ইতালিতে করোনার হালচাল । পলাশ রহমান
মানুষকে ঘরে রাখা যে কতো কষ্টের কাজ তা গত এক মাসে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ইতালির প্রশাসন। জনগণও বুঝতে পেরেছে ঘরে থাকা কতো অসম্ভব ব্যাপার। হাতে পায়ে খিল লেগে যায়, কিন্তু খিল ছাড়ানোর উপায় নেই। ঘরের বাইরে গেলেই জেল জরিমানার ভয়। তার চেয়ে বড় ভয় মরণ ভাইরাস করোনার সংক্রমণ।
সরকার, প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে মানুষকে ঘরে রাখতে। জনগণও সাধ্যমতো চেষ্টা করছে নিয়ম নীতির মধ্যে থাকতে। যৌথ চেষ্টার ফল আসতে শুরু করেছে। ইতালিতে নতুন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কমতে শুরু করেছে। জনমনে স্বস্তির বাতাস লাগতে শুরু করেছে।
ইতালি সরকার জনগণের সুবিধার জন্য নানা প্রকারের আর্থিক সহযোগিতা ঘোষণা করেছে। এসব সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে একদম গোড়া থেকে। যারা নিয়মিত চাকরি করতেন তারা ঘরে বসে পাবেন বেতনের ৮০ শতাংশ। যারা ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী তারা মাসের শেষে পাবেন ৬শ ইউরো। যাদের কিছুই নেয়, হতদরিদ্র তাদের জন্য ‘বুয়নি স্পেজা’ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩শ ইউরোর টিকেট নিয়ে যে কোনো মার্কেট থেকে তারা খাদ্যসামগ্রি কিনতে পারবে। এ ছাড়া বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা তো আছেই।
ব্যাংক লোনের কিস্তি, বাড়ি ভাড়া, বিভিন্ন বিল স্থগিত করে রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। যারা পেনশনে আছেন, যারা পরিবার বা শিশু ভাতা পান তারাসহ যারা যেভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে থাকেন তাদের সবকিছু আগের মতোই চালু আছে। ফার্মেসিগুলো থেকে স্থানীয় সরকার বা পৌরসভার মাস্ক ফ্রি দেয়া হচ্ছে। কোনো কোনো পৌরসভা থেকে জনগণের বাড়ি বাড়ি মাস্ক পৌঁছে দেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো অসুস্থ মানুষের খবর পেলে স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রায় ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গিয়েছেন। সেবা দিয়ে সুস্থ করে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। যাদের সুস্থ করতে পারেনি তাদের জন্য অঝোরে চোখের পানি ফেলেছেন।
ইতালি যখন দেশজুড়ে হোম কোয়ারেন্টিন ঘোষণা করেছিল তখন অনেকেই দাঁত কেলিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসেছিল। এদের মধ্যে সবথেকে বেশি মজা মশকারা করেছিল স্পেন এবং বৃটেন। স্পেন নাচানাচি করে বলেছিল ইতালীয়রা নির্বোধ। বৃটেন বলেছিল মাথামোটা। ফ্রান্স ইতালিকে হেয় করতে ‘করোনা পিজা’ বের করেছিল। আজ তারা কেউ ভালো নেই। চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে। তারাও বলতে শুরু করেছে বাঁচতে হলে ইতালিকে ফলো করতে হবে।
সবার জন্য শুভ কামনা থাকলো।
ইতালী থেকে


