১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ওয়াজ মাহফিলে মূর্খ বক্তার ছড়াছড়ি

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

ওয়াজ মাহফিল। এটা একটি ভ্রাম্যমান মাদ্রাসা বলা যায়। দ্বীনি একটা ক্লাসের মত। এটা মানুষের শেখার জায়গা। এ জায়গা থেকে মানুষ তালিম নিয়ে থাকে। হাজারো মানুষ আছে যারা কোনদিন মাদ্রাসায় পড়েনি। কোন আলেম-উলামার সোহবতে বসেনি। তাদের জন্য ওয়াজ মাহফিল ক্লাসের মত। এই মাহফিল থেকে জ্ঞান আহরণ করে থাকে। তারা ওয়াজ মাহফিলের বক্তা থেকে অনেক কিছু শিখে সেগুলো দৈনন্দিন জীবনে আমল করে।

একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ওয়াজের ময়দান। বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভরপুর ওয়াজ মাহফিল হয়। কোন একটা এলাকা খালি নেই সেখানে ওয়াজ হয়না। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লাতে। মোটকথা দেশের আনাচে-কানাচে সর্বত্র ওয়াজের আয়োজন লক্ষ্য করা যায়। কিন্ত অতীব দুঃখের বিষয়, এসব ওয়াজ মাহফিলে মূর্খ বক্তায় ভরে গেছে। অশিক্ষিত, মূর্খ বক্তার ছড়াছড়ি। এখন অধিকাংশ বক্তাই অর্ধ শিক্ষিত,অল্প শিক্ষিত। সুশিক্ষিত তথা কোরআন-হাদীস পড়ুয়া বক্তার বড্ড অভাব। অনেক জায়গাতে শুধু বক্তার কথার ফুলঝুরি। অথবা চাপাবাজি করেই সময় পার করে তারা। মিষ্ট কথা, চমকপ্রদ কিছু বাক্য। এমনি ভাবে কেচ্ছা কাহিনী, গল্প-গুজব দিয়েই চলেন। আবার কেউ কেউ গানের শিল্পি। ওয়াজ মাহফিলের ষ্টেজে বসে গান পরিবেশন করে থাকেন।

বক্তা যদি মূর্খ হয়, তার যদি কোন ইলম না থাকে, কোরআন-হাদীসে যদি পারদর্শি না হয়, তাহলে তার দ্বারা মানুষ কিছুই শিখতে পারবে না, বরং গোমরাহীর দিকে ধাবিত হবে।

এসব মূর্খ বক্তাদের সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, তথ্যগত ভুল। তারা মানুষের সামনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। কোরআন-হাদীস না পড়ার কারণে এবং মাদ্রাসাতে উস্তাদের সামনে বসে কোন ইলম হাসিল না করার কারণে তারা মানুষকে ভুল মেসেজ দিয়ে থাকেন। সঠিক জ্ঞান দেওয়ার পরিবর্তে উদ্ভট তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেন। যেটা বড় অস্বস্তিকর। যেটা অমার্জনীয় অপরাধ। ওয়াজের ময়দানে মানুষ শিখবে। অজানাকে জানবে। কিন্তু বক্তা যদি মূর্খ হয়, তার যদি কোন ইলম না থাকে, কোরআন-হাদীসে যদি পারদর্শি না হয়, তাহলে তার দ্বারা মানুষ কিছুই শিখতে পারবে না, বরং গোমরাহীর দিকে ধাবিত হবে।

আজকাল ওয়াজ মাহফিলে গেলে দেখা যায়, কত রঙ-বেরঙের বক্তা। বিভিন্ন লকবধারী। লকবেরও শেষ নেই। কোন যোগ্যতা নেই, কিন্তু লকবে তিনি সবার সেরা। আজগুবি লকব লাগায়ে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেন। অনেক সরলপ্রাণ মানুষ সেসব লকব দেখে ধোঁকায় পড়ে যান। তাদের অনুসরণ করতে থাকে। যার দ্বারা মানুষ আরো ক্ষতির সম্মুখিন হতে থাকে।

এজন্য ওয়াজের ময়দানে মূর্খ বক্তা বা ওয়ায়েজ থেকে দুরে থাকা চাই। বিশেষ করে যে সকল বক্তা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষকে ভুল তথ্য দিচ্ছে, কোরআন-হাদীসের অপব্যাখ্যা করে যাচ্ছে, তাদের বয়কট করা দরকার। বর্তমানে সমাজে যেসকল ফেৎনা-ফাসাদ, শিরক-বেদআত চালু হয়েছে। কোথাও হাজার হাজার মানুষ ভ্রান্ত মতবাদের উপরে বদ্ধমুল রয়েছে, এর অধিকাংশ মূর্খ ওয়ায়েজদের মাধ্যমে সয়লাব হয়েছে। তারাই জাতিকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিচ্ছে। গোমরাহীতে ডুবে আছে ওই সকল মূর্খ ওয়ায়েজদের দ্বারা।

মূর্খ ওয়ায়েজের ছড়াছড়ি বন্ধ হোক। এটা এখন সকলের কামনা-বাসনা। বিশেষ করে সচেতন মহলের কাছে গন্ডমূর্খ ওয়ায়েজের কোন মূল্য নেই। তারা মনেপ্রাণে কামনা করে, ওয়ায়েজের ময়দান থেকে মূর্খ লোকদের বিদায় ঘন্টা বেজে যাক। আলেম-উলামা এবং দ্বীনি শিক্ষায় সুশিক্ষিত ব্যক্তিগণ ওয়াজে ফিরে আসুক। বিজ্ঞ আলেমগণের মাধ্যমে ওয়াজ মাহফিল হলে মানুষের বহু ফায়দা হয়। স্রোতাগণ অনেক কিছু হাসিল করতে পারে। এ কারণে ওয়াজের ময়দানে মূর্খ ওয়ায়েজদের ছড়াছড়ি বন্ধ হোক। যোগ্য আলেমদের আগমন ঘটুক। আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন: ওয়াজের ময়দানে ওয়াজ নেই

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com