৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

আরও শক্তিশালী হোক বাহান্নের চেতনা

মাসউদুল কাদির : আজ রক্তে রাঙা একুশ। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। যাকে আমরা হৃদয় থেকে ভালোবাসি। আমাদের বাহান্ন, আমাদের আট ফাল্গুন, আমাদের ভাষা আন্দোলন- বাঙালি জাতিসত্তার মিনারকে আরও সুউচ্চ করে। আরও আবেগ আপ্লুত করে। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি সঞ্চার করে। একটি শুদ্ধ অক্ষর, একটি শুদ্ধ শব্দের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিল, যাদের ত্যাগের বিনিময় আমরা মায়ের ভাষাকে রক্ষা করতে পেরেছি। আমরা তাদের কীভাবে ভুলতে পারি? পারি না। মাতৃভাষা আজ বিপন্ন। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসাসহ সবধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাতৃভাষা। একে ধরে রাখার দায়িত্বও আমাদেরই। ভিনদেশি কেউ এসে তা রক্ষা করবে না। ইংরেজী ও হিন্দির দাবানলের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত আমাদের প্রিয় অ আ ক খ।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনেও অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। আমরা শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করি ভাষা আন্দোলনের জানা-অজানা সব শহীদকে। প্রতীকী এই শহীদ মিনারে কেবল ফুল দেয়া নয়। হৃদয় থেকে মাতৃভাষার প্রতি আমাদের অনুরাগী হতে হবে।

১৯৪৭ সাল। ভারত পাকিস্তানের মতো দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষেরা মূলত থেকে যায় অনাদরে, পরাধীনতায় অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের রোলারে চাপা। পাকি জালেমের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রথম যে প্রবলতর স্বাধীকার আন্দোলন শুরু হয় তাই ছিল ভাষা আন্দোলন। বাহান্ন। আমাদের তেজোদ্দীপ্ত বাহান্ন। আন্দোলনের বাহান্ন। বাঙালি দামাল ছেলেরা বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে প্রতিবাদ করেছে।

বাঙালি জাতীয়তাবোধের চেতনা থেকে উৎসারিত সে আন্দোলন ক্রমে ক্রমে ধাবিত হয়েছিল স্বাধিকার তথা স্বাধীনতার আন্দোলনে। অবশেষে বাঙালি সফল হয়েছে। স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির যে চেতনা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে সাহায্য করেছে, সেই দিনটিকে কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, প্রজন্মান্তরে বুকে ধারণ করতে হবে। বাঙালি জাতির নিজস্ব ভূখ- স্বাধীন বাংলাদেশ আজ শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির নানা শাখা-প্রশাখায় এগিয়ে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই এগিয়ে চলা অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বসভায় একদিন বাঙালি জাতি গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত হবেই।

ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে এমন বিরল ঘটনার সাহসীরা বাঙালি। এই কথা ভেইে আমাদের গর্ব হয়। আমরা জাতি হিসেবে, বাঙালি হিসেবে নিশ্চিতভাবেই গর্ববোধ করি। শুধু গর্ববোধ নয় বাংলা ও বাঙালির ভাষিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দুর্বার প্রচেষ্টাও চালানো উচিত। তাহলেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা হবে। আমরা মনে করি, কাজে ভাষার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ প্রকাশ ঘটাতে হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com