নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমানে দেশে অপুষ্টিজনিত কারণে শতকরা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ ৫ বছরের কম বয়সী শিশু খর্বতায় ভুগছে। এছাড়া ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিশু কৃশকায় এবং ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু কম ওজনে ভুগছে। ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ, ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিক হাবিবুর রহমান খন প্রমুখ। এ সময় সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালন করবে সরকার। এবারের পুষ্টি সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হচ্ছেÑ খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথা ভাবুন।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করে অপুষ্টি শিশুর হার কামিয়ে আনছি। পুষ্টি সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পুষ্টিবিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ, আইওয়াইসিএফ, স্যাম ও সিম্যাম ও অন্যান্য অপুষ্টির ওপরে ৩৮ হাজার ৫৪১ জনকে (ডাক্তার, নার্স মাঠকর্মী) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিশুদের পুষ্টি সেবার জন্য মোট ৪২৪টি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আএমসিআই ও পুষ্টি কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে।
মারাত্মক অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসার জন্য ২০২টি জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে স্যাম কর্ণার স্থাপনা করা হয়েছে। খাদ্যের মান নির্ণয়ের জন্য জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগার তৈরি করা হয়েছে। পুষ্টিকর খাদ্য শাক-সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, তেল-বীজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি খাদ্য বিতরণে অনুপুষ্টি চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব কর্মকা-ের কারণে আমরা ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে ১ শতাংশ হারে ৫ বছরের নিচের শিশুদের খর্বতা হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি।
সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের ১৯৯৬-২০০১ সময়ে সর্বশেষ পুষ্টি সপ্তাহ পালিত হয়। মাঝখানে বহু বছর পুষ্টি সপ্তাহ পালিত হয়নি। গেল বছরের ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত জাতীয় পুষ্টি পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ২৩-২৯ এপ্রিল জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি বলেন, জাতীয়ভাবে জনগণের পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি সেবার মান উন্নয়ন এবং বহুখাতভিত্তিক কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সামগ্রিক পুষ্টি অবস্থার উন্নয়ন এ সপ্তাহ পালনের সাধারণ উদ্দেশ্য। এছাড়া পুষ্টি খাতের উন্নয়ন তথা সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি সপ্তাহব্যাপী মানবজীবন চক্রভিত্তিক কর্মকা- ও সেবা কার্যক্রম পালন করা এবং পুষ্টি সপ্তাহের অন্যান্য উপজীব্য এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
পুষ্টি সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম দিন অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ঢাকার ওসমানী মিলনায়তনে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে, এদিন মেলা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দিন মাতৃপুষ্টি, ৩য় দিন ৫ বছরের নিচে শিশু পুষ্টি (অটিস্টিক শিশুসহ), ৪র্থ দিন কিশোরী পুষ্টি ও স্কুল পুষ্টি, ৫ম দিন বৃদ্ধ বয়সে পুষ্টি ও স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিং, ৬ষ্ঠ দিন বহু-পাক্ষিক অবহিতকরণ ও সমন্বয় এবং ৭ম দিন পুষ্টি বিষয়ে রচনা লেখাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতণ করা হবে।


