পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেটের কাছে রাহমানিয়া মাদ্রাসা হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (১৯ জুলাই) বিকালে ঢাকা জেলা প্রশাসন ওয়াকফ এস্টেট কমিটির কাছে মাদ্রাসাটি হস্তান্তর করে।
এর আগে সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে মাদ্রাসা ভবনে তালা দিয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করেন মাদ্রাসাটির মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক। এবং মাদ্রাসার চাবি সরকার স্বীকৃত ইসলামি শিক্ষা বোর্ড আল হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (১৯ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘যে মাদ্রাসার সামনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেটা একটি মসজিদ ও ওয়াকফ এস্টেট। এই ওয়াকফ এস্টেটে আগে বিভিন্ন ইস্যু ছিল। কোর্টে বিভিন্ন মামলা চলমান ছিল। মামলা চলমান থাকার সুবাদে একটি পক্ষ এটার দখলে ছিল।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘এই মাসে আমরা ওয়াকফ প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছি যে এখানে যারা অবৈধ দখলদার আছে, তাদের উচ্ছেদ করে নির্বাচিত বৈধ কমিটির কাছে মাদ্রাসার দখল হস্তান্তর করার জন্য। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার লোকজন আছেন। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক এখানে আছেন। প্রথমে আমরা যখন এখানে এলাম তখন দেখলাম তালা মারা আছে। ভেতরে কোনও লোকজন পাইনি। যেহেতু সব জায়গায় তালা মারা ছিল, তাই দখল ও হস্তান্তরের স্বার্থে তালা ভেঙে আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি। ওয়াকফ এস্টেট থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের আমরা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।’
এর আগে গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট এর সম্পত্তি অনুমোদিত কমিটির কাছে বুঝিয়ে দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়। এদিকে মাদ্রাসাটির হস্তান্তরের গুঞ্জনে মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে গত কয়েকদিন ধরেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অধীন একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ী হাজি মোহাম্মাদ আলী ও হাজি মো. নূর হোসেন এই মাদ্রাসার নামে মোহাম্মদপুরে আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেটে ১০ কাঠা জায়গা ওয়াক্ফ করেন। সেই সময়ের পরিচালনা কমিটি ও জনসাধারণের সহযোগিতায় সেখানে একটি ৫ তলা ভবন নির্মিত হয়। সেখানে প্রায় এক হাজার ছাত্রের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়।


