২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

আন্দোলনের বিকল্প নেই : ফখরুল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তরুণদের ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে আগের জায়গায় (গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা) ফিরিয়ে আনতে চাইলে আন্দোলনের বিকল্প নেই।

শুক্রবার (২ জুলাই) বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি আমরা আগের জায়গায় (গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা) ফিরিয়ে আনতে চাই, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম সেই স্বপ্ন যদি পূরণ করতে চাই, জনগণের আকাঙ্ক্ষা যদি পূরণ করতে চাই, শহীদ জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই এবং দেশের মানুষের অধিকার যদি ফিরিয়ে আনতে চাই, আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই।’

বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ খালেদা জিয়া পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার দিনটি পালন উপলক্ষে এই ভার্চুয়াল আলোচনা হয়।

১৯৭১ সালে মালিবাগের একটি বাসা থেকে শিশু তারেক ও কোকোসহ খালেদা জিয়াকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে সেনানিবাসে নিয়ে যায়।

ফখরুল বলেন, ‘তরুণদের আহ্বান জানাতে চাই, সামনে এগিয়ে আসুন। আর সময় নেই। এখন জেগে উঠতে হবে। জেগে উঠতে হবে এবং দেশকে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন এই সংগ্রাম কোনও ব্যক্তির জন্য নয়, কোনও দলের জন্য নয়। এই আন্দোলন দেশের মানুষের জন্য, জাতির জন্যে। আজকে আমার জাতির সব অর্জন হরণ করে নেওয়া হয়েছে, লুট করে নেওয়া হয়েছে। আজকে সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে।’

মির্জা ফখরুলের মন্তব্য, সেই দায়িত্ব বিএনপিকেই পালন করতে হবে। সেই দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পালন করতে হবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বো এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো। গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো। আমাদের সৌভাগ্য যে আজকে ওই পরিবারের আরেকজন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিনি সেই পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তার যোগ্য নেতৃত্বে দেশের মানুষ মুক্ত হবে, গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’

জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি যেহেতু আমরা আত্মপ্রচারে বিশ্বাস করি না, এতদিন পর্যন্ত কিন্তু এই দিনটিকে সেভাবে আমরা সামনে আনিনি। কখন এনেছি? আজকে যারা ক্ষমতায়, ১২ বছর যাবৎ গায়ের জোরের ক্ষমতায় আছে, আজকে যখন তারা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরের ইতিহাসকে বিকৃত করে বর্তমান প্রজন্মকে এবং দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, তখন আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

তিনি বলেন, কেন ওরা এসব করছে? কারণ, জিয়াউর রহমান যে কাজগুলো করেছিলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা সেই কাজগুলো করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে সেখানেই আওয়ামী লীগের দুর্বলতা। ষড়যন্ত্র হয় জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে, তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তারা মনে করেছিল বিএনপি শূন্য হয়ে যাবে। সেখানে জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি খালেদা জিয়া সেই দুর্দিনে বিএনপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন এবং এই দলকে সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত করেছেন। আজকে যারা ক্ষমতায় তাদের ভয় জিয়াউর রহমানকে নিয়ে, তাদের ভয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে, তাদের ভয় দুই জনের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে। সেজন্য তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই সরকার ভয় পায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। ভয় পায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপিকে। এ ছাড়া ভয় পায় দেশের দেশপ্রেমিক নাগরিকদের। যে কারণে আজকে তারা ভোটে যেতে চায় না, আজকে তারা এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে নিচ্ছে। অর্থাৎ তারা আগামীতে ক্ষমতায় থাকার জন্য এখন থেকে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে।’

তার দাবি, এই অবস্থার অবশ্যই অবসান হতে হবে।

বিএনপির নেতৃত্ব সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজকে পত্রপত্রিকায় কিছু সুধীজন আমাদের মাঝে মাঝে কিছু কিছু উপদেশ দিয়ে থাকেন। আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে থাকেন। তাদের সবিনয়ে বলবো, এসব কথা প্রকারান্তরে ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে। যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ক্ষমতায় থাকার পথটাকে প্রশস্ত করে।’

জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জমিরউদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com