১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মঃ বিশ্বাসের নিক্তিতে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম

  • ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের বিশ্বাসে হযরত ঈসা (আ.)
  • বিশ্বাসের দ্বন্দ্বঃ খ্রিষ্টানদেরকে মুবাহালার আহবান
  • পাপমোচন আকীদা ও খ্রিষ্টধর্ম মতে হযরত ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু
  • কী ঘটেছিলো সেদিন?
  • ঈসা (আ.)-এর অবতরণ ও কার্যাবলী
  • আমরা যে বিশ্বাস ধারণ করবো

প্রথম পর্ব : হযরত ঈসা আলাইহিস সালামঃ আমাদের নবী

ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের বিশ্বাসে হযরত ঈসা (আ.)

আল্লাহর নবী হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীদের মাঝে মৌলিকভাবে পার্থক্য হচ্ছে বিশ্বাসে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা হযরত ঈসা (আ.)-কে ঐশ্বরিক গুণসম্পন্ন সত্তা ও উপাসনার যোগ্য মনে করে, যা ইসলাম কখনও স্বীকার করে না। মুসলমানগন হযরত ঈসা (আ.)-কে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একজন সম্মানিত নবী ও বান্দা হিসেবে বিশ্বাস করেন।

প্রাচীন খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন দল উপদল এ বিভক্ত ছিল। একদল মনে করত, আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে হযরত ঈসা (আ.)-এর রূপ নিয়ে আগমন করেছিলেন, সুতরাং স্বয়ং ঈসাই ছিলেন আল্লাহ।

একদল হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতো। আরেক দলের আকীদা ছিল, হযরত ঈসা (আ.) হলেন তিন খোদার এক খোদা। অর্থাৎ খোদা মোট তিনজন, আল্লাহ তাআলা, মারইয়াম ও হযরত ঈসা (আ.) মতান্তরে আল্লাহ তাআলা, হযরত ঈসা (আ.) এবং রুহ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা তাদের এই ভ্রান্ত বিশ্বাসগুলোকে সুস্পষ্টভাবে অপনোদন করেছেন। আল্লাহ বলেন –

“তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেন, হে বনী ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন, আর তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই। নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে যে, আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে, তাদের উপর যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পতিত হবে।”

– সূরা মায়েদাঃ ৭২

“ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।”

– সূরা তাওবাঃ ৩০

খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীগণ কেবল যে হযরত মারইয়াম ও ঈসা (আ.)-কে ভক্তির আতিশায্যে বান্দা ও নবীর স্থান থেকে তুলে খোদার আসনে বসিয়ে দিয়েছেন তা-ই না, অধিকিন্তু তারা দাবি করেন, স্বয়ং হযরত ঈসা (আ.) তাদেরকে এই তিন খোদার ইবাদত করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। অথচ কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা (আ.)-কে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন আর হযরত ঈসা (আ.) তাদের দাবির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিবেন। পবিত্র কুরআনে বিষয়টি এভাবে বর্ণিত হয়েছে –

“স্মরণ করুন যখন আল্লাহ বলবেন, হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! আপনি কি লোকদেরকে বলেছিলেন যে, আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা আমাকে ও আমার মাতাকে দুই উপাস্যরূপে গ্রহণ কর?

ঈসা বলবেন, আপনিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভনীয় নয়। আমি যদি তা বলতাম, তবে আপনি তো তা জানতেন। আপনি আমার মনের কথা জানেন, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।

আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর যিনি আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম, ততোদিন আমি তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের কার্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং আপনিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী।”

– সূরা মায়েদাঃ ১১৭-১১৮

এমনিভাবে খ্রিষ্টানদের একটি দল খ্রিষ্টান পুরোহিতদের ব্যাপারেও অতিরঞ্জন করেছে। তাদেরকে নিষ্পাপ বলেছে এবং কোনো জিনিসকে হারাম বা হালাল ঘোষণা করার পূর্ণ এখতিয়ার পুরোহিতদের প্রদান করেছে। অথচ এ বিষয়ে পরিপূর্ণ অধিকার একমাত্র আল্লাহর। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন –

“তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, এ থেকে তিনি পবিত্র।”

– সূরা তাওবাহঃ ৩১

বিশ্বাসের দ্বন্দ্বঃ খ্রিষ্টানদেরকে মুবাহালার আহবান

খ্রিষ্টানদের এসব বিশ্বাস যে তাদের মনগড়া ছিলো, এটা তাদের কৃতকর্মের দ্বারাই প্রমাণিত হয়ে যায়।

৯ম হিজরীতে নাজরান থেকে খ্রিষ্টানদের একটি প্রতিনিধিদল নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে এসে ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে তারা যেসব অতিরঞ্জনমূলক আকীদা রাখত, সেসব নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আয়াত নাযিল হয় –

“যা তোমার পালকর্তা বলেন তাই হচ্ছে যথার্থ সত্য। কাজেই তোমরা সংশয়বাদী হয়ো না।

অতঃপর তোমার নিকট সত্য সংবাদ এসে যাওয়ার পর যদি এই কাহিনী সম্পর্কে তোমার সাথে কেউ বিবাদ করে, তাহলে বল–এসো, আমরা ডেকে নেই আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের এবং আমাদের স্ত্রীদের ও তোমাদের স্ত্রীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের, আর তারপর চল আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি যারা মিথ্যাবাদী।”

– সূরা আলে ইমরানঃ ৬০-৬১

এই আয়াতটিকে মুবাহালার আয়াত বলা হয়। ‘মুবাহালা’ অর্থ হলো, দুই পক্ষের একে অপরের প্রতি অভিসম্পাত করা। অর্থাৎ, দুই পক্ষের মধ্যে কোন বিষয়ের সত্য ও মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে তর্ক-বিতর্ক হলে এবং দলীলাদির ভিত্তিতে মীমাংসা না হলে, তারা সকলে মিলে আল্লাহর কাছে এই বলে দুআ করবে যে, ‘হে আল্লাহ! আমাদের উভয়ের মধ্যে যে মিথ্যাবাদী, তার উপর তোমার অভিশাপ বর্ষিত হোক!’

মুবাহালার আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাজরানের খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলকে মুবাহালার আহবান জানান। তিনি নিজে হযরত আলী, ফাতিমা এবং হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে সাথে নিয়ে মুবাহালার জন্য প্রস্তুত হয়ে আসেন এবং খ্রিষ্টানদেরকেও বলেন যে, তোমরা তোমাদের পরিবারের লোকদের সাথে নিয়ে এসো। তারপর আমরা মিথ্যাবাদীর উপর অভিশাপ বর্ষণের বদদুআ করব। খ্রিষ্টানরা নিজেদের মাঝে পরামর্শ করে মুবাহালা করার পথ ত্যাগ করে বলল যে, আপনি আমাদের কাছে যা চাইবেন, আমরা তাই দিব। অতঃপর রাসূল (সা.) তাদের উপর জিযিয়া-কর ধার্য করে দেন।

এর দ্বারা বুঝা গেল তৎকালীন খ্রিষ্টান পন্ডিতদের কাছেও নিজেদের এই সংশয়পূর্ণ বিশ্বাসের উপর অকাট্য কোন দলিল ছিলনা। কল্পনার অনুসরণ ব্যতীত এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা তাদের সহ সকল আহলে-কিতাবকে একটি অভিন্ন বিশ্বাসে একত্রিত হওয়ার আহবান করছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন –

“বলুন, হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।”

– সূরা আলে ইমরানঃ ৬৪

এই আয়াতে তিনটি মৌলিক বিষয় উল্লিখিত হয়েছে :-

  • কেবলমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করা
  • তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা
  • কাউকে শরীয়তী বিধান প্রণয়নের ইলাহী মর্যাদা না দেওয়া
    – এসবই সেই ‘অভিন্ন বাক্য’ যার উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতি আহলে-কিতাবদেরকে আহবান জানানো হয়েছে।

প্রাচীন খ্রিষ্টানদের মধ্যে একটি দল ছিল, যারা হযরত ঈসা (আ.)-এর পরিপূর্ণ অনুসারী ছিল। তারা ইঞ্জিলকে সংরক্ষণ করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী জীবন গঠন করেছিলেন। তবে সংখ্যায় এরা ছিলেন খুবই নগণ্য। পরবর্তীতে তাঁরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান এনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

পাপমোচন আকীদা ও খ্রিষ্টমতে হযরত ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু

ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের আরেকটি মৌলিক বিশ্বাসগত মতপার্থক্য হলো ‘পাপমোচন বিশ্বাস। এ বিশ্বাসটি খ্রিষ্টধর্মের প্রাণ হিসেবে স্বীকৃত। এ বিশ্বাসের সারকথা হলো, আল্লাহ তাআলা স্বীয় পুত্র যিশুখৃষ্টকে মানবাকৃতি দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। অতঃপর তাকে শূলে চড়িয়ে মৃত্যুর মাধ্যমে মানব জাতির আদিপাপ ও আদিপাপের কারণে আরো যত পাপ তারা করেছিল, সব মাফ করার ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং হযরত ঈসা (আ.) তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা সে যুগের ও পরবর্তী যুগের সকল খৃষ্টানের পাপের বোঝা নিজ কাঁধে নিয়ে প্রায়ঃশ্চিত্ত স্বরূপ শূলে বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

কিন্তু মুসলমানগণ বিশ্বাস করেন, একজনের পাপ অন্য কেউ বহন করতে পারে না এবং আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা (আ.)-কে জীবিত অবস্থায় দ্বিতীয় আসমানে নিয়ে গেছেন। কেয়ামতের আগ মুহূর্তে তিনি আবার দুনিয়াতে অবতীর্ণ হবেন এবং স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবেন।

আল্লাহ তাআলা খ্রিষ্টানদের এই ভ্রান্ত আকীদাকে কঠিনভাবে অপনোদন করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে –

“আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না।

আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর আহলে-কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে।”

– সূরা নিসাঃ ১৫৭-১৫৯

কী ঘটেছিলো সেদিন?

পূর্ণ ঘটনা এই যে, যখন আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা (আ.)-কে নবীরূপে প্রেরণ করেন এবং তাঁকে বড় বড় মুজিযা প্রদান করেন, যেমন জন্মান্ধকে চক্ষুদান করা, শ্বেতকুষ্ঠ রোগীকে ভাল করে দেয়া, মৃতকে জীবিত করা, মাটি দ্বারা পাখি তৈরী করে এর ভিতর ফুঁ দিয়ে জীবন্ত করে উড়িয়ে দেয়া ইত্যাদি। তখন ইয়াহুদীরা অত্যন্ত কুণ্ঠিত হয়। তারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণে উঠে পড়ে লেগে যায় এবং সর্ব প্রকারের কষ্ট দিতে আরম্ভ করে। তারা তাঁর জীবন দুর্বিষহ করে তুলে। কোনো গ্রামে টানা কয়েকদিন নিরাপদে অবস্থানও তাঁর ভাগ্যে জুটেনি। সারা জীবন তিনি মায়ের সঙ্গে জঙ্গলে ও প্রান্তরে ভ্রমণের অবস্থায় কাটিয়ে দেন। সে অবস্থাতেও তিনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেননি।

সে যুগে দামেস্কের বাদশাহর নিকট তিনি গমন করেন। সে বাদশাহ ছিল তারকা পূজারী। সে সময় ধরণের লোকদের ‘ইউনান’ বলা হতো। ইয়াহুদীরা এখানে এসে হযরত ঈসা (আঃ)-এর বিরুদ্ধে বাদশাহকে উত্তেজিত করে। তারা বলে, এ লোকটি বড়ই বিবাদী। সে জনগণকে বিপথে চালিত করছে। প্রত্যহ নতুন নতুন গণ্ডগোল সৃষ্টি করছে ও শান্তি ভঙ্গ করছে। সে জনগণের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন প্রজ্জ্বলিত করছে। বাদশাহ বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থানরত স্বীয় শাসনকর্তার নিকট নির্দেশনামা প্রেরণ করে যে, সে যেন হযরত ঈসা (আঃ)-কে গ্রেফতার করতঃ শূলে চড়িয়ে দেয় এবং তাঁর মাথায় কাটার মুকুট পরিয়ে দেয়। এভাবে জনগণকে যেন এ বিপদ থেকে রক্ষা করে।

বাদশাহর এ নির্দেশনামা পাঠ করে ঐ শাসনকর্তা ইয়াহূদীদের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐ ঘরটি অবরোধ করে যেখানে হযরত ঈসা (আঃ) অবস্থান করছিলেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে বারোজন বা তেরোজন মতান্তরে সর্বোচ্চ সতেরোজন সাথী ছিলেন।

শুক্রবার আসরের পর তারা ঐ ঘরটি অবরোধ করে এবং শনিবারের রাত পর্যন্ত অবরোধ স্থায়ী থাকে। যখন হযরত ঈসা (আ.) অনুভব করেন যে, এখন তারা জোর করে ঘরে প্রবেশ করতঃ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে, না হয় তাকেই বাইরে যেতে হবে। তাই তিনি স্বীয় সহচরদেরকে বলেন, “তোমাদের মধ্যে কে এটা পছন্দ করবে যে, তার উপর আমার সদৃশ আনয়ন করা হবে (অর্থাৎ তাঁর আকার আমার আকারের মত হয়ে যাবে) অতঃপর সে তাদের হাতে গ্রেফতার হবে এবং আল্লাহ পাক আমাকে মুক্তি দেবেন? আমি তাঁর জন্যে জান্নাতের জামিন হচ্ছি।”

এ কথা শুনে এক তরুণ দাঁড়িয়ে গিয়ে বললেন, আমি এতে সম্মত আছি।

কিন্তু হযরত ঈসা (আ.) তাঁকে এর যোগ্য মনে না করে দ্বিতীয়বার এবং তৃতীয়বারও একথাই বলেন। কিন্তু প্রত্যেকবার সেই তিনিই রাজি হয়ে যান। তখন হযরত ঈসা (আ.) তাকে মেনে নেন এবং দেখতে না দেখতেই আল্লাহ তা’আলার হুকুমে তার আকার পরিবর্তিত হয়, আর মনে হয় যে, তিনিই হযরত ঈসা (আ.)।

সে সময় ছাদের এক দিকে একটি ছিদ্র প্রকাশিত হয় এবং হযরত ঈসা (আ.) তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। ঐ অবস্থাতেই তাঁকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়। হযরত ঈসা (আ.) কে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার পর তাঁর সাথীরা ঘর হতে বেরিয়ে আসেন।

যে মহান সাথীকে হযরত ঈসা (আ.) এর আকারবিশিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল, তাঁকেই ইয়াহূদীদের দলটি হযরত ঈসা (আ.) মনে করে ধরে নিয়ে যায় এবং রাতারাতিই তাঁকে শূলের উপর চড়িয়ে তাঁর মাথার উপর কাঁটার মুকুট পরিয়ে দেয়। তখন ইয়াহূদীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে যে, তারা হযরত ঈসা (আ.)-কে হত্যা করে ফেলেছে। শুধুমাত্র যারা হযরত ঈসা (আ.)-এর সঙ্গে ঐ ঘরে উপস্থিত ছিলেন এবং যারা নিশ্চিতরূপে জানতেন যে, তাঁকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, আর ইনি হচ্ছেন অমুক ব্যক্তি যিনি তাঁর স্থানে শহীদ হয়েছেন, তাঁরা ছাড়া অবশিষ্ট সমস্ত খ্রীষ্টানরাই ইয়াহূদীদের মতো আলাপ আলোচনা করতে থাকে। এমন কি তারা একথাও বানিয়ে নেয় যে, হযরত ঈসা (আ.) এর মাতা হযরত মারইয়াম শূলের নীচে বসে ক্রন্দন করছিলেন। তারা একথাও বলে যে, হযরত মারইয়াম সে সময় স্বীয় পুত্রের সঙ্গে কিছু কথাবার্তাও বলেছিলেন। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাঁর বান্দাদের উপর পরীক্ষা যা তাঁর পূর্ণ নৈপুণ্যের পরিচায়ক। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ অপপ্রচারকে প্রকাশ করে দিয়ে প্রকৃত অবস্থা সম্বন্ধে স্বীয় বান্দাদেরকে অবহিত করেন এবং স্বীয় সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে তাঁর পবিত্র ও সত্য কালামে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রকৃতপক্ষে হযরত ঈসা (আ.)-কে না কেউ হত্যা করেছে, আর না তাঁকে শূলে চড়িয়েছে। বরং যে ব্যক্তির আকার তাঁরই আকারের ন্যায় করে দেয়া হয়েছিল, তাঁকেই ইয়াহূদীরা হযরত ঈসা (আ.) মনে করে শূলে চড়িয়েছিলো।

যেসব ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান হযরত ঈসা (আ.)-এর নিহত হওয়ার কথা বলে থাকে, তারা সন্দেহ ও ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। শেষ যামানায় যখন ঈসা (আ.) দুনিয়ায় অবতরণ করবেন তখন সকল আহলে কিতাব তাঁর প্রতি বিশ্বাস করবে। ইহুদীদের দাবী তখন মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

সামান্য ভিন্নতার সাথে কোনো কোনো বর্ণনায় এমনটা পাওয়া যায় যে, তৎকালীন রোম সম্রাটের নির্দেশে ঈসা (আ.)-কে গ্রেফতারের জন্য সরকারী বাহিনী ও ইয়াহূদী চক্রান্তকারীরা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে। তারা জনৈক নরাধমকে হযরত ঈসা (আ.)-কে হত্যা করার জন্য পাঠায়। কিন্তু এর পূর্বেই আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা (আ.)-কে উঠিয়ে নেওয়ায় সে বিফল মনোরথ হয়ে বের হয়ে আসে। কিন্তু এরই মধ্যে আল্লাহর হুকুমে তার চেহারা হযরত ঈসা (আ.) এর সদৃশ হয়ে যায়। ফলে ইহুদীরা তাকেই ঈসা ভেবে ক্রুশ বিদ্ধ করে হত্যা করে। (এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনূদিত ‘বেদায়া ওয়ান নেহায়া- ইসলামের ইতিহাস; আদি অন্ত’-এর দ্বিতীয় খণ্ডে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।)

ঈসা (আ.)-এর বর্তমান অবস্থান

বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীস দ্বারা এ বিষয়টি স্পষ্ট যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজের রজনীতে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর সাথে দ্বিতীয় আসমানে সাক্ষাৎ করেন। (বুখারী, হাদীসঃ ৩২০৭ ও মুসলিম, হাদীসঃ ৩০৮)

ঈসা (আ.)-এর অবতরণ ও কার্যাবলী

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস এই যে, হযরত ঈসা (আ)-কে আল্লাহ তাআলা জীবিত অবস্থায় আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত হয়ে আবার দুনিয়াতে আগমন করবেন। দাজ্জালকে হত্যা করবেন, ইয়াহুদীদের হত্যা করবেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন, আমাদের নবীর শরীয়ত দ্বারা বিচার-ফয়সালা করবেন এবং ইসলামের বিলুপ্ত হওয়া আদর্শগুলো পুনর্জীবিত করবেন। পৃথিবীতে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করার পর তিনি মৃত্যু বরণ করবেন। মুসলমানগণ তাঁর জানাযার নামায পড়ে তাঁকে দাফন করবেন। তাঁর পুনঃআগমন প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদীসে অনেক বিষয় বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কিছু আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করা হলো।

আল্লাহ তাআলা বলেন –

“নিশ্চয়ই ঈসা কিয়ামতের নিদর্শন। সুতরাং তোমরা কিয়ামতের ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করোনা। আমার অনুসরণ করো। এটাই সরল পথ।”

– সূরা যুখরুফঃ ৬১

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন –

“ঐ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে। অচিরেই ন্যায় বিচারক শাসক হিসেবে ঈসা (আ.) তোমাদের মাঝে আগমণ করবেন। তিনি ক্রুশচিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন এবং জিযইয়া প্রত্যাখ্যান করবেন। ধন-সম্পদ প্রচুর হবে এবং তা নেয়ার মত কোন লোক পাওয়া যাবেনা। এমনকি মানুষের কাছে একটি সেজদা দুনিয়া এবং তার মধ্যকার সমস্ত বস্তু হতে শ্রেষ্ঠ হবে।”

– বুখারী, হাদীসঃ ৩৪৪৮ ও মুসলিম, হাদীসঃ ১৫৫

“আমার উম্মতের একটি দল হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই করে বিজয়ী থাকবে। অতঃপর ঈসা (আ.) আগমন করবেন। সেদিন মুসলমানদের আমীর তাঁকে লক্ষ্য করে বলবেন, আসুন! আমাদের ইমামতি করুন। তিনি বলবেন, না; বরং তোমাদের একজন অন্যজনের আমীর। এ কারণে যে, আল্লাহ এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন।”

– মুসলিম, হাদীসঃ ১৫৬

অন্য এক বর্ণনা মতে হযরত ঈসা (আ.) ফজরের নামাজের সময় অবতরণ করবেন।

“মুসলমানদের ইমাম যখন তাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়ার জন্য সামনে চলে যাবেন তখন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) আগমন করবেন। ইমাম যখন তাঁর আগমন অনুভব করবেন, তখন পিছিয়ে আসতে চেষ্টা করবেন যেন ঈসা (আ.) সামনে গিয়ে মানুষের ইমামতি করেন।

ঈসা (আ.) ইমামের কাঁধে হাত রেখে বলবেন, তুমিই সামনে যাও এবং তাদের নামাজ পড়াও। কারণ তোমার জন্যই এ নামাযের ইকামত দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি ইমামতি করবেন।”

– সহীহুল জামে লিল আলবানী, হাদীসঃ ৭৮৭৫

হযরত ঈসা (আ.) জাফরানে রঙ্গিন দুটি পোষক পরিহিত হয়ে এবং দুজন ফেরেশতার পাখার উপর হাত রেখে দামেস্ক শহরের পূর্বে অবস্থিত সাদা মিনারের উপরে তিনি অবতরণ করবেন।

“সে (দাজ্জাল) যখন মুসলমানদের ঈমান ধ্বংসের কাজে লিপ্ত থাকবে আল্লাহ তাআলা তখন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-কে পাঠাবেন। জাফরানের রঙ্গিন দুটি পোষক পরিহিত হয়ে এবং দুজন ফেরেশতার পাখার উপর হাত রেখে দামেস্ক শহরের পূর্বে অবস্থিত সাদা মিনারের উপর অবতরণ করবেন।

তিনি যখন মাথা নিচু করবেন তখন সদ্য গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসা ব্যক্তির মাথা থেকে যেভাবে পানি ঝরতে থাকে সেভাবে তাঁর মাথা থেকে পানির ফোটা ঝরতে থাকবে এবং যখন মাথা উঁচু করবেন, তখন অনুরূপভাবে তাঁর মাথা হতে মণি-মুক্তার মত চকচকে পানির ফোঁটা ঝরতে থাকবে।

কাফেরের শরীরে তাঁর নিঃশ্বাস পড়ার সাথে সাথেই কাফের মৃত্যু বরণ করবে। চোখের দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত গিয়ে তাঁর নিঃশ্বাস শেষ হবে। তিনি দাজ্জালকে ফিলিস্তিনের লুদ্দ শহরের প্রবেশ পথে পাকড়াও করে হত্যা করবেন।

অতঃপর তাঁর নিকট এমন কিছু লোক আসবেন যাদেরকে আল্লাহ তাআলা দাজ্জালের ফিতনা হতে হেফাযত করেছেন। তিনি তাদের চেহারায় হাত বুলাবেন এবং বেহেশতের মধ্যে তাদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সুসংবাদ দিবেন।”

– মুসলিম, হাদীসঃ ২৯৩৭

“আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের মধ্যেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। আমি জানি না চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বছর। এ সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মারইয়াম তনয় ঈসা (আ.) কে প্রেরণ করবেন। তাঁর আকৃতি উরওয়া ইবনু মাসঊদের অনুরূপ হবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করে তাকে ধ্বংস করে দিবেন। অতঃপর সাতটি বছর লোকেরা এমনভাবে অতিবাহিত করবে যে, দুই ব্যক্তির মাঝে কোন শত্রুতা থাকবে না।”

– মুসলিম, হাদীসঃ ৭১১৪

“আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিনি দুনিয়াতে ৪০ বছর অবস্থান করবেন, অতঃপর ইন্তেকাল করবেন এবং মুসলমানরা তার জানাযার নামাজ পড়বে।”

– আবু দাউদ, হাদীসঃ ৪৩২৪

আমরা যে বিশ্বাস ধারণ করবো

সারকথা, হযরত ঈসা (আ.) ইসলাম ধর্মের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, মুসলমানরা নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে হযরত ঈসা (আ.)-কে গভীরভাবে সম্মান করেন। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রেরিত রাসূল ও বান্দা। তিনি খোদা নন, খোদার সন্তানও নন এবং তিন খোদার এক খোদাও নন। তাঁর মা ছিলেন সতী-সাধ্বী পুণ্যবতী এক মহীয়সী নারী। হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ তাআলা জীবিত অবস্থায় আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। ইয়াহূদীরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি। কিয়ামতের পূর্বে তিনি আমাদের নবীর উম্মত হয়ে আবার এই দুনিয়ায় আগমন করবেন। দাজ্জালকে হত্যা করবেন, খ্রিষ্টান ও ইয়াহুদী ধর্মের পতন ঘটাবেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন, আমাদের নবীর শরীয়ত দ্বারা বিচার-ফয়সালা করবেন এবং ইসলামের বিলুপ্ত হওয়া আদর্শগুলো পুনর্জীবিত করবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝার ও হিদায়াতের উপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন। খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীদের একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করুন।

পুনশ্চঃ খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে নিম্নের গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করা যেতে পারে।

ঈসাইয়্যাত কিয়া হ্যায় (উর্দূ) : মুফতি ত্বকী উসমানী
অনুবাদ : খৃষ্টধর্মের স্বরূপ কৃত মাওলানা আ ব ম সাইফুল ইসলাম

খৃষ্টবাদ বিকৃতিঃ তথ্য ও প্রমাণ : মাওলানা আব্দুল মতিন

বাইবেল বিকৃতিঃ তথ্য ও প্রমাণ : মাওলানা আব্দুল মতিন

ইঞ্জিল ও প্রচলিত ইঞ্জিলঃ একটি পর্যালোচনা : মাওলানা মুনশী মুহাম্মদ মহিউদ্দিন

লেখক : শিক্ষক ও খতীব

 

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com