২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

আমার সাহসের উৎস জনগণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার সাহসের উৎস জনগণ। তাদের সাহসে সাহসী হয়েই নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা মহামারি শুরুর পর গতকালই প্রথম সাংবাদিকদের সরাসরি অংশগ্রহণে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মূলত পদ্মা সেতু নির্মাণ ও প্রতিবন্ধকতা এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পর কে কোন ভাষায় তাঁর সমালোচনা করেছিলেন, সেগুলোও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাহস নিয়ে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করার ফলে আজকে বাংলাদেশের সম্মানটা ফিরে এসেছে। আমাদের দেশের সবার একটা মানসিকতা ছিল যে আমরা অন্যের অর্থায়ন ছাড়া কিছুই করতে পারব না। এই যে একটা পরনির্ভরশীলতা, পরমুখাপেক্ষিতা—এটাই কিন্তু আমাদের মাঝে ছিল। একটা দৈন্য ছিল। বিশ্বব্যাংক যখন এই টাকাটা তুলে নিয়ে গেল, আমরা অন্তত সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছি। সেই অচলায়তন ভেঙে আমরা যে একটা আত্মমর্যাদাশীল জাতি, আমরা যে পারি, সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’

পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের দুঃখ প্রকাশ করার প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের ভাঁড় ভালো না, গোয়ালার ঘিয়ের দোষ দিয়ে লাভ কী? বিশ্বব্যাংককে আমি কী দোষ দেব? তারা বন্ধ করল কাদের প্ররোচনায়? সেটা তো আমাদের দেশেরই কিছু মানুষের প্ররোচনায় তারা বন্ধ করেছিল। এটাই তো বাস্তবতা। …এটা তারা নিজেরাই বুঝতে পারবে, যদি তাদের অনুশোচনা থাকে। আর না থাকলে আমার কিছু বলার নেই। আমার কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। বরং আমি ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই এ জন্যই যে এই ঘটনাটি ঘটেছিল বলেই আমরা এটা করতে পেরেছি।’

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উৎসব সবাই করবেন কিন্তু প্রত্যেকে একটু ধৈর্য ধারণ করবেন এবং নিয়ম মানবেন এবং কোথাও কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবেন। যার যার জায়গা থেকে যেমনভাবে হোক এই উৎসবে সবাই শামিল হবেন; এটা আমাদের মর্যাদার বিষয় যে আমরাও পারি। এটাই আমরা প্রমাণ করেছি, কাজেই সেভাবেই সবাই উৎসবে শামিল হবেন।’

প্রভাবশালী একটি দেশের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানবাধিকার আমাদের শেখাতে আসবে কারা? যারা খুনিদের আশ্রয় দেয়, আর যে দেশে প্রতিনিয়ত স্কুলে গুলি হয়ে ছাত্রছাত্রী মারা যায়, রাস্তাঘাটে পুলিশ গলায় পা দিয়ে মেরে ফেলে। তারা আমাদের কী মানবাধিকার শেখাবে? তবে হ্যাঁ, এগুলো নিয়ে তারা কথা বলবে আর আমাদের কিছু লোক এটা নিয়ে নাচবে। কিন্তু আমাদের যে আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই চলব। জনগণের শক্তি নিয়ে চলব। বাংলাদেশ কোনো চাপের মুখে কখনো নতি স্বীকার করেনি, করবেও না।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com