অবৈধ স্থাপনা সরাতে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রস্তাব

অবৈধ স্থাপনা সরাতে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রস্তাব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক স্বার্থসঙ্ঘাত ঠেকানো, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও জলাশয় ভরাটে কঠোর দণ্ড, দ্রুত বিচার এবং পুরনো আইন রহিত করে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের প্রস্তাব করেছে। রাজউক আইনের নতুন অধ্যাদেশে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিতে যে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে তাতে কোনো অবৈধ স্থাপনা বা দেয়াল আদালতের আদেশে না সরালে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ নিজেই স্থাপনা অপসারণ করে ব্যয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ‘সরকারি দাবি’ হিসেবে আদায় করবে।

প্রস্তাবিত রাজউক অধ্যাদেশের নবম অধ্যায়টিতে শহর পরিকল্পনার ‘আইন প্রয়োগে’র বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে রাজউক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা স্পষ্ট করা হয়েছে। এমনভাবে অপরাধ ও দণ্ডবিধির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ঠিক করা হয়েছে যার লক্ষ্য বলা হয়েছে কোনোভাবেই যেন পরিকল্পনা ভঙ্গ না হয়, বেআইনি স্থাপনা না হয় এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

স্বার্থসঙ্ঘাত ও শেয়ার নিষিদ্ধ : চেয়ারম্যান, সদস্য বা নিয়োজিত কর্মকর্তারা নিজ সংস্থার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চুক্তিতে কোনোভাবে অংশ নিতে পারবেন না। বলা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে তা ফৌজদারি আইনের ধারা ১৬৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও লেনদেন বা চুক্তির বিষয়ে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে দীর্ঘদিনের ‘স্বার্থসঙ্ঘাতৎ ও ‘অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটে’র অভিযোগ ঠেকাতেই এই ধারা রাখা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

বেআইনি নির্মাণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ভাঙার কঠোর শাস্তি : কোনো ব্যক্তি যদি অনুমতি ছাড়াই রাস্তার সীমানারেখা ও ইমারত রেখার মাঝখানে বড় ইমারত বা দেয়াল নির্মাণ করেন বা অনুমোদিত মহাপরিকল্পনা ভেঙে কাজ করেন, তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। অপরাধ চলতে থাকলে প্রতিদিন বাড়তি জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী, খুঁটি, চেইন বা লাইট সরানো বা নষ্ট করাও অপরাধ; এর জন্যও ২ বছর কারাদণ্ড ও কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে।

পরিকল্পনা লঙ্ঘন ও জলাশয় ভরাটে দণ্ড : মহাপরিকল্পনা বা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার-ড্যাপ অন্তর্ভুক্ত জমি অন্য কাজে ব্যবহার করা বা অনুমতি ছাড়া জলাশয় ভরাট/নদীখাল বন্ধ করলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। নগর বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ঢাকার জলাবদ্ধতার বড় কারণ অনিয়ন্ত্রিত ভরাট; এই বিধান সেটি ঠেকানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। নতুন আইন অনুসারে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপালনে বাধা দেয়া বা জরিপ-চিহ্ন/ নির্দেশনা সরানোও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ জন্য ৪ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

দ্রুত বিচার কাঠামো : প্রস্তাবিত আইনে সব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য, আপসযোগ্য ও জামিনযোগ্য’ করা হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের এন্ট্রিতে সরাসরি মামলা নেয়া যাবে, তবে সমঝোতা বা জামিনের সুযোগও থাকবে। প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আইনে নির্ধারিত দণ্ড আরোপ করতে পারবেন। আর মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও বিচার করতে পারবেন।

পুরনো আইন রহিত ও সম্পদ হস্তান্তর : ১৯৫৩ সালের আগের ‘রাজধানী উন্নয়ন আইন’ রহিত করে নতুন আইনের অধীনে গঠিত কর্তৃপক্ষকে সম্পদ, দায়দায়িত্ব ও সব চলমান মামলা হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা আগের শর্তেই থাকবেন যতক্ষণ না নতুন বিধি হয়।

নীতি-বিশ্লেষকের মন্তব্য : নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘এই অধ্যায়টি বাস্তবে কার্যকর হলে ঢাকায় অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা, জলাশয় দখল ও পরিকল্পনা ভঙ্গ কমবে। তবে আইনের শক্তিশালী বাস্তবায়ন ছাড়া কঠোর শাস্তি কার্যকর হবে না।’

Related Articles