আমাকে উদ্দেশ্য করে ফকির বলতে থাকে—‘বাচ্চাগুলোক ওগোরে ঘরোতি (ঘরে) থোও, নিচে আনলে না খায়া মরে যাবি ওরা, আর ওগোরে বাপ-মাও মন্নি দিবি, তারপর মাটিত নামো, নবী মোহাম্মাদ (সা.) এর একটা কিস্তে শুনাই’। গল্প শোনার লোভেই বাচ্চাগুলো রেখে নেমে আসি আমি। সে আমাকে নবীজির কথা বলতে থাকে—‘একদিন তার এক সাথি পাখির একটা বাচ্চা নিয়ে তার কাছে আচ্চিল, বাচ্চাডার পিছে পিছে মাও পাখিডাও উড়ে আচ্চে, ক্যাংকা কান্দিচ্চিলো পাখিডা। নবী তার সাথীক কোলেন (বললেন), তুমি যে পাখিডার বাচ্চাক নিয়ে আচ্চো, দ্যাকো তো ওর মাও ক্যাংকা ডাক পারিচ্চে, বাচ্চা গুলের জন্যে তো তার ফাপর (মন কেমন করা) লাগিচ্চে। যাও যেটি থেকে বাচ্চাগুলোক নিয়ে আচ্চো সেটি থুয়ে আসো আবার। দয়াল নবীর এই কতা শুনে বাচ্চাগুলোক তার বাসাত থুয়ে আসে সেই সাথিডা তারপর বুজবের পায়, মায়ের মমতা কী জিনিশ’। নবীজির এমন গল্প পরে স্কুলের বইতে পড়েছিলাম। কেমন মায়া মায়া সে গল্প। মক্তবের হুজুরও নবীজির কথা বলেছিলেন কিন্তু সেভাবে মনেই রাখতে পারি নি। হয়তো অনেক দিনই শুক্রবারে খুতবায় মসজিদের ইমাম নবীজির হাদিস বলেছেন, তার জীবনী বলেছেন কিন্তু মন দিয়ে শুনতেই পারি নি সেসব। ছোটদেরকে মসজিদের মূল ঘরে ঢুকতেই দিত না, বারান্দায় বসতে বলতো সবাই। বাইরে থেকে আর মন লাগতো না খুতবায়। আমি বরং মার কাছ থেকেই নবীজির কথা শুনেছি অনেক।

তারপর ফকিরকে বলি, ‘আচ্চা, আপনি হামাগেরে নবীর আর কিস্তে জানেন না?’ সে বলে, ‘জানি। দয়াল নবীর কত কতা, কত নসিহত, কত কষ্ট করছিলেন আল্লার হুকুম তামিল করার জন্য তার কি শ্যাষ আছে বাবা!’ আমি বলি, ‘তালে আরো শোনান না!’ তারপর সেই ফকির হাঁটতে হাঁটতে দুপুর পেরোতে থাকে। বুনোগুল্ম আর পাতায় পাতায় তখন রোদের শিরা ভেসে উঠছে, দিঘির মধ্যখানে কঞ্চির উপর একটা রূপালি-সবুজ মাছরাঙা অপেক্ষা করছে অতল পানির থেকে কখন ভেসে উঠবে মাছ। জমিতে সার নিয়ে যাচ্ছে এ পাড়ার কেউ কেউ, তাদের লুঙ্গিতে কাদা আর ঘাসের মায়াকাজল। আরেকটু এগুলেই কলমিফুলের ঘ্রাণ, সেখানে একটা বটগাছ, সিমেন্টের চক্রাকার ঘের, ছায়া আর পাতার শনশন শব্দ ঝরে পড়ছে। ওখানে বসলো সে, আমাকেও বসতে বললো। একটু সামনেই কলতলা, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কলের হ্যান্ডেলে ঝুলে ঝুলে লোটায় পানি ভরছে আর অখণ্ড আনন্দে গায়ে ঢেলে দিচ্ছে। কথা বলা শুরু করলো সেই আশ্চর্য ফকির—’শোনো, আরব দ্যাশের টাউনের মানষেরা তকোন [তখন] ছোলপোলের [বাচ্চাদের] সাস্তো [স্বাস্থ্য] ভালোর জন্যে আর মুখের ভাষা ভালো কোরবের জন্যে গ্রামোত পাটাচ্চিলো [পাঠাচ্ছিল], হামাগেরে নবীকও তাই মা হালিমার কাচে [কাছে] দিছিলো তার দাদা। যকোন থেকে নবী মা হালিমার কোলোত [কোলে] যান সেই থেকেই তার সংসারোত আয়-উন্নতি শুরু হয়, তাগেরে [তাদের] উট আর গাদাও [গাধা] বলশালী হয়া যায়, আগে যে উটের দুধই হচ্চিলো না তার একন ম্যালা দুধ হয়। ইংকে বরকত দিছিলো আল্লা হামাগের নবীক’। এইসব কথা বলার সময় কী উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল ফকিরকে, যেন সে বনী সা’দ ইবনে বকর গোত্রের সেই দুধমাতার আনন্দ দেখতে পাচ্ছিল চাক্ষুষ। এরপর নবীজির বক্ষ চিরে জিব্রিল আমিন কী কী করলেন, সেসব বললো ফকির। তখন সুবিলের থেকে ঠান্ডা বাতাস যেন এপারের বট গাছটিতে মাখিয়ে দিচ্ছে মায়াঞ্জন।

তায়েফের দশদিন, নবীজির উপর সেখানকার দুর্বৃত্তদের অকথ্য ব্যবহার, নবীজির পায়ের রক্তে জুতা ভিজে যাওয়ার ঘটনা আর তায়েফবাসীকে ক্ষমা করার কথা বলে সে। বিদ্রুপ আর ঘৃণায় সারা শরীর রি রি করে আমার। যে মানুষ পাখির চোখের মায়ায় দেখতে পান গোধূলির অয়নপথ তাকে কি করে আঘাত করতে পারে তায়েফের বর্বরেরা! তাদের চেরা জিভ যেন লকলক করে ওঠে দূরের দিগন্তে, কেবল হিস হিস শব্দ শুনতে পাই বাতাসের চারধারে।

হেরা পর্বতে নবীজির ধ্যানের কথা বলে সে। কিভাবে দিনের পর দিন বিবি খাদিজা [রা.] তার পাশে চৈত্রের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, জিব্রাইল [আ.] কোরআনের সুসংবাদ নিয়ে এলে কেমন বিচলিত হয়ে পড়েন নবীজি, সেসবও বলে সে। একটা দুপুর গড়িয়ে তখন বিকালের আলোছায়ায় প্রবেশ করছে ধীরে ধীরে। সারা ধরমপুর যেন হিজলফুলের রেণুতে ছেয়ে আছে। সোহাগদের অর্জুন গাছে হয়তো ফিঙ্গে পাখিটাও ফিরে এসেছে সূর্যের অশোক মেখে। বাড়ি ফিরে আসি আমি।

নবীজীর কথা শোনার পর কেমন যেন ঘোর লেগে যায়। একটা আনোখা নদীর হাওয়ায় যেন দিন দিন ভেসে যাচ্ছি আমি। সেখানে মৌরিফুলের খেত ছোট ছোট মাছেদের সাথে কথা বলে। ভেড়াগুলো গুল্মের বন পার হয়ে চলে যায় ইয়াসরিবের মাঠে—মরুঘূর্ণির পাশেও তারা চিরকাল হরিণবাঁকের দেখা পায়। এমন উন্মীল হাওয়ায় আমার মনে পড়ে—আমাদের চালতাগাঙের বনে যে ছোট্ট টিলা মেঘের আড়ালে ঘুম যায়, সেখানে বাবলাগাছের নিচে শনের অন্ধকার, মোনামুনির জঙ্গল—ওখানে যদি নবীজীর মতো একলা বসে থাকি আমি তবে কি তার দেখা পাবো? মা বলেছিল, স্বপ্নে নবীজীকে দেখা যায়। তবে কি গড়ের যে ঢাল খিলানের বক্রতার মতো চিরস্থির, যদি আমিও সেখানে ধ্যানের প্রতিক্ষায় বসে থাকি তবে কি নবীজির প্রিয় মুখ ভেসে উঠবে অয়নপথের পাড়ে?

তন্দ্রা কেটে যায়। নবীজিকে প্রথম ভালোবাসার দিনগুলো ভেসে যেতে থাকে তার সমস্ত প্রার্থনায়। তখন, মাদরাসার এই ঘরের প্রতিটি বায়ুকণায় প্রতিধ্বনিত হতে থাকে—

‘ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলান্নাবী। ইয়া আইয়্যুহালল্লাজিনা আমানু সাল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা। ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলান্নাবী। ইয়া আইয়্যুহালল্লাজিনা আমানু সাল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলান্নাবী। ইয়া আইয়্যুহালল্লাজিনা আমানু সাল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলান্নাবী। ইয়া আইয়্যুহালল্লাজিনা আমানু সাল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।’

পা.টো.ড/আদিল

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com