ঝরাপাতা
আলাপ করছিল হেমন্তের একটি ঝরাপাতা আর দুর্বাঘাস
দুর্বাঘাস বললো— ‘হে হেমন্তের ঝরাপাতা
বড় শব্দহুল তোমাদের ঝরে পড়া
চুপচাপ ঝরে পড়তে পারো না
অন্যকে বিরক্ত করতে কি খুব ভালো লাগে
আমার ঘুম ভাঙাও কেন?
ভাল্লাগে না, তোমারদের ওই একটানা শব্দবহুল ভাবে ঝরে পড়া।’
ঝরাপাতা ক্রুদ্ধ হলো এবং বললো— ‘বেজন্মা!
নিচ কোথাকার
মানুষের পায়ের নিচে থাকিস
এসব কথা বলতে তোর লজ্জা করলো না!
আমরা থাকি আকাশে—ঝরে পড়ি সুউচ্চ বাতাসে
এমাসে ঝরে পড়াটা আমাদের ধর্ম
শব্দবহুল সূরটা সঙ্গীত
আমাদের সঙ্গীত নিয়ে কোন মন্তব্য করবি না।’
এই বলে ঝরাপাতা মাটিতে ঘুমিয়ে পড়লো
কোন এক বসন্তে সে আবার জেগে উঠলো
এজন্মে সে দুর্বাঘাস হয়ে জন্ম নিলো
কয়েক মাস ঘুমিয়ে থাকার পর যখন হেমন্ত আসলো
ঝরে পড়তে লাগলো পাতার দল
তখন সে বললো— ‘ওহ! বিচ্ছিরি, হেমন্তের ঝরাপাতা
ওরা কেন শব্দ করে ঝরে পড়ে
কি জঘণ্য শব্দ!
আমার শান্তির ঘুমটা ভেঙে দিলো।
হে ঝরাপাতার সামাহার, তোমাদের অভিশাপ দিলাম
পূনর্জন্মে দুর্বাঘাস হয়ে জন্মাও
তাহলে অবশ্যই বুঝতে পারবে আমার ব্যাথাটা।’


