১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

আল্লামা মাসঊদের উপস্থিতিতে জামিআ ইকরার ফুযালা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

  • ‘মাদারে ইলমের সাথে তোমাদের সম্পর্ক যেন আজীবন অটুট থাকে’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর উপস্থিতিতে রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ফুযালা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কাকরাইল সার্কিট হাউজ মসজিদের খতীব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফের আহ্বানে এবং জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ফারেগানদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলন বুধবার (২ মার্চ) দিনব্যাপি ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ফারেগানদের উদ্যোগে আয়োজিত ফুজালা অনুষ্ঠানে তোমাদের সকলকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে বিশেষ শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। শত ব্যস্ততার মাঝেও তোমরা ফুজালা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছো, এটা জামিআ ইকরার প্রতি তোমাদের গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। অনেকটা ঈদের দিনের মতো। দীর্ঘদিন পর তোমাদেরকে আবারও সামনে থেকে দেখতে পেয়ে আমি অভিভুত, আপ্লুত। দোয়া করি, ভবিষ্যতেও যেন তোমরা একত্রে মিলিত হতে পারো। মাদারে ইলমের সাথে তোমাদের সম্পর্ক যেন আজীবন অটুট থাকে।

জীবনে চলার পথে দুটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, জীবনে চলার পথে দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

এক. নিজেকে গড়া। কারণ দাওয়াত বা হক কথা প্রচারের ক্ষেত্রে নিজেকে গড়ার বিকল্প নেই। নিজেকে গড়তে না পারলে মানুষ তোমার দাওয়াত গ্রহণ করবে না।
দুই. নিজেকে গড়ার পাশাপাশি সমাজকেও গড়তে হবে। আজ সারা পৃথিবী গুনাহের সাগরে নিমজ্জিত হয়ে আছে। আগের যুগে মানুষ গুনাহকে গুনাহ হিসেবে মনে করতো, কিন্তু আজ মানুষ গুনাহকে গুনাহ মনে করে না। আর গুনাহকে গুনাহ মনে না করা অন্তরের বিকৃতি সাধনের সমান।

যে কোনো কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রাখতে হবে জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, যে কোনো কাজ করো না কেন, সবার আগে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রাখতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য থাকলে যে কোনো ছোট কাজও আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেবেন। আর সন্তুষ্টি না থাকলে বড় কাজ হলেও আল্লাহর কাছে কোনো গ্রহনযোগ্যতা পাওয়া যাবে না। তাই নিয়তকে খালেস করার মশক করতে হবে। কারণ সহীহ আলেম হওয়ার জন্য কিতাবের সুহবত থেকেও আল্লাহওয়ালার সুহবত বেশি জরুরি। আর আখিরাতে ইখলাসের কারণেই মীযানের পাল্লা ভারী হবে।

হাদীসের সনদকে দুর্বল করতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিষ। যার সনদ নাই সে জ্ঞানী হতে পারে, কিন্ত সহীহ আলেম হতে পারে না। তোমাদের সামনে কেউ ইকরাকে কটাক্ষ করলে কখনো তা নীরবে সহ্য করবে না। সাহসীকতার সাথে তার মোকাবেলা করবে। ভদ্রতার সাথে বোঝানোর চেষ্টা করবে। কখনো নিজেকে দুর্বল ভাববে না।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বের সর্বত্রজুড়ে মুসলিমরা প্রচন্ডভাবে নিস্পেষিত ও পদপিষ্ট হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের এ করুণ অবস্থা দূরীকরণে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ‘এক হও, নেক হও’ এর শ্লোগানে যাত্রা করছে। একতাহীন অনৈক্য আর নেক না হওয়ার দরুন দুনিয়াভর মুসলমানদের এই নিপীড়িত অবস্থা। নেক হওয়ার উপর নির্ভর করে ব্যক্তির আখেরাতের নাজাত এবং এক হওয়ার উপরে নির্ভর করে তার পার্থিব সাফল্য।

জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফসহ ফুযালাদের উদ্দেশে আরও নসিবত পেশ করেন জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সাবেক মুহাদ্দিস ও আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদরাতুল উলুম মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মাদ আলী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সাবেক মুহাদ্দিস ও খুলনা মাদানী নগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা হুসাইনুল বান্না, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি সাইফুল ইসলাম, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি হামিদুল ইসলাম, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সাবেক মুহাদ্দিস ও বাইতুল উলুম ঢালকানগর মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা ইদ্রিস, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সাবেক মুহাদ্দিস মাওলানা আবুল কালাম প্রমুখ।

এছাড়াও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক এবং ১২ বছরের ফুযালাসহ অসংখ্য উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই নিজ নিজ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

ফুযালা সম্মেলন শেষে মাওলানা তামিমুল ইসলাম ফরীদীকে আহ্বায়ক, মাওলানা নুরুদ্দীন জামালীকে সদস্য সচিব, মাওলানা আরিফ বিল্লাহকে সমন্বয়ক করে ১২ সদস্য নিয়ে একটি ফুযালা কমিটি করেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com