পাথেয় রিপোর্ট : জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আতঙ্কে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির হাতে শিশুসহ ১২ জন আটক হয়েছে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) তাদের আটক করা হয়। এ নিয়ে গত ১ মাসে এই সীমান্ত থেকে ৩০৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মাসে মহেশপুর উপজেলার জলুলী, পলিয়ানপুর, খোসালপুর ও বাগাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ বিজিবির আওতাধীন বিওপি ক্যাম্প নারী ও শিশুসহ ৩০৭ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু রয়েছে। আটককৃতদের ঝিনাইদহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মহেশপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত মহেশপুর থানায় ৩৩টি মামলা হয়েছে। থানার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এরা ভারতের ব্যাঙ্গালুর ও বোম্বেসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিল। সম্প্রতি ভারতের এনআরসি হতে পারে সেই আতঙ্কে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। আটককৃতরা জানায়, তাদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, বরগুনা ও নড়াইল অঞ্চলে ছিল। তারা ইতিপূর্বে ভারতে গিয়ে বসবাস করে আসছিলো এবং সেখানে কর্মরত ছিলো। সম্প্রতি ভারতের একটি বিশেষ বাহিনী বিভিন্নভাবে আটক করার কারণে তারা বাংলাদেশে চলে আসছে। আটককৃতরা অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
এ বিষয়ে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্নেল কামরুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ভারতে মাইগ্রেশন হয়ে যাওয়া লোকজনের বসবাসের অসুবিধার কারণে তারা আবার বাংলাদেশে চলে আসছে এবং বিজিবির হাতে আটক হচ্ছে। গত ১ মাসে নারী ও শিশুসহ ৩০৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় শ্যামকুড় ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানায়, যা ধরা পড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি লোক বিভিন্নভাবে দেশের ভেতরে প্রবেশ করেছে। সোমবার সকালে ৫৮ বিজিবি ৬ শিশুসহ ১২ জন নারী-পুরুষকে আটক করে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করেছে।
মহেশপুর থানার ওসি (তদন্ত) আমানউল্লাহ জানান, তাদের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় মামলা হয়েছে। তাদেরকে ঝিনাইদহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।


