পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনা মহামারীর ঝুঁকি এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের নিরাপত্তা হুমকি মাথায় নিয়েই ক্যাথলিক খৃষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদধারী পোপ ফ্রান্সিস এক রাষ্ট্রীয় সফরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পৌঁছেছেন।
শুক্রবার আলইটালিয়ার একটি উড়োজাহাজ পোপ ফ্রান্সিসকে নিয়ে বাগদাদ পৌঁছায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাধিমি বিমানবন্দরে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানান। জমকালো অভ্যার্থনার পর পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘‘এটি একটি প্রতীকী ভ্রমণ এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে রক্ত ঝরা ভূমির প্রতি এটি একটি কর্তব্য পালন।”
এই প্রথম কোন পোপ মুসলিম প্রধান দেশ ইরাক সফরে গেলেন। এছাড়া, কোভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর এটা পোপ ফ্রান্সিসের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর।
এর আগে এই সফর বাতিলের সম্ভাবনা দেখা দিলে পোপ ফ্রান্সিস মন্তব্য করেছিলেন, ইরাকের খ্রিস্টানদের ‘দ্বিতীয়বারের মত হতাশ হতে দেওয়া যাবে না’। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন পোপ জন পল (দ্বিতীয়) এর ইরাক সফরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময়ে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন সরকারের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ঐ সফর বাতিল হয়ে যায়।
গত দুই দশক ধরে ইরাকে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সাদ্দামের শাসনাধীন ইরাকে প্রায় ১৪ লাখ খ্রিস্টান বাসবাস করত। যে সংখ্যা কমে এখন মাত্র আড়াই লাখে দাঁড়িয়েছে।
সাদ্দামকে উৎখাত করতে ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযান শুরু হলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশত্যাগ করে।
এছাড়া, ২০১৪ সালে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর অনেক খ্রিস্টান গৃহহীন হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
ইরাকের শীর্ষ শিয়া মুসলমান আলেমের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি পোপ দেশটির উত্তরের ইরবিলের একটি স্টেডিয়ামে ‘ম্যাসে’ অংশ নেবেন।
পোপ ফ্রান্সিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে ২৪ ঘণ্টা কারফিউ জারি করা হয়েছে।


