আসুন, ভয়কে করি জয়
মুহাম্মদ আইয়ূব ● করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গোটা বিশ্ব কাপছে। যার ভাইরাস ধরা পড়েছে তার কাছে কেউ আসতে চাচ্ছে না ভয়ে। যদি আমিও ধরা খেয়ে যায়। নিজে বাঁচলে বাপের নাম। যদি আমার মানসিকতা এমন হয় তাহলে আমার বিপদে কাউকে যে পাশে পাবন না এটা আমি নিশ্চিত ধরে নিতে পারি। কারণ যেমন কর্ম তেমন ফল বলে একটা কথা আছে না? ঘাবড়ানোর কিছু নেই বন্ধুরা! পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে আমাদের অটল ও অবিচল থাকতে হবে। পালিয়ে যাবেন কোথায়? সাস্থ্য সচেতন অবশ্যই থাকতে হবে এবং দরকার। তাই বলে পাশের জন আক্রান্ত হয়ে মেঝেতে কাতরাচ্ছে আর আমি সংক্রমণের ভয়ে গুটিসুটি মেরে বসে থাকব এটা তো কস্মিনকালেও মানবতা হতে পারে না। নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর জন্য যদি আক্রান্ত ব্যক্তির সেবা করি তাহলে আল্লাহ তাআলা এ উসিলায় উভয়কেই মুক্ত করতে পারে।
দেশে ও জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে বয়ানবাজি ছেড়ে দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত হয়ে যাই। জনসেবায় মন দিই। ‘নির্বাচিত না হয়েও জনতার সেবা করা যায়’- এ কথার সফল রূপ দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসে পড়েছে।
আল্লাহ পাকের কাছে এটা অসম্ভব কিছু নয়। হযরত আইয়ূব (আ.) ও বিবি রহিমার কথা কার অজানা? স্ত্রী, বাদী-দাসী, চাকর-নওকর সবাই তাকে ফেলে গিয়েছিল। লোকালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও বিবি রহিমা হযরত আইয়ূব (আ.)-এর খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করে দিলেন। বিনিময়ে আল্লাহর কাছ থেকে পেলেন অঢেল নেয়ামত। দেশে ও জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে বয়ানবাজি ছেড়ে দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত হয়ে যাই। জনসেবায় মন দিই। ‘নির্বাচিত না হয়েও জনতার সেবা করা যায়’- এ কথার সফল রূপ দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসে পড়েছে। কাল বিলম্ব না করে এখনই নিজেদের প্রস্তুত রাখি। নিচের ইউপি চেয়ারম্যানের মত আখের গোছাতে ব্যস্ত না হই। কেমন আখের? আসুন তাহলে জানি!
একটা স্থানীয় নির্বাচনে জিততে আমার দম শেষ।
এক কোটি টাকা যদি এই নির্বাচনে যায় তাহলে রাজার ইলেকশনের কি অবস্থা? ভাগ্যিস সরকারি দলে ছিলাম!
: কত বার মানা করছি রাজনীতি ফাজলামিনীতি করা দরকার নাই, বিদেশ করতা ঐইটাই ভাল ছিল।
: শুন, মহিলা মানুষের বুদ্ধি কম, জান?
: তারপরও তো মহিলার পিছনে ঘুরঘুর কর, মহিলা ছাড়া চলে না। দেশভরা পুরুষ থাকতে ও সব কাপুরুষের দল।
: শোন, আগে ছিলাম বিদেশী কামলা, ইজ্জত সম্মান কিছুই ছিল না। আর এখন হব ব্যবসায়ী, যাব শহরে তারপর বিদেশ! প্রমোশন আর প্রোমোশোন!!
: গ্রাম দেখব কে?
: আমার দলের নেতারা আছেনা?
: এজন্যই বলছিলাম ফাজলামীনিতী। দু’দিন আগেও তো গ্রামের সরল সোজা লোকদেরকে বলছ সবসময় তাদের পাশে থাকবা আর এখন কি বলছ?
: শোন রমিজা! পলিটিক্স কি জিনিস এটা তোমার বোঝার ক্ষমতা হয় নাই। কথা কম, দেখ বেশি।
: আল্লাহই জানে কত আকাম, কুকাম দেখতে হয় এই পাঁচ বছরে!
: সেটাপ! মুখ সামলাইয়া কথা বল।
: ও আপনি তো আমাদের চেয়ারম্যান, সরি।
: অবন্তীর আব্বু একটা কথা
বলি?
: একটা না হাজারটা বল, আজ আমার মনটা ভীষণ হ্যাপী।
: দেখতে দেখতে তো তিন বছর হয়ে গেল কিন্তু আমাদের কালিয়াকান্দীর ব্রিজটা তো করে দিলে না অথচ নির্বাচনের সময় সবার আগে এটার ওয়াদাই করছিলা?
: তোমার কি মাথা নষ্ট! দেখনা সামনে আরো দুই বছর আছে, তখন করব।
: তিন বছরে যেটা হয় নাই দুই বছরে কিভাবে হবে?
: সেটা বুঝব আমি তোমার অত পটপট দরকার নাই। চেয়ারম্যানের বউ ও দেখছি চেয়ারম্যান! অতগুলো টাকা ঢালছি জিততে তা কে উঠাবে, আমার শশুর? দল ও জনগণ উভয় জাগার আস্থা হারাইছি যে করেই হোক লাভ সহ আমার টাকা উঠাইতে হবে। এটাই এখন আমার রাজনীতি। চুপচাপ ঘুমাইতে যাও।
প্রিয় পাঠক! ব্যক্তি হিসেবে যে আমি খুব খারাপ তা কিন্তু না, কিছু কিছু ভালো তো ছিলামই। তবে এই মাঠে এসে সব শেষ। আমার কাছে আমি চোর, ডাকাত,লম্পট, গুন্ডা, মদখোর, ঠকবাজ, প্রতারক। রাজনীতির মত পবিত্র জিনিস আমাদের মত লোকেরাই নষ্ট করেছে। এর বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু কে করবে বিচার? আমার বিচার আমার বউই পারবে ভালো। তাই আমার উচিত তাকে একদিন সুযোগ দেওয়া।
: রমিজা! এক কাপ চা খাওয়াবে?
: জ্বি, চেয়ারম্যান সাব।
এই নিন চা।
: তুমি থেকে আপনি?
: চেয়ারম্যান বলে কথা!
: আজ থেকে ভাবছি তোমার সাথে আর খারাপ ব্যবহার করব না।
: চেয়ারম্যান সাবরা কি আর খারপ ব্যবহার করে, কি মিষ্টি মিষ্টি উনাদের কথা, কিউট চেহারা!
: নির্বাচনের সময় রমিজা! হা! হা!! হা!!!
: হা! হা!! হা!!!
উরে মা পেট ফেটে গেল। কতদিন পর চেয়ারম্যান সাব একটা সত্য কথা বলল!
আচ্ছা তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
: এখন তোমাকে তোমার কাছে কি মনে হয়?
: চোর মনে হয়!
: হা হা হা!!!
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


