১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দারুল উলুম দেওবন্দের নির্বাহী মুহতামিম ও জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আল্লামা ক্বারী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ উসমান মানসুরপুরী (রহ.)-এর ইন্তেকালে গোটা বিশ্বের ধর্মীয় অঙ্গন আজ শোকাহত। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরামগণ তাঁর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন ভাষায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব শোকবার্তার সংক্ষেপিত রূপ পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

 

হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানীঃ

মাওলানা আরশাদ মাদানী এক শোকবার্তায় বলেন, মাওলানা ক্বারী উসমান সাহেব (রহ.)-এর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমার জন্য এই সময়টা অতিক্রম করাটা খুবই কষ্টকর। ক্বারী সাহেব (রহ.)-এর মৃত্যুতে যে শূণ্যতা তৈরী হয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।

মাওলানা আরশাদ মাদানী আফসোস করে বলেন, গত কয়েক মাসে দারুল উলুম দেওবন্দের অনেক শিক্ষক আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আর আজ ক্বারী উসমান সাহেবও আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করুন।

হযরত মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানীঃ

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী ক্বারী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ উসমান মানসুরপুরী (রহ.)-এর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করে বলেন, ক্বারী উসমান মানসুরপুরী (রহ.) ছিলেন দেওবন্দের একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাঁর মৃত্যুতে দারুল উলুম দেওবন্দ, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ ও মুসলমান জাতির এক বিরাট ক্ষতি হয়ে গেলো।

তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যাক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক, একজন সফল শিক্ষক, একজন আদর্শ নেতা, একজন ধর্মীয় ব্যাক্তিত্ব। ছাত্রদেরকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সংকটাবস্থায় তিনি সংগঠনটির হাল ধরেছিলেন এবং অত্যন্ত সুনামের সাথে তিনি তাঁর কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন।

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী বলেন, তার মৃত্যু দেশ, জাতি, ও ইসলামের জন্য এক বিরাট ক্ষতি। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।

“দৈহিক সৌন্দর্য, চারিত্রিক গুণাবলী, সৌজন্যবোধ, বংশীয় আভিজাত্য, খোদাভীতি ও পূতপবিত্রতার সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিত এক জীবনাচার। ছাত্রদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন  ও তাদের বিপদে পরম বন্ধুর মতো পাশে থাকা ছিলো তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য। নিয়মানুবর্তিতা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত বিষয়”

পড়ুনঃ আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম

হযরত মাওলানা সাব্বির আহমদ সালুজীঃ

হযরত মাওলানা সাব্বির আহমদ সালুজী তাঁর শোকবার্তায় বলেন, ক্বারী উসমান সাহেব (রহ.)-এর মৃত্যুতে আমি মনে গভীর আঘাত পেয়েছি।

হযরত মাওলানা ক্বারী উসমান সাহেব (রহ.)-এর স্মৃতিচারন করতে গিয়ে তিনি বলেন, হযরতের সারাটি জীবন কেটেছে দ্বীনের ইলমের পিছনে। তাঁর অধ্যাপনা-জীবনে অনেক বড় বড় ইসলামী ব‌্যক্তিত্ব গড়েছেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে ইলমে নববী, ইসলামী সংস্কৃতি ছাত্রদের মধ্য গেঁথে দিয়েছেন। খতমে নবুওয়াতের সংরক্ষনের তাগিদে জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। দারুল দেওবন্দের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সামাজিক সংস্করনমূলক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর সারা জীবনের নেক আমলগুলো কবুল করে নিন এবং তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে স্থান দিন। আর তাঁর নিকটাত্বীয়দের উত্তমভাবে ধৈর্য্য ধরার তাওফিক দান করুন।

হযরত মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানীঃ 

জানেশীনে ফিদায়ে মিল্লাত, হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানী বলেন, হযরত মাওলানা ক্বারী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ উসমান মানসুরপুরী (রহ.)-এর ইন্তেকালে আমি আমার একান্ত অভিভাবককে হারালাম, অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম।

তিনি বলেন, হযরত উসমান মানসুরপুরী (রহ.) আমার মুরব্বি ও শিক্ষক। তিনি জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ তত্বাবধানে আমাকে পথ প্রদশর্ন করতেন। আজ তো আমি মুরব্বিহারা হয়ে গেলাম।

হযরত মাওলানা শামশাদ রাহমানী কাসেমীঃ

হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শামশাদ রহমানী এক শোকবার্তায় বলেন, ‘ক্বারী উসমান সাহেব (রহ.)-এর মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক মহাবিপর্যয়। তাঁর মৃত্যুতে গোটা বিশ্ব একজন মহান নেতা ও একজন আদর্শ অভিভাবককে হারিয়েছে।

তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি সম্পর্কে শামশাদ রহমানী বলেন, তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের মানুষ। বিশেষ করে ছাত্রদের সাথে তিনি ভালোবেসে কথা বলতেন। তাদেরকে বড় আদর করতেন। এমন আরো অনেক মহান গুণাবলি তাঁকে অনন্য করে তুলেছে।

মাওলানা শামশাদ রহমানী আরো বলেন, হযরতের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। দোয়া করি আল্লাহ যেন হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করেন।

হযরত মাওলানা শিবলি কাসেমীঃ

মাওলানা মোহাম্মদ শিবলী কাসেমী তাঁর শোকবার্তায় বলেছেন, ক্বারী উসমান সাহেব (রহ:) ছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দের ইতিহাসে অন্যতম একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। সাথে সাথে তিনি ছিলেন আল্লাহ ভীরু। ছাত্রদের প্রতি তিনি ছিলেন সহানুভূতিশীল। এতদসত্বেও প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তাঁর মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক বিরাট ক্ষতি। আল্লাহ হযরতকে ক্ষমা করুন।

মুফতি সাঈদুর রহমান কাসেমীঃ

হযরত মাওলানা মুফতি সাঈদুর রহমান কাসেমী তাঁর শোকবার্তায় বলেন, হযরত ক্বারী সাহেব শুধু হাদীসের ময়দানেই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন না, বরং তিনি একজন দূরদর্শী নেতা, খাটি ধার্মিক এবং সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিও ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে মুসলিম জাতি এক মহান নেতাকে হারিয়েছে।

হযরত মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদঃ

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, হযরত মাওলানা ক্বারী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ উসমান মানসুরপুরী (রহ.)-এর ইন্তেকালে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানগণ এক মহৎপ্রাণ দরদি অভিভাবককে হারালো। বিশেষত ভারতীয় মুসলমানদের রক্ষায় এবং তাদের যাবতীয় উন্নয়নকল্পে তিনি তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরী (রহ.)-এর ইন্তেকাল ধর্মীয় শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি মন্তব্য করে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দে তিনি দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। কিছুকাল পূর্বে তিনি হাদীস অধ্যাপনার পাশাপাশি দেওবন্দের নির্বাহী মুহতামীমের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। করোনাভাইরাসের কবল থেকে পৃথিবী মুক্তি পেলে তাঁর সুদক্ষ, সুচিন্তিত ও সুকৌশলী নেতৃত্বে দেওবন্দীধারার মাদরাসাগুলো আরও বহুদূর এগিয়ে যেতো।

হযরত মাওলানা ক্বারী উসমান মানসুরপুরী (রহ.)-এর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর সন্তান-সন্তুতি ও পরিবারবর্গকে শোক সইবার ও ধৈর্য্যধারণের তাওফিক দান করুন, আমীন।

 

অনুবাদঃ আব্দুর রহমান রাশেদ

গ্রন্থনাঃ আদিল মাহমুদ

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com