নিজস্ব প্রতিবেদক : কোটা সংস্কারের দাবিতে গত মঙ্গলবারের মতো বুধবারও রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সকাল নয়টার পরপরই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী রাজধানীর পান্থপথ, তেজগাঁও, ফার্মগেট, মিরপুর রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে । এই আন্দোলন কর্মসূচির কারণে পুরো রাজধানীতে তীব্র যানজট তৈরি।
দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাফিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা যায়, তাঁতীবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। এ ছাড়া গ্রিন রোড, আগারগাঁও, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের পূর্ব-পশ্চিম, মিরপুর ১০, কুড়িল বিশ্বরোডে অবরোধ হয়েছে।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। তারা পান্থপথ সিগন্যাল মোড়ে বিক্ষোভ করেছেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই মোড়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। এ সময় গ্রিন রোড, পান্থপথ ও ফার্মগেট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া খামারবাড়ির সামনের সড়কেও পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।
ধানমন্ডিতে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাপা প্লাজার মোড়ে অবস্থান নেন। গত মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা ইট দিয়ে সড়কে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান লিখেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে তারা সড়ক প্রদক্ষিণ করেছেন। এ কারণে লালমাটিয়ায় আড়ং মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহনগুলোকে ঘুরিয়ে দেয়।
এদিকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি) ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে অবস্থান নেয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত বাড্ডা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার আশরাফুল করিম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে সড়কে যানচলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করতেও নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (পশ্চিম) লিটন কুমার সাহা বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বসে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যানবাহনগুলোকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।


