৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

ইভিএমসহ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইভিএমসহ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিরোধী দলের কর্মসূচিতে হামলা নিয়ে গতকাল সংসদে সমালোচনা ও ক্ষোভ জানায় বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বিএনপির কর্মসূচি ঠেকাতে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। হামলা-মামলা করছে। আবার ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র করছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে বিএনপি পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘গত নভেম্বরে আমার নির্বাচনী এলাকায় ইভিএমে যে পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে সেখানে ভোট ডাকাতি হয়েছে। যদি নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করতে পারে যে ডাকাতি হয়নি তাহলে যে জরিমানা করবে তা আমি দেব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য সত্যিই চক্রান্ত হচ্ছে কি না তা তদন্তের দাবি জানান হারুনুর রশিদ। গত বুধবার সরকারি দলের সংসদ সদস্য সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত হচ্ছে।

অর্থের বিনিময়ে সরকারি দলের লোকজনও এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত। আবুল কালাম আজাদের ওই বক্তব্য উদ্ধৃত করে হারুন বলেন, ‘আমি নিজ কানে শুনেছি সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে এই বক্তব্য দিয়েছেন। এটা খুবই উদ্বেগের। আমি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য চাই।’ তিনি বলেন, এটি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আসলেই এ ধরনের চক্রান্ত হচ্ছে কি না, কারা এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত তা বের করতে গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার।

হারুন আরো বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন এক বক্তব্যে বলেছেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে নাকি তাঁর বাবা তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করতে যে ওই দিন হামলা হতে পারে। এসব তথ্য আসলে কী? বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে হারুন বলেন, যারা গুম হয়েছে, তারা কি আইনের আশ্রয় পাবে না? যারা আন্দোলন-সংগ্রামে গুলিতে মারা যাচ্ছে তা এক জিনিস, আর গুম সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। সরকারি দল বলছে, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশকে পানিতে মারছে। তারা এ দেশের বন্দর ব্যবহার করছে। কিন্তু বাংলাদেশকে ট্রানজিট দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন। বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়েছে ভারতের আনুগত্যের জন্য নয়, এটা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের আচরণ আরেক রকম। প্রধানমন্ত্রী এক ধরনের আশ্বাস দিচ্ছেন, আর যুবলীগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা বিরোধী দলের সঙ্গে অন্যরকম আচরণ করছে।

বিএনপির কর্মসূচি ঠেকাতে আওয়ামী লীগ কেন মাঠে নামছে, এমন প্রশ্ন রেখে রুমিন বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে নাশকতা ঠেকাতে তারা মাঠে আছে। নাশকতা ঠেকানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে হলে পুলিশ প্রশাসন পুষে লাভ কী? তিনি বলেন, ‘সরকার দাবি করে দেশে গণতন্ত্র আছে। আমি যদি তর্কের খাতিরে ধরেই নিই দেশে গণতন্ত্র আছে। তাহলে প্রশ্ন করি, এত ভয় কেন? বিরোধী দল বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করছে, মিছিল করছে। সেটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেটুকু সহ্য করার সাহস ও মুরোদ যদি না থাকে রাজনীতি ছেড়ে দেন। পুলিশ প্রশাসন দিয়ে আর কয়দিন রাজনীতি করবেন? বিরোধী দলকে দমন করে আর কয়দিন রাজনীতি করবেন?’ বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকার যদি মনে করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের কায়দায় খেলা হবে অন্ধকারে কিংবা খেলা হবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাহলে ভুল করবে।

ভোলায় বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির দুজনের মৃত্যুর কথা তুলে ধরে রুমিন বলেন, সেই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত হয়নি। কিন্তু বরগুনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ছাত্রলীগের গায়ে পুলিশের লাঠির বাড়ি পড়ার আগেই পুলিশ বদলি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বিএনপির কর্মসূচিতে ৭০টির বেশি জায়গায় হামলা হয়েছে।

রুমিনের বক্তব্যের জবাব দেন সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য ও ভোলা-১ আসনের তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, তিনি সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান না। কিন্তু তাঁর জন্মস্থান ভোলা। প্রকৃত ঘটনা অনেকে জানেন না। সেদিন মিছিল শুরুর আগেই বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ছুড়ে পুলিশকে আক্রমণ করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেদিন মাঠেই নামেনি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ভোলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাড়িঘরেই থাকতে পারেননি।

তোফায়েল বলেন, তিনি রুমিন ফারহানাকে স্নেহ করেন। কিন্তু রুমিন এমনভাবে কথা বলেন যেন তিনি ঝগড়া করতে এসেছেন। একতরফা বক্তব্য দেওয়া ভালো না। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন শান্ত মেজাজে কথা বলেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com