পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের ৮ম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিষেক ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩১ অক্টোবর) আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর ইব্রাহীম লেকচার থিয়েটারে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এসময় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শপথ বাক্য পাঠ করান শিশু বিভাগের প্রফেসর ডা. মাহমুদা হাসান।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও আদ্-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর জামালুন্নেসা, আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজসমূহের উপদেষ্টা ড. আনোয়ার হোসেন মুন্সী, আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. আফিকুর রহমান। বক্তব্য প্রদান করেন সার্জারী বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সরদার মো. রেজাউল ইসলাম, গাইনি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. শামসুন নাহার, মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. খায়রুল ইমাম, পেডিয়েট্রিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. এআরএম লুৎফুল কবীর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. আশরাফ-উজ্জামানসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
শুরুতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরিচিতি, লগ বুক প্রদান এবং নিয়ম-নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. নাহিদ ইয়াসমিন। তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ব্যস্ততম একটি হাসপাতাল। এখানে সব ধরনের রোগী সেবা নিতে আসে। তাই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশীপ করে পেশা জীবনে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, ‘একাডেমিক পড়ালেখা শেষ করে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে পেশা জীবনে প্রবেশের মাধ্যমে তোমাদের দায়িত্ব বহুগুণে বেড়ে গেছে। তোমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতাল হলো চিকিৎসকদের সেকেন্ড হোম। যারা হাসপাতালে যত বেশি সময় দেবে তারা তত বেশি শিখবে। সিনিয়র ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।’ তিনি পেশা জীবনে সকলের সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভালো কাজ করলে সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্ট হন। রোগীদের সেবার মাধ্যমে চিকিৎসকদের ভালো কাজ করার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তাই প্রতিটি মুহূর্ত ভালো কাজে ব্যয় করতে হবে।’ ভালো চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর জামালুন্নেসা বলেন, ‘সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীর সেবা দিতে হবে। কথা ও কাজে যেন রোগীরা অসন্তুষ্ট না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।’
আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. আফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে তোমাদের, তোমাদের বাবা-মার ও আমাদের একটি খুশির দিন। একটি বাচ্চা যেমন দিন, সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে পরিপক্বতা অর্জন করে; তেমনি তোমরাও দীর্ঘ শিক্ষা জীবন শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে পেশা জীবনে দক্ষতা অর্জন করতে যাচ্ছ। এই সময়টি শেখার সময়। তাই বিন্দুমাত্র অবহেলা না করে প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে হবে।’


