৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য চাই পরিকল্পিত শিল্পায়ন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আবাদি জমি রক্ষায় পরিকল্পিত শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে যুব ও নারীদের এই খাতে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্র প্রস্তুত এবং সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার সকালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) ৫০টি শিল্প ইউনিট, প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধা উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও ৫০টি শিল্প ইউনিট ও অবকাঠামোর উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়ে আজ আমি খুবই আনন্দিত।’

বাসসের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি ও শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিসহ আমাদের নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে নিজস্ব বাজার সৃষ্টি হয়। সরকার সে কারণেই সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই বেশ কয়েকটি ইপিজেড নির্মাণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে এরই মধ্যে ইপিজেড করতে ৯৭টি জায়গা তাঁর সরকার ঠিক করে রেখেছে। সেখানে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ আসবে। কভিড-১৯-এর অর্থনৈতিক ধাক্কা সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশে লাগলেও তাঁর সরকার সেটি সামলে নিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখায় সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এরপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে আমাদের ক্রয়ক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা নেমে এসেছে। আমদানি পণ্যের দাম এবং পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক দেশ মন্দায় ভুগছে।’

শিল্প মালিকদের এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের কারখানা চালিয়ে অন্তত দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের প্রচেষ্টা চালাবেন আপনারা। আওয়ামী লীগ সরকার আপনাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। এখন আর হাওয়া ভবন নেই যে আপনাদের কোনো কাজ পেতে হলে সেখানে পাওনা ঘুচাতে অথবা এখানে-ওখানে ছোটাছুটি করতে হবে। আমরা দেশকে নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। ’ তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন। ব্যবসার ক্ষেত্র প্রস্তুত এবং সুযোগ-সুবিধা আমরা করে দিচ্ছি। আপনারা প্রত্যেকেই দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, যত বেশি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, আমরা সরকার তত বেশি আপনাদের সহযোগিতা করব। কিন্তু এমন কিছু করবেন না, যাতে মানুষ কষ্ট পায় বা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাবের কারণে বাংলাদেশ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে যেসব ফসলি জমি রয়েছে সেগুলো ফসলি হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এখান থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি। ’ তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এরই মধ্যে ২৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদন করছে এবং ৬১টি শিল্প নির্মীয়মাণ রয়েছে। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প নির্মাণে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শিল্পায়নের জন্য যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের দেশে গ্যাস খুঁজে বের করার এবং বিদেশ থেকে ক্রয়ের চেষ্টা করছি, যাতে গ্যাস সংকটে না পড়তে হয়।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com