ইলমে ওয়াহি সব জ্ঞানের ঊর্ধ্বে : ইকরা খতমে বুখারিতে আল্লামা মাসঊদ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সব জ্ঞানের ঊর্ধ্বে ইলমে ওয়াহির অবস্থান উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, যুক্তি মানুষের জ্ঞানের অধীন। তার পরিবেশ, তার আঞ্চলিকতার অধীনেই যুক্তির বসবাস। মানুষ যখন তার জ্ঞানের আলোকে কর্মক্ষমতায় অপারগতা প্রকাশ করে যুক্তি তখন মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে অহী সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। যুক্তি দিয়ে, বিজ্ঞান দিয়ে অহীর পরিমাপ হয় না। বিজ্ঞান অহীর সহায়ক। বিজ্ঞানকে ইসলামের সহায়ক করা হয়েছে। শত্রু নয়। যতক্ষণ না তা সীমা ছড়িয়ে যায়। কারণ বিজ্ঞানকে অবশেষে ইসলামের কাছেই আসতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ইসলাম বিজ্ঞানের অধীনে নয়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২০) রাজধানীর খিলগাঁও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ১০ম বর্ষপূর্তি, চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীসের (মাস্টার্স) সমাপনী- খতমে বুখারি, ফারেগীনদের পাগড়ি প্রদান ও অভিভাবকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে বুখারির শেষ দারসে এসব কথা বলেন তিনি।
পবিত্র বুখারি শরীফের শেষ হাদিসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আজীম’ এ দুটি কথা আল্লাহ তায়ালার সুন্দরতম সকল গুণের একসাথে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা করে। এ কথা দুটি ফেশেতাদের খাবার। আমাদেরকে সব সময় আল্লাহর প্রশংসা, তার যিকিরে মশগুল থাকতে হবে।
জামায়াত-শিবিরকে ইসলামের দুশমন অভিহিত করে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, জামায়াত ইসলামের দুশমন, কুরআনের দুশমন, হাদিসের দুশমন, আওলিয়ায়ে কেরামের দুশমন। তারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করে। যেখানে স্বয়ং রাসূল সা. সাহাবায়ে কেরামকে হেদায়েতের মাপকাঠি সাব্যস্ত করেছেন। জামায়াত সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। ইসলাম তাদের সমর্থন করে না।
এছাড়াও করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে দুআর প্রতি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত হবেন না। এটা আল্লাহর আযাব। আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। বাঁচার উপায় থাকলে সে একটাই আছে, তা হল আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা। আর আশ্রয় গ্রহণের মাধ্যম একটাই; দুআ। তাই বেশী বেশী দুআ করতে হবে আমাদেরকে। শরণাপন্ন হতে হবে একমাত্র আল্লাহর।
এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কাকরাইল সার্কিট হাউজ মসজিদের খতিব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ। সমাপনী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী অভিব্যক্তি পেশ করেন মাওলানা যায়নুল আবেদীন। এছাড়াও শাঈখে জামিআ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে সমাপনী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের দুয়ার মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান শেষ হয়।
জামিআ ইকরার ১০ম বর্ষপূর্তিতে চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীসের (মাস্টার্স) সমাপনী বা খতমে বুখারির এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা নুরুদ্দীন লাহোরী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী, বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল্লাহ কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি জেনারেল ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের মুহতামিম (উন্নয়ন ও প্রশাসন) মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, জামিআ ইকরার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা হোসাইনুল বান্না, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান, মুফতী সাইফুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা মুহাম্মাদ উল্লাহ, মুফতী রিয়াজুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মুফতী আব্দুস সালামপ্রমুখ।


