পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চট্টগ্রামের আকাশে অবশেষে ভেসে উঠছে এক সুসংবাদের আলো। সাড়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস বুকে ধারণ করা আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ অবশেষে যাচ্ছে নতুন রূপে সাজতে। সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল রোববার। উদ্বোধন করবেন ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
নতুন প্রকল্প অনুযায়ী, মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্যের মূল সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে চারতলা আধুনিক স্থাপনায় একসঙ্গে প্রায় আট হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। পাশাপাশি থাকবে একটি ২০ তলা টাওয়ার ও ৩৫ তলা উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন মিনার। প্রায় ২৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সরকার দিচ্ছে ১১ কোটি টাকা, আর বাকি অংশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অনুদানের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
গতকাল জুমার নামাজের পর মসজিদের প্রাঙ্গণে স্থাপিত আটটি ডিজিটাল স্ক্রিনে মুসল্লিদের সামনে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা উপস্থাপন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস সালাম খান, মুসল্লি পরিষদের সভাপতি সালাহউদ্দিন কাশেম খান, সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় বক্তব্য রাখেন।
মুঘল আমলে নির্মিত এই মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি চট্টগ্রামের ইসলামী ইতিহাসের প্রতীকও বটে। ১৬৬৭ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁর পুত্র উমেদ খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করেন। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পরে ১৮৮৫ সালে স্থানীয় মুসলমানদের প্রচেষ্টায় পুনরুদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দোতলার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, গার্ডারের রড উন্মুক্ত হওয়া, বৃষ্টির পানি মেহরাবে পড়া—এমন দুরবস্থা নিত্যদিনের দৃশ্য ছিল। অবশেষে সরকার ও মুসল্লি পরিষদের উদ্যোগে নতুন আশার দ্বার খুলেছে।
নতুন প্রকল্পে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের জায়গা, অফিস স্পেস ও দোকানপাটসহ আধুনিক সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিডি মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন—
“আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ শুধু চট্টগ্রামের নয়, এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ। নতুনভাবে নির্মিত হলে পুরো আন্দরকিল্লা এলাকার রূপই বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ।”


