একটি ইসলাহী ইজতেমার গল্প

একটি ইসলাহী ইজতেমার গল্প

একটি ইসলাহী ইজতেমার গল্প

মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: মাদানী সিলসিলার পীর, দারুল উলুম দেওবন্দের কৃতি সন্তান, মুফতি ইসমাতুল্লাহ কাসেমী দামাত বারাকাতুহুম (পীর সাহেব নগর কান্দা) এর খানকায়ে মাদানীয়া এর উদ্যোগে তিন দিন ব্যাপি ইসলাহী প্রোগ্রাম চলছে। বিগত পাঁচ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে, আজ শেষ দিন।

মুফতী ইসমাতুল্লাহ কাসেমী একজন প্রতিভাবান আলেম ও একজন হক্কানী পীর। ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে তাঁর হাজার হাজার মুরিদ, ভক্ত- অনুরাগী। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে তিনদিন ব্যাপি ইসলাহী ইজতেমার আহবান করেন। তাতে অগণিত মানুষের ঢল নামে। ইজতেমাতে শরীক থাকেন দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।

প্রতি বছরের ন্যায় এবছর ও শুরু হয়েছে ইসলাহী ইজতেমা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অতিথি এবং ভক্তবৃন্দের সংখ্যা অনেক বেশী। প্রথম দিনেই ময়দান ভরে গেছে। আজ শেষ দিনে তো মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

ইজতেমাতে দেশ বিখ্যাত আলেম এবং হক্কানী পীর মাশায়েখগণ ইসলাহী বয়ান করছেন। পুরো চব্বিশ ঘণ্টা নেজামের সাথে ভক্তবৃন্দকে তালিম দেওয়া হচ্ছে।

ইজতেমাতে মানুষের দৈনন্দিন আমল, আখলাকে হাসানা, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার উপায় এবং সুন্নতের উপর পাবন্দী থাকা যায় কিভাবে, এসব বিষয়গুলোর উপর বেশী জোর দেওয়া হচ্ছে।

একদম নমুনায়ে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা, এবং দেশের হক্কানী পীরের খানকার মত দৃশ্য নগরকান্দায়। পীরের পক্ষ থেকে কোন তাবারক এর ব্যবস্থা নয়। যার যার গাঁটের পয়সা খরচ করে, নিজে রান্না করে খাচ্ছেন সবাই। কোন নজর – নেওয়াজের ঢের নয়। বা কোন চাঁদা কালেকশন নয়। একেবারে ব্যতিক্রম ধর্মী এক প্রোগ্রাম।

ইসলাহী প্রোগ্রামে যারা বয়ান করছেন, তারাও সাদা- মাটা ভাবে। কোন রং ঢং এর বক্তা সেখানে দেখলাম না। আমাদের ওলামায়ে দেওবন্দ যেরকম, অনাড়াম্বর ছিলেন, তাদের মাঝে কোন অহমিকা বা লৌকিকতা ছিল না, ঠিক নগর কান্দার খানকায়ে মাদানীয়া সেরকম নমুনায় চলছে বলে মনে হল।

আল্লাহ তায়ালা এই প্রোগ্রামকে কবুল করুন। এটাকে হেদায়েতের জরিয়া বানিয়ে দেন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *