আলেমসমাজের আরেকবার জেগে ওঠার সময়

আলেমসমাজের আরেকবার জেগে ওঠার সময়

আলেমসমাজের আরেকবার জেগে ওঠার সময়

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : দেশের প্রিয় আলেমসমাজের আরেকবার জেগে ওঠার সময় এসেছে। আলেম-ওলামা দ্বীনদার মানুষেরা আবার জেগে উঠুন। যেভাবে জেগে উঠেছিলেন রোহিঙ্গাদের খেদমতে। বাংলাদেশে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম সবধরনের মত-পথ ভুলে অসহায় মাজলুম রোহিঙ্গাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আলেম- উলামার নেতৃত্বে সেদিন শরীক হয়েছিল এদেশের আপামর জনতা। যার যা ছিল তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার মুক্তির দিশারী বনে গিয়েছিল বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম।

ঠিক বর্তমান যে পরিস্হিতি চলছে। এখন আর রোহিঙ্গা নয়। নিজ মাতৃভুমির মানুষ গুলো অসহায়। মানবতা আজ বিপন্ন। সুতরাং সেই কক্সবাজার আর টেকনানাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কারো এখন যেতে হবেনা। নিজ নিজ এলাকার গরীব- দুঃখীর খেদমতে নিজেকে সোপর্দ করেন।

সমাজের বিত্তবানদের বলছি, আপনারা আলেম-সমাজের সাথে হাত মেলান। আলেমদের সাথে মিলিত হয়ে দুঃস্হ মানুষের খেদমত করুন। এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

আমাদের ওয়াজ মাহফিলের বক্তাগণ, মসজিদের খতীব, ইমাম, মাদ্রাসার মুহতামিম, শায়খুল হাদীস, মুহাদ্দিস, শিক্ষক, যে যেখানে আছেন, এগিয়ে যান মানবতার খেদমতে। মনে রাখবেন, আপনারা কিন্তু সমাজের কর্ণধর, আপনারা যদি একটু সামনে বাড়েন, দেখবেন আল্লাহর মদদ আসা শুরু হয়েছে। তাই আপনারা নাড়া- চাড়া দিয়ে উঠুন। যারা অসহায়, যারা দিন আনে দিন খায়, কাজ কর্ম করতে পারছে না, তাদের পাশে গিয়ে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিন।

বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতা কর্মি যারা আছেন, তারাও নেমে পড়ুন। সরকারের নিয়ম নীতি মেনে মানুষের খেদমত করুন। দেখুন! এটাই এখন মানুষের খেদমতের উপযুক্ত সময়।

করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। কত লোক অসহায়ত্বের মধ্যে কাটাচ্ছে। কত মানুষের ইনকামের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছে। অনেকে ক্ষুধার্ত। কিন্তু কারো কাছে হাত পাততে লজ্জা পাচ্ছে। এজন্য ইসলামী সংগঠনের নেতা কর্মিদের সোচ্চার হতে হবে। ওসব দুঃস্হ মানুষকে খুঁজে বের করা জরুরি।

ইসলামী সংগঠনের নেতা কর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার মোক্ষম সময়। আপনারা তো জনগণের খেদমত করতে চান, সুতরাং ঘরে বসে থাকবেন না। মানুষকে সাহায্য করুন।

বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকতে হয়। মানুষকে সাহায্য করাই প্রকৃত মনুষ্যত্বের আলামত।
আর বালা- মুসিবত দুর করার প্রধান উপায় হল, দান – সদকার হাতকে প্রসারিত করা।

প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন,দারুল উলুম দেওবন্দের মুহাদ্দিস, সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী সাহেব বলেছেন, বেশী করে সদকা করুন। কেননা দান -সদকার দ্বারা আল্লাহ তায়ালার গোস্সা ঠান্ডা হয়।

তিনি আরো বলেছেন, এই যে পরিস্হিতি, এটাতো মহান আল্লাহ আমাদের উপর নারাজ হয়েছেন। আর আল্লাহ পাকের নারাজী এবং রাগ ঠান্ডা করার উপায় হলো, বেশী বেশী দান- সদকা করা।

আমাদের চরমোনাই এর আমীর সৈয়দ রেজাউল করীম সাহেব বলেছেন, আপানার বাড়ীর পাশের কেউ যেন ক্ষুধার্ত অবস্হায় না ঘুমায়। খোঁজ খবর রাখুন। অসহায় মানুষকে সাহায্য করুন।

গতকাল নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম সাহেব এক অনলাইন বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, চরোনাই এর মুজাহিদ কমিটি, ইসলামী আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, যুব আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, এবং চরমোনাই এর সাথে সম্পৃক্ত সকল সংগঠন, মুহিব্বিনদের অসহায় মানুষের খেদমতে যার যা আছে, তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে বলেছেন।

এই অবস্হায় গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি সরকার এবং স্বাস্ব্য বিভাগের নিয়মনীতি ফলো করে কর্মিদের ময়দানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এজন্য যে যেখানে আছেন। আমাদের আলেম – উলামা দ্বীনদার বন্ধু।বিত্তশালী ও সমাজের নেতৃস্হানীয় ভায়েরা। আপানারা অসহায় মানুষের খেদমতে জেগে উঠুন। নিজের প্রতিবেশী, নিজের ঘরের আশে- পাশের মানুষের খেদমতে নিজেকে বিলিয়ে দিন। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *