১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৭ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

উত্তর কোরিয়ায় ‘মহাবিপর্যয়’ ঘোষণা কিমের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : উত্তর কোরিয়ায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত এবং দেশজুড়ে লকডাউন জারির দুদিন পর দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রাণহানির এই তথ্য প্রকাশ করল।

শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয় যে, সম্প্রতি দেশজুড়ে এক অজানা জ্বরে প্রায় ৫ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম কেসিএনএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু শুক্রবারে দেশটিতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪০ জনের জ্বর ছিল। এদিন পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

গত এপ্রিলের শেষভাগ থেকে মে মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ জন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কেসিএনএ। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। তবে জ্বরে আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিরা করোনা পজিটিভ ছিলেন কি না, তা জানানো হয়নি।

দেশটিতে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ঠিক কতজনের প্রাণহানি ঘটেছে সেবিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানানো হয়নি। কারণ করোনাভাইরাস শনাক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই দেশটিতে।

এদিকে, দেশটির নেতা কিম জং উন উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাসের দ্রুত ছড়িয়ে পড়াকে ‘মহাবিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার এক জরুরি বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশে ভাইরাসের বিস্তার মোকাবিলায় সর্বাত্মক যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ায় প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। যদিও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অনেক আগেই দেশটিতে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে। তবে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দুদিন আগে এই ভাইরাস শনাক্ত করার ঘোষণা দেয়।

উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাসের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। টিকাদান কর্মসূচির অভাব এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে দেশটির আড়াই কোটি মানুষ মহামারির মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন।

করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা সীমিত থাকায় দেশটির বেশিরভাগ জ্বরে আক্রান্ত মানুষের করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে গত দুদিন দেশটিতে জ্বরে আক্রান্তের পরিসংখ্যানে উল্লম্ফন দেখা গেছে। যে কারণে উত্তর কোরিয়ায় করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিম জং উন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর আমাদের দেশে এই প্রথম এমন মারাত্মক মহামারি এসেছে। এবং একে তিন ‘মহাবিপর্যয়’ এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা বলেও আখ্যা দেন। এই মহামারির বিস্তারের জন্য তিনি ‘আমলাতান্ত্রিক এবং চিকিত্সাব্যবস্থার অক্ষমতাকে’ দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশি চীনের মতো দেশগুলোর করোনা মোকাবিলার কৌশল থেকে উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশটিতে গত এপ্রিল থেকে জ্বরে ভোগার পর অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে তারা করোনা পজিটিভি ছিলেন কি-না সেবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একজন মারা যাওয়ার পর তার নমুনা পরীক্ষায় করোনার অতি-সংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে দুই বছর ধরে তাদের কোনো নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হননি বলে দাবি করে আসছিল উত্তর কোরিয়ার সরকার। বিশ্বে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকেই কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছিল দেশটি। এর জেরে তীব্র আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় পিয়ংইয়ংকে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com