২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

এখনো নিখোঁজ অনেকে, সন্ধানে ছুটছেন স্বজনরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোয় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজদের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ভিড় করছেন স্বজনরা। উদ্ধার হওয়া ৪১ মরদেহের মধ্যে ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে চমেক কর্তৃপক্ষ। বাকি ১৮ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের তিনজনসহ নিখোঁজ রয়েছেন আরো অনেকে। নিখোঁজদের সন্ধানে চমেকে এসে ভিড় করছেন স্বজনরা। যদিও দুর্ঘটনায় কতজন মারা গিয়েছেন তার কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

সর্বশেষ তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের যে তিনজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি তারা হলেন নওগাঁর মো. রবিউল ইসলাম, রংপুরের ফরিদুজ্জামান ও চাঁদপুরের মো. ইমরান হোসেন মজুমদার। এছাড়া কাভার্ড ভ্যানচালক মো. ইয়াসিন, বিএম ডিপোর তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সোবহানসহ আরো অনেকের খোঁজে স্বজনরা চমেক হাসপাতালে এসেছেন।

নিখোঁজ কাভার্ড ভ্যানচালক মোহাম্মদ ইয়াছিনকে খুঁজতে চমেকে আসেন তার বাবা মো. বদিউল আলম। তিনি বলেন, আমার ছেলে সেদিন বিকালে কাভার্ড ভ্যান নিয়ে বিএম ডিপোয় ঢুকেছিল। গত দুদিনে আমরা তার কোনো খোঁজ পাইনি। তার সেলফোনে কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়ে চমেকে লাশের সন্ধানে এসেছি, এখন যদি অন্তত ছেলের লাশটা পাই।

এদিকে নিখোঁজ আবদুস সোবহানের লাশ খুঁজতে চমেকে এসেছেন তার স্ত্রী এবং সাত মাস বয়সী কন্যা ফাইজা। সোবহানের স্ত্রী ইস্ফাহান সুলতানা জানান, শনিবার রাতে বিস্ফোরণের ঠিক আগেই তার সঙ্গে ডিডিও কলে কথা বলছিলাম। কিন্তু বিস্ফোরণের পর মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাইনি। এখন চমেকে ডিএনএ টেস্ট করে লাশ শনাক্তের জন্য এসেছি।

বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপোয় হাজারের বেশি মানুষ কাজ করে। তাছাড়া বাইরের অনেকেই এখানে কনটেইনারের লোড-আনলোডের কারণে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। সেজন্য অগ্নিকাণ্ডের সময় কতজন ডিপোর ভেতরে অবস্থান করছিল তা বলা অসম্ভব। যদি নিখোঁজদের স্বজনরা এখানে তাদের খোঁজ নিতে আসে, তখন সঠিক পরিসংখ্যান বের করা যাবে। সেই সঙ্গে কতজনের মৃত্যু হয়েছে সেটিও বের করা সম্ভব হবে।

বিএম কনটেইনার ডিপো এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর জানান, প্রতিদিন এ ডিপোয় এক-দেড়শ গাড়ি আসা যাওয়া করে। অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেক লোকই ভেতরে অবস্থান করছিল। আবার রাতের খাবারের সময় হওয়ার কারণে অনেকে ডিপোর বাইরে ছিলেন। এমনকি আগুন যখন ধরেছিল তখনো অনেক ট্রাক তাড়াহুড়ো করে বেরোতে দেখা গিয়েছে। যার কারণে কত মানুষ মারা গিয়েছে বা নিখোঁজ আছে সেটা বলা মুশকিল। আগুন পরিপূর্ণ নেভানোর পর হয়তো মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে। এখন অনেকের শুধু হাড়গোড় পাওয়া গিয়েছে। সুতরাং যে তথ্য পাচ্ছি তার থেকে মৃত্যু আরো বেশি হবে।

চমেকে যেসব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা গিয়েছে তারা হলেন ফায়ার সার্ভিসের নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকার মনিরুজ্জামান, ভোলার দক্ষিণ বালিয়ারা এলাকার হাবিবুর রহমান, প্রাণ গ্রুপের কর্মচারী ও বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা রবিউল আলম, বাঁশখালী উপজেলার চনুয়া এলাকার মুমিনুল হক, একই উপজেলার মহিউদ্দিন, তোফায়েল আহমেদ, রিদোয়ান, ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও নোয়াখালীর চাটখিল বানসা এলাকার আলাউদ্দিন, নোয়াখালী জেলার সুধারাম উপজেলার মো. সুমন, যশোরের ইব্রাহীম হোসেন, বিএম ডিপোর ডেস্ক এক্সিকিউটিভ ও ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার শাহাদাত উল্লাহ মজুমদার, সীতাকুণ্ড উপজেলার আফজাল হোসেন, ফিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মো. ফারুক, চট্টগ্রামের হালিশহরের মো. হারুন, সিলেট মৌলভীবাজারের মো. নয়ন, মিরসরাইয়ের শাহাদাত হোসেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্য নিপন চাকমা, রানা মিয়া ও শাকিল তরফদার, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন রুবেল, রমজান আলী ও তৌহিদ হোসেন।

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com