পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘আমি কি আর হাঁটতে পারব না, আমি কি বসতে পারব না, চলতে-ফিরতে পারব না।’ গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে জ্ঞান ফিরলে চিকিৎসকদের দিকে তাকিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রশ্ন করেন তাসরিফ হাসান (১৮)।
মিরসরাইয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষের দুই দিন পর জ্ঞান ফিরলেও তার হাত-পা অবশ হয়ে আছে। চমেক আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশিদ গত রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগেও তাসরিফের খোঁজ-খবর নিয়েছি। আজকে (গতকাল) তার জ্ঞান ফিরেছে। ঘাড়ের আঘাতের কারণে তার দুই পা এবং ডান হাত পুরোপুরি অবশ হয়ে গেছে। বাম হাতে সামান্য নড়াচড়া আছে। এটা প্যারালাইসিস।’
নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহফুজুল কাদের গত রাতে বলেন, দুর্ঘটনায় তাসরিফের ঘাড়ের স্পাইনাল কডে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। কডের ভেতর রক্ত জমাট বেঁধেছে। তার চার হাত-পা অবশ হয়ে গেছে। এটাকে এক ধরনের প্যারালাইসিস বলা যায়। তাকে আরো আট-দশ দিন দেখতে হবে। কী পরিমাণ আঘাত লেগেছে তা এখন বলা যাচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগতে পারে।
গত শুক্রবার দুপুরে মিরসরাইয়ে ওই দুর্ঘটনার পর তাসরিফ গুরুতর আহত হয়ে বিকেল থেকে প্রথমে হাসপাতালে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। পরে তার শারীরির অবস্থা অবনতি হলে শনিবার দুপুরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পাঁচজনের অবস্থা উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মিরসরাই দুর্ঘটনায় আমাদের ওয়ার্ডে এখন পাঁচজন চিকিৎসাধীন আছে। তাদের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। আর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীর (তাসরিফ) অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।’


