৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

ইসলাম প্রিয় ব্যক্তিত্ব আমাদের বঙ্গবন্ধু

ইসলাম প্রিয় ব্যক্তিত্ব আমাদের বঙ্গবন্ধু

একজন ইসলাম প্রিয় ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি। তবে তাঁর সম্পর্কে শুনেছি। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্হপতি। এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আদায়ে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান।

বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ বলতে বঙ্গবন্ধু। একথা কেউ অস্বীকার করার কায়দা নেই। এদেশের ইঞ্চি ইঞ্চি মাটিতে বঙ্গবন্ধুর অবদান।
এক সময় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ভুল বোঝাত কিছু মানুষ। ওরা জাতির জনককে ইসলাম বিরোধী বলে আখ্যা দিত।

ওরা আর কেউ নয়, ওরা স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী।

ওরা ৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তারা পারেনি।

বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ডাক দিলেন, এদেশের আপামর জনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। আর ঐ স্বাধীনতাবিরোধিরা পরাজয় বরণ করেছিল।আসলে বঙ্গবন্ধু একজন ইসলাম প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর পরিবার ছিল ধার্মিক। একটা ধার্মিক ফ্যামিলীতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর সাথে আলেম উলামাদের বিশাল সখ্যতা ছিল। বিশেষ করে মুজাহিদে আজম আল্লামা শামসুল হক ফরীদপুরীর ভক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই বন্ধুত্ব আর ভালবাসার কারণে আল্লামা শামসুল হক ফরীদপুরীর গায়ের ছদরিয়া বঙ্গবন্ধুকে উপহার দিয়ে ছিলেন। যে ছদরিয়া বঙ্গবন্ধু আজীবন গায়ে জড়িয়ে রেখে ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন একজন দেওবন্দী আলেম। তিনি হলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। আবার বঙ্গবন্ধুর দলের সেক্রেটারীও একজন দেওবন্দী আলেম। তিনি ছিলেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ।

এসব আলেমদের সাথে বঙ্গবন্ধুর উঠা বসা ছিল। তিনি নিজে ধর্ম পালন করতেন। এবং তাঁর কথা বার্তায় ধর্মীয় চিন্তা চেতনা উঠে আসত।

যেমন বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনে তিনি বলেছিলেন,” রক্ত যখন দিয়েছি, আরো দেব।তবুও এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ”।

একজন পরহেজগার খোদা ভীরু মানুষের কথা এটা। মহান আল্লাহর উপর শত ভাগ আস্হা থাকলে সেই ব্যক্তি এমন কথা বলতে পারে।

বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারী পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে যে বক্তব্য দিয়ে ছিলেন, তাতে তিনি বলেছিলেন,”আমি বাঙালী, আমি মুসলমান”
বঙ্গবন্ধু নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি ছিলেন পাক্কা মুসলমান।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে আলেম উলামাগণ ছন্ন ছড়া হয়ে ছিল। মাদ্রাসা গুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু আলেমদের ডেকে মাদ্রাসা গুলো চালু করতে বললেন। সেই থেকে মাদ্রাসা গুলো চলছে তো চলছেই। আর বন্ধ হয়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কাকরাইল মসজিদের জায়গা বরাদ্দ দিয়ে ছিলেন তিনি। এমনি ভাবে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।

এরকম ইসলামের জন্য বহু কাজ করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন আলেমদের বন্ধু। ছিলেন ইসলামের বন্ধু।

আজ তাঁর কথা খুব স্মরণ হয়। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমা করুন। জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। আমিন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com