৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

আল-আকসা মসজিদের পরিচালককে আটকের অভিযোগ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুসলিম ও ইহুদি, দুই ধর্মাবলম্বীর মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত আল-আকসা মসজিদ। অভিযোগ উঠেছে, মুসলিমদের প্রথম কেবলা আল-আকসা মসজিদের পরিচালক শেখ ওমর আল-কিসওয়ানিকে আটক করে ইসরায়েলের সেনারা। যদিও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-আকসা মসজিদের পরিচালক শেখ ওমর আল-কিসওয়ানির বাড়িতে অভিযান চালায় ইসরায়েলি পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ তার বাড়িতে তন্ন তন্ন করে নথিপত্র খুঁজতে থাকে। কিসওয়ানির ল্যাপটপ ও অন্যান্য নথিপত্র ‘জব্দ’ করে তারা।

অভিযানে সময় কিসওয়ানিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

শেখ ওমর আল-কিসওয়ানি সব সময় ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। কিছু দিন আগেও গোটা বিশ্বের মুসলমানকে আল-আকসা মসজিদ ঘিরে ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল।

সম্প্রতি পূর্ব জেরুজালেম থেকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য আল-আকসা মসজিদ থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মুসলিমদের জন্য তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান এটি। মসজিদ চত্বরটি মুসলিমদের কাছে হারাম-আল-শরীফ হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে, ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা আল-আকসা মসজিদ ও তার আশপাশের অংশকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন এবং তাদের জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থান।

১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ আল-আকসা মসজিদ ঘিরে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। ইসরায়েল এই যুদ্ধে জয়ী হয়। তারা গাজা ও সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয় যা ১৯৪৮ সাল থেকে মিশরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে, পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরও তারা দখল করে নেয় জর্ডানের কাছ থেকে।

যুদ্ধের আগ পর্যন্ত জর্ডানের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এর তত্ত্বাবধায়ক ছিল। এরপর ইসলামি ওয়াকফ ট্রাস্টের হাতে মসজিদের ভার প্রদান করা হয়। শুধু মুসলমানরাই আল-আকসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। তবে ইহুদিরা পশ্চিম দেওয়ালে প্রার্থনার জন্য অংশ নেন।

পুরো নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলিরা ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল, জর্ডান এবং মুসলিম ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা সম্মত হওয়া এই ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করেছে এবং আগ্রাসন চালাচ্ছে। অপরদিকে, সবার জন্য এই পবিত্র স্থানটি উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে ইসরায়েলিরা। এতেই শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব।

সূত্র: সংবাদ সংস্থা ওয়াফা, পার্সটুডে

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com