একাধিক মাদরাসায় হাদীসের পাঠদান প্রসঙ্গে দুই আলেমের পালটা-পালটি বক্তব্য

একাধিক মাদরাসায় হাদীসের পাঠদান প্রসঙ্গে দুই আলেমের পালটা-পালটি বক্তব্য

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: একাধিক মাদরাসায় হাদীসের দারস প্রদান নিয়ে দেশের প্রসিদ্ধ দুজন আলেমের পালটা-পালটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখে পড়েছে। কয়েকদিনের ব্যাবধানে একাধিক মাদরাসায় হাদীসের দারস দেওয়া প্রসঙ্গে আওয়ার ইসলাম এ দুটি খবর প্রকাশিত হয়।

প্রথমটিতে রাজধানীর বাইতুল উলুম ঢালকানগর মাদরাসার মুহতামিম মুফতি জাফর আহমাদ দারসে হাদীসের এ ধরণের খেদমতকে ‘টিউশনি মাস্টারের মত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আজকাল দেখা যাচ্ছে একজন মুহাদ্দিস ১৫ জায়গায় হাদিস পড়ান। এটা কি ‘কহতুর রিজাল’, মুহাদ্দিসের অভাব! না হলে ১৫ জায়গায় কেন যাবে! আমাদের আকাবিরিনদের যুগে কি এমন পদ্ধতি ছিল! হুসাইন আহমাদ মাদানী দশ জায়গায় পড়াতেন! আনোয়ার শাহ কাশ্মেরী বিশ জায়গায় পড়াতেন? আর এখন এটাকে গৌরবের জিনিস হিসাবে মনে করছে’।

‘কিন্তু বাস্তব কথা কথা হল যোগ্য আলেমের অভাব হয়ে গেছে। যার কারণে একজন যোগ্য পেলে ২০ জায়গায় পড়ান। বিশ মাদরাসা তাকে টানে। কিন্তু এর কারণে ক্ষতি যেটা হচ্ছে, এর পক্ষে আমি না। এটা তো টিউশনির মত হয়ে গেছে। একজন মানুষ যেমন দশ জায়গায় কুরআন পড়ানোর টিউশনি করে, আর এটা হচ্ছে হাদিস শরিফের টিউশন।

তবে মুফতি জাফর আহমাদের এই বক্তব্যের পরোক্ষোভাবে জবাব দেন মিরপুর-১২ মাদরাসা দারুর রাশাদের শিক্ষা সচিব ও একাধিক মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা লিয়াকত আলী।
আওয়ার ইসলামকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘একজন মুহাদ্দিসের জন্য একাধিক মাদরাসায় হাদিস পড়ানো দোষের কিছু নয়। আমাদের আকাবিরদের অনেকেই একাধিক মাদরাসায় হাদীস পড়াতেন। যেমন শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক সাহেব পড়াতেন। আল্লামা আশরাফ আলী রহ.পড়াতেন। তাঁদের ইলম এবং ইস্তে’দাদ নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।

মালিবাগ মাদরসা থেকে যখন হজরত মাওলানা কাজী মু’তাসীম বিল্লহ সাহেব চলে গেলেন, ওই মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস স্থিতিশীল করার জন্য শাইখুল হাদিস সাহেব ওখানে পড়াতেন। এরকম আরও কয়েক মাদরাসায় শাইখুল হাদিস সাহেব যেতেন, যাতে করে দাওরায়ে হাদিস টিকে থাকে।

শাইখুল হাদিস সাহেবের ইন্তেকাল হয়ে গেলে আশরাফ আলী সাহেব ঠিক এই খাতিরে বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াতেন। অল্প করে হলেও। যেন মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস স্থিতিশীল হয়।’

তবে হাদীসের বহুমাত্রিক খেদমতকে টিউশনি পেশার সাথে তুলনা করার বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক মুহাদ্দিস ও আলেমগণ। যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন।।

Related Articles