অর্থপাচারকারী ‘জাতীয় বেইমান’ রুখতে হবে
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাচার শব্দটাই অত্যন্ত খারাপ একটি শব্দ। এর সঙ্গে যা-ই যুক্ত করা হোক খারাপ হয়ে যাবে। অর্থ, নারী, মানব, স্বর্ণ যা-ই যুক্ত করা হোক না কেন তা রাষ্ট্রদ্রোহীতা বা বড় ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখা হয়। অর্থপাচার নিয়ে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদরা নন, বিদেশে বেশি অর্থ পাচার করেন সরকারি চাকুরেরা।’
তাঁর এই বক্তব্য এবং পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কিছু নির্দেশ ও রুল জারি করেছেন। বিদেশে অর্থপাচারকারীদের যাবতীয় তথ্য হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। অর্থপাচারকারীদের জাতীয় বেইমান আখ্যায়িত করে উচ্চ আদালত অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ সবার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রসচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণে প্রধান বাধাগুলোর অন্যতম হলো দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থপাচার। আমরা মনে করি, হাইকোর্টের এই আদেশ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত, এই আদেশের গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং সর্বশক্তি নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে ঝাঁপিয়ে পড়া। আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে এ ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া যে সম্ভব আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশই তা প্রমাণ করেছে। ২০১৬ সালে ভারত থেকে মুদ্রাপাচার আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছিল। নেপালে তা চার ভাগের এক ভাগে নেমেছিল। পাকিস্তানেও মুদ্রাপাচার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী একই সময়ে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মুদ্রাপাচার বেড়েছে ২০ শতাংশ। কেন?
কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, তা নয়। সরকারি কর্মকর্তাসহ ৬০ জনের পাচার করা টাকা ফেরত আনতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ডসহ ১৮টি দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন করা হয়েছে; কিন্তু এটুকুই যথেষ্ট নয়। কোন কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতি করছেন, হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠাছেন, কার কার স্ত্রী-ছেলে-মেয়েরা বিদেশে অবস্থান করছেন, কে কতবার বিদেশে যাচ্ছেন, তাঁদের অর্থের উৎস কী—এসব নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে—সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও মিশনগুলোকে কাজে লাগাতে বিদেশে সম্পদ অর্জনকারী বাংলাদেশিদের তথ্য পেতে।এই ‘জাতীয় বেইমানদের’ কঠোরতম উপায়ে মোকাবেলা করা হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


