পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারত উপমহাদেশে আরবি রজবের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ পালন করা হয়। সীরাতের বইপুস্তুকেও ২৭ তারিখকেই মেরাজ রজনী বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। কিন্তু ইদানিং কিছু মানুষ থেকে এ ব্যাপারে কিছু সংশয়ের কথা শোনা যায়। বাস্তব বিষয়টি কি? আর, এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে কী এসেছে?
উত্তর : ইসরা ও মিরাজ সংঘটিত হয়েছে, এ বিষয়ে কুরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদীসগুলোতে বহু বর্ণনা এসেছে। কুরআন শরীফের সূরা বনী ইসরাঈলে ইরশাদ হয়েছে,
سُبۡحَٰنَ ٱلَّذِيٓ أَسۡرَىٰ بِعَبۡدِهِۦ لَيۡلٗا مِّنَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ إِلَى ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡأَقۡصَا ٱلَّذِي بَٰرَكۡنَا حَوۡلَهُۥ لِنُرِيَهُۥ مِنۡ ءَايَٰتِنَآۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ
‘পবিত্র ও মহান সে সত্ত্বা যিনি তাঁর বান্দাকে সফর করিয়েছেন রাতের একাংশে মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসার দিকে, যার চতুস্পার্শকে তিনি করেছেন বরকতময়। যাতে তিনি তাকে দেখাতে পারেন তাঁর নিদর্শনসমূহ। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।’ –সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত : ১
সূরা নাজমের ১৩ থেকে ১৮ নং আয়াতে এসেছে,
وَلَقَدۡ رَءَاهُ نَزۡلَةً أُخۡرَىٰ ١٣ عِندَ سِدۡرَةِ ٱلۡمُنتَهَىٰ ١٤ عِندَهَا جَنَّةُ ٱلۡمَأۡوَىٰٓ ١٥ إِذۡ يَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا يَغۡشَىٰ ١٦ مَا زَاغَ ٱلۡبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ ١٧ لَقَدۡ رَأَىٰ مِنۡ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ
‘নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে, যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল। তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি। নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।’ –সূরা নাজম, আয়াত : ১৩-১৮
তবে ঐতিহাসিক এই ঘটনাটি যে ২৭ শে রজব সংঘটিত হয়েছে, এ বিষয়টি কোন নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়। তা কেবল এমন একটি রেওয়ায়াতেই পাওয়া যায়, যার সনদ সহীহ নয়। নির্ভরযোগ্য সনদে শুধু এটুকু পাওয়া যায় যে, মিরাজ হিজরতের এক বা দেড় বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু কোন দিন, মাস বা তারিখে সংঘটিত হয়েছে এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কিছুই নেই।
তাই এই তারিখকে মেরাজ-রজনী হিসেবে ধরে নেওয়া যেমন ভুল তেমনি তা উদযাপন করাও ভুল। সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন কেউ কখনো মেরাজ রজনী উদযাপন করেছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। এটি একটি কুসংস্কার ও বিদআত। অতএব তা পরিত্যায্য। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد
‘যে কেউ আমাদের এ দ্বীনে নতুন কিছু আবিস্কার করবে যে এর মাঝে নেই, তা পরিত্যাজ্য।’ –সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৭১৮


