২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

ইসতেগফারের উপকারিতা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসতেগফার হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের শেখার জন্য প্রতিদিন ৭০/১০০ বার ইসতেগফার করতেন। রাসুলুল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন ৭০ বারেরও বেশি ইসতেগফার করি (আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) এবং তাওবাহ করি।’(বুখারি)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসতেগফার ছিল মূলত আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী বান্দা হওয়া। ইসতেগফারই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের একটি সেরা মাধ্যম। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থাৎ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলতেন-

أَفَلَا أَكُوْنَ عَبْدًا شَكُوْرًا

আমি কি তাঁর (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী বান্দা হবো না?’(বুখারি)

ইসতেগফারের ১৭ টি উপকারিতা। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ইসতেগফারের অনেক উপকারিতা রয়েছে। তন্মধ্যে ১৭টি বিশেষ উপকারিতার কথা তুলে ধরা হলো-

১. ইসতেগফার করলে মহান আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
২. বেশি ইসতেগফার করলে আসমান থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাতে বাগান ও জমিনে ভালো ফসল ফলে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদী-নালা থাকে জীবন্ত।
৩. ইসতেগফারকারীকে আল্লাহ উত্তম সন্তান, সম্পদ ও জীবিকার দ্বারা সম্মানিত করেন।
৪. ইসতেগফারে দ্বীন পালন সহজ হয় এবং কর্মজীবন হয় সুখের।
৫. আল্লাহ ও বান্দার মাঝে দূরত্ব কমে যায়, একান্ত নৈকট্য অর্জিত হয়।
৬. ইসতেগফারে দুনিয়ার প্রাধান্য কমে যায়।
৭. ইসতেগফারের বরকতে মানুষ ও জীন শয়তান থেকে মানুষ হেফাজত থাকে।
৮. বেশি বেশি ইসতেগফারকারী দ্বীনি ও ঈমানি স্বাদ পায়।
৯. ইসতেগফারে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়।
১০. ইসতেগফারের বিচক্ষণতা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
১১. ইসতেগফারে দুঃশ্চিন্তা, পেরেশানি দূর হয়ে যায়।
১২. ইসতেগফারে অভাব ও বেকারত্ব দূর হয়ে যায়।
১৩. ইসতেগফার করলে মহান আল্লাহ আনন্দিত হন।
১৪. ইসতেগফারকারীর মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা তার জন্য সুসংবাদ নিয়ে আসে। আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণও তাদের জন্য দোয়া করেন।
১৫. ইসতেগফারকারী হাশরের ময়দানের কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে।
১৬. কেয়ামতের দিন মানুষ যখন অস্থির থাকবে, ইসতেগফারকারী তখন ডানপন্থী মুত্তাকিদের দলে থাকবে।
১৭. ইসতেগফার মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রতিদিন বেশি বেশি ইসতগেফার করা। দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় নেয়ামতে পেতে সব সময় ইসতেগফার করা। আল্লাহর একান্ত অনুগত ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী বান্দা হওয়ার জন্য বেশি বেশি ইসতেগফার করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নায় ঘোষিত ফজিলত ও উপকারিতা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। ইসতেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও দুনিয়া-পরকালের সফলতা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com