আলেমদের জুতা বৃষ্টি ও ভাবনীয় বিষয়

আলেমদের জুতা বৃষ্টি ও ভাবনীয় বিষয়

আলেমদের জুতা বৃষ্টি ও ভাবনীয় বিষয়

যা র ও য়া ত উ দ্দী ন সা ম নূ ন

গত অনেকগুলো বছর জুড়ে আমরা কেউ যখন কওমী মাদরাসার সংস্কারের কথা বলতাম, তখন ফাঁকফোকর খুঁজে দেখা হতো কোনভাবে আলেম বিদ্বেষি ট্যাগ দেয়া যায় কিনা। সময়ের স্রোতে কওমী মাদরাসায় নিখাদ দেওবন্দী ধারার বাইরেও অনেকগুলো ধারা শক্তিশালি হওয়া শুরু করলো। দেওবন্দি মাদরাসায় পড়ে দেওবন্দি ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে ইসলাম বুঝা শুরু হলো। অবশেষে হাটহাজারি এলো।

একটা জিনিস আমি অনেকদিন যাবতই লক্ষ্য করছি, মাদারাসা অঙ্গনকে নিষ্কলুষ করে দেখে ও অন্যকে দেখায় দুই শ্রেণীর মানুষ।

১/ যাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপদ ব্যবস্থা আছে। উদাহরণত, পারিবারিক সংস্কৃতির কারণে সবসময়ই মাদরাসা থেকে একটু বিচ্ছিন্ন ছিল, আলিয়ায় পরীক্ষা দিয়ে অবশেষে দাওরা পাশ দেয়ার সাথে সাথে জীবন গড়ে নিয়েছে অন্যদিকেও, এমন মানুষগুলো। মাদরাসা কেন্দ্রিক জীবন তাদের না।

২/ কওমী মাদরাসা বর্তমান অবস্থায় দড়িছেঁড়া গরুর মতো চলতে থাকলে যাদের সুবিধা। উদাহরণত, কওমী অঙ্গনের নানা লকবধারী বাচ্চা তালেবরগণ। এদের মাঝে ২টি সাধারণ বৈশিষ্ঠ্য উপস্থিত, বক্তা ও বইবিক্রেতা (লেখক-প্রকাশক উভয় অর্থে)

আর এখন মুফতি তক্বি উসমানি সাহেবদের (দা.বা.) লেখা পোস্ট করে বেশ দুটো পিঠচাপড়ানি পাওয়া যাচ্ছে।

কখনো কখনো জ্বালানীর জোগানটা আসে ওখান থেকেই। এই যেমন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেব একজন প্রবীন আলেম, কিন্তু তিনি অপর একজন প্রবীন আলেম মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবকে ইঙ্গিত করে যখন ‘ঠ্যাঙ ভাঙি ফেলবো’ বলেন, তখন একটা শ্মশ্রুমন্ডিত নাবালেগ ছেলে কাণ্ডটা ঘটিয়ে ফেললে ‘পোলাপান উচ্ছন্নে গেলো’ বলার মোটেও সুযোগ থাকে না

লম্বা একটা সময় বর্তমান যুবক-মধ্যবয়সী শ্রেণীকে দায়ি করলেও পরে একসময় আবিষ্কার করেছি, এর দায় প্রবীনদের উপরও কম বর্তায় না। কখনো কখনো জ্বালানীর জোগানটা আসে ওখান থেকেই। এই যেমন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেব একজন প্রবীন আলেম, কিন্তু তিনি অপর একজন প্রবীন আলেম মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবকে ইঙ্গিত করে যখন ‘ঠ্যাঙ ভাঙি ফেলবো’ বলেন, তখন একটা শ্মশ্রুমন্ডিত নাবালেগ ছেলে কাণ্ডটা ঘটিয়ে ফেললে ‘পোলাপান উচ্ছন্নে গেলো’ বলার মোটেও সুযোগ থাকে না।

হাজার পৃষ্ঠা পড়া হয়েছে, কিন্তু জানা হয়নি ‘অপরের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেরই পড়তে হয়।’ হাটহাজারি কোন বিচ্ছিন্ন কিছু ছিল না। খলীফায়ে মাদানীর উপর হাত তোলা একটি সামগ্রিক পরিস্থির সারসংক্ষেপ।

সম্প্রতি মামুনুল হক -যিনি অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়তে পছন্দ করেন-কে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, এটা আগামীতে বাংলাদেশের মুরুব্বি আলেমদের দিনলিপির প্রতিদিনের ভুক্তি হতে যাচ্ছে। মুফতি দেলোয়ার সাহেব মানুষ হিসাবে কতটা নির্বিবাদি আমি জানি না, তাঁর একটি নির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কাজেকর্মে তিনি বেশ নির্বিবাদি মানুষ। কোন বিতর্ক এখন পর্যন্ত সরাসরি তাঁকে ছুঁতে পারেনি।

সেই মানুষটাকে লক্ষ্য করে মঞ্চে জুতা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই জুতা নিক্ষেপের হাত মশকো করা হয়েছে কিন্তু আরো আগে, রাজনীতিবিদ মুফতি ফয়জুল্লাহর উপর জুতা নিক্ষেপের মাধ্যমে। সেদিন কিন্তু আপনারা গর্তখোদকের দল সবাই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। ভাবেন নাই, আজকে আপনার দুচোখের বিষ কারো দিকে জুতা নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে আপনার দুচোখের প্রতিষেধক কারো দিকে জুতা নিক্ষেপের জন্য।

মানুষের জীবনে নানা ‘আড়’ থাকে। যতদিন তা টিকে থাকে, ততোদিন তা রক্ষা করে অপপ্রান্তের সত্তাটিকে। বাংলাদেশের কওমী মাদরাসায় থাকা একের পর এক আড়গুলো ভেঙে পড়ছে।

শুনতে পাচ্ছেন? চোখ বন্ধ করে প্রলয় এড়ানো যায় না। যারা এই পরিস্থিতি থেকে সহজেই উত্তোরণ ঘটানোর ক্ষমতা রাখেন, তারা সবাই ‘ঠ্যাং ভাঙতে’ ব্যস্ত। তাদের জন্য এটা হিসেব করা ঝুঁকি, তারা মাওলানা আহমদ শফিও হতে পারেন, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীও হতে পারেন।

কিন্তু আমাদের জন্য? আমাদের জন্য এটাই নিয়তি।

লেখক : তরুণ আলেম ও সহকারী সম্পাদক, পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *