অ্যাম্বুলেন্সে একজন শিশুর অার্তনাদ, এবং…

অ্যাম্বুলেন্সে একজন শিশুর অার্তনাদ, এবং…

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে গিয়ে একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেয়ার অধিকার নেই আমাদের। এমন কথাই এখন ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দায়ী করছে আন্দোলনকারীদের অনিয়মের। অনেকেই বলছে, ধর্মঘট পালন করতে গিয়ে একটি শিশুর জীবনেকই যে কেড়ে নিলো তারা। সাতদিনের এই শিশুটির দোষ কী ছিলো!

সড়ক দুর্ঘটনায় সাজা কমিয়ে আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এদিকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের সময় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় সংকটাপন্ন সাত দিন বয়সী এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

রোববার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুটি বড়লেখা সদর ইউনিয়নের আজমির গ্রামের দুবাই প্রবাসী কুটন মিয়ার মেয়ে।

শিশুটির চাচা আকবর আলী ফুল মিয়া বলেন, সাতদিন আগে ওর জন্ম হয়। তারপর থেকেই ও অসুস্থ। অাজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি আর ওর মা সায়রা বেগম সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে নিয়ে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু অবস্থা আরো খারাপ হলে “শিশুটির উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে তাকে সিলেট সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।”

তিনি বলেন, এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় তারা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করলে প্রথমে উপজেলার দাশের বাজার এলাকায় প্রায় আধাঘণ্টা আটকে রাখে ধর্মঘটকারী শ্রমিকরা। “সেখান থেকে অনেক অনুরোধে ছাড়া পেলেও পুনরায় অ্যাম্বুলেন্সটি আটকা পড়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারের চান্দ্রগ্রাম এলাকায়।” এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে তারা মারধরও করার অভিযোগ আছে ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।

ফুল মিয়া বলেন, সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার দেড়ঘণ্টা পর শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে তারা গাড়িটি ছাড়ে। “এ সময় শিশুর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেলা ২টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমদ হোসাইন বলেন, তাদের অ্যাম্বুলেন্সটি ভোরে অন্য রোগী নিয়ে সিলেটে চলে যাওয়ায় একটি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তারা সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করলে পথিমধ্যে দুইবার বাধাগ্রস্ত হয়। এতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় রাস্তায়ই শিশুটি মারা যায়।

অ্যাম্বুলেন্স বাধা না পেলে শিশুটিকে বাঁচানো যেত কি না প্রশ্ন করা হলে ডা. হোসাইন বলেন, “হয়ত বাঁচানো যেত।” শিশুটি জন্ডিসে আক্রান্ত ছিল বলে জানান এই চিকিৎসক। সন্ধ্যায় শিশুটিকে বাড়িতে দাফন করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়াও সারাদেশে ঘটেছে আরো নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তায় গাড়ি নামানোর অপরাধে প্রকাশ্যে চালকের মুখে পোড়া মবিল মাখিয়ে দিয়েছে। তাদের এ তাণ্ডরেব হাত থেকে রক্ষা পাননি যাত্রীরাও। সারাদেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে এখন। দেখা গেছে, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রুট ছিল গণপরিবহন শূন্য। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে ডাকা এ পরিবহন ধর্মঘটে পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

এতে স্কুলকলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। পরিবহন শ্রমিকদের হাতে অপমানিত হয়েছেন স্কুলবাস বা গাড়ীর ড্রাইভাররা। তাদেরকে শুধু আটকেই দেয়া হয়নি। মুখে মবিল মেখে চরম লজ্জা দিয়েছে তাদের। যেসব ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল। এসব কারণে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে পরিবহণ শ্রমিকদের এই ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *