১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

কওমীতে গাইডবুক, নোটবুক ও বাংলা শরাহ বন্ধ হোক

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

চলছে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড) এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা। এবার ৪৫ তম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশব্যাপি হাজার হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছে, এবারের প্রশ্ন অনেক কঠিন। কেউ বলছে, এবারের পরীক্ষায় ছাত্রদের গাইড থেকে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গাইড বাদ রেখেই প্রশ্ন। যার কারণে ছাত্রদের কাছে হয়ত প্রশ্ন কঠিন হতে পারে। এরকম একেকজন একেক মন্তব্য করে যাচ্ছেন।

তবে বেফাক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাত্রদের ব্যাপারে সহনশীল হওয়া দরকার। দেশের সার্বিক পরিস্হিতি অবলোকন করেই ছাত্রদের পরীক্ষা নেওয়া চাই। দেশে দুই বছরধরে করোনা মহামারী চলছে। এখনো করোনা পুরোপুরি চলে যায়নি। তাছাড়া করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। বহু প্রতিষ্টান যথারীতি ক্লাস করতে পারেনি। কিছু কিছু জায়গায় চুপিসারে ক্লাস হলেও অধিকাংশ জায়গাতে ছাত্ররা ক্লাসে অংশগ্রহন করতে পারেনি। সুতরাং এমন অবস্হায় যদি ছাত্রদের প্রশ্নপত্র কঠিন হয় তাহলে সেটা বড় অসহনীয় হবে সকলের।

আমরা গাইড বাদ রাখতে চাচ্ছি, এটা অবশ্য ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নোটবই কী বাদ দিতে পারছি? আজ কওমী মাদ্রাসার সকল কিতাবের বাংলা সংস্করণ বেরিয়েছে। এমন কোন কিতাব বাকী নেই যার বাংলা হয়নি। আর এসব বাংলা কিতাবগুলো সকলের হাতে। যেমন ছাত্রদের হাতে তেমন উস্তাদগণও সেগুলো মুতালায়া করে যাচ্ছেন। কেউ এখন আর বাংলা ছাড়া নেই।

আচ্ছা, এসব কিতাবগুলোর বাংলা বের করেছে কারা? নিশ্চয়ই আমাদের কওমী অঙ্গনের কোনো উস্তাদ। তারা এসব বাংলা নোট বের করে অনেক বড় ফায়দা হাসিল করে যাচ্ছে। আমরা কিন্তু সেগুলো বন্ধ করতে পারিনি। আমাদের সন্তানেরা কিতাবের বাংলা সংস্করণ পড়ে বড় হচ্ছে। মাদ্রাসার উস্তাদগণও সেই বাংলা ভার্সনের কিতাব মুতালায়া করে পড়াচ্ছে, তাহলে শুধু গাইডের দোষ দিয়ে লাভ কী? আর পরীক্ষার সময় এত্ত কড়াকড়ি করার বা কী অর্থ।

গাইড বন্ধ করার সাথে সাথে নোটবই, বাংলা শরাহ, বাংলা সংস্করণ আগে বন্ধ করার প্রয়োজন। আমরা গাইড বন্ধ করার উদ্যেগ নিয়েছি কিন্তু বাংলা সংস্করণ বন্ধ করার উদ্যোগ নেই। আমরা পরীক্ষার সময় ছাত্রদের যোগ্যতা যাচাই করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করেছি, কিন্তু ছাত্রদের ক্লাস হচ্ছে কিনা, দেশের সার্বিক পরিস্হিতে তারা ঠিকমত ক্লাসে উপস্হিত থাকতে পারল কিনা সেটা দেখা হচ্ছে না।

আজ আমাদের ছাত্ররা কিতাব বুঝে না, ইবারত পড়তে পারে না, কিতাবের সাথে মুনাছেবাত নেই, এর জন্য শুধু পরীক্ষার গাইডবুক দায়ী নয়। বরং প্রথমত দায়ী কিতাবের বাংলা সংস্করণ, নোট বই, সরাসরি বাংলায় অনুবাদ কিতাবাদী। এজন্য গাইড বন্ধ করার আগে বাংলা কিতাব বন্ধ করার কথাও বলা দরকার। তবে এর জন্য অবশ্য বেফাক পারবে না। প্রতিটি মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের এমন উদ্যোগ করা দরকার। কোনো মাদ্রাসার ছাত্ররা যেন শুধু বাংলা কিতাবের উপরে নির্ভরশীল না হয়, বরং কিতাব বুঝে পড়ার প্রতি যত্নবান হয়। তৃণমুল পর্যায় থেকে এসব উদ্যোগ নিলে হয়ত কিছুটা উপকৃত হওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।

পরিশেষে বোর্ডের মুরুব্বীদেরও ছাত্রদের প্রতি খেয়াল রাখা চাই। ছাত্রদের অবস্থানুযায়ী যাতে প্রশ্নপত্র তৈরী হয়, এমনটাই আশারাখি।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com