মুক্ত চিন্তা । লাবীব আব্দুল্লাহ
কওমীর অন্ধকারময় আগামী এবং আশাবাদ
ইসলামী সংগঠনগুলো থেকে মুনাফিক, স্বার্থবাজ, দালাল, অযোগ্য সাহেবজাদার অযাচিত হস্তক্ষেপ, পার্থিব কিছু পাওয়া ও লাভের লালসায় কুকুর স্বভাবের নেতা, সংকীর্ণমনা, ঘরাণাপুজারী, খেয়ানতকারীদের বিদায় না করতে পারলে এই দেশে বৃহত্তর কোনো দীনি কাজ প্রায় অসম্ভব৷
১৯৭১-২০০০ সাল পর্যন্ত যতগুলো ইসলামী ধারার সংগঠন জন্ম নিয়েছে এবং বিলুপ্ত বা অকার্যকর হয়েছে৷ হয়েছে প্রভাবহীন৷ সেই বিলুপ্তির কারণ তালাশ করে পর্যালোচনা করে আগামীতে সতর্ক হওয়া সময়ের দাবি৷
খেলাফত আন্দোলন (ছায়াহীন বটগাছ), আইডিএল, ইসলামী ঐক্যজোট (তিন খণ্ড), খেলাফত মজলিস (তিন খণ্ড), নেজামে ইসলামীর (তিন ফালি) ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি, সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদসহ আরও যত ইসলামী ধারার সংস্থা, সংগঠন হয়েছে সেগুলোর প্রভাবহীন হওয়ার কারণগুলো নির্ণয় করে আগামী দিনের পথচলার পথ রচনা করতে হবে৷ স্বজনপ্রীতি, সাময়িকস্বার্থের কাছে বিকিয়ে দিয়ে আদর্শচ্যুতির পরিচয় দিলে মানুষ হৃদয়ে স্থান দিবে না সংগঠনকে৷ দলগুলোকে৷ নাম যত সুন্দরই হোক৷ নাম আরবী উর্দু রাখলেও৷ হেফাজতে ইসলামী নাম দিলেও সচেতন জনতা হেফাজতে নফস মনে করবে৷
তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তও নিরাপদ থাকেনি! কত মুভমেন্ট হলো কত নামে কিন্তু সেই কাদিয়ানিরাই শক্তিশালী হচ্ছে দিন দিন৷ মুখে ও মাহফিলে কাফের কাফের বলে ফেনা এবং রাতের গভীরে আঁতাত করে সংগ্রাম চলে না৷ শেষ তক তাবলীগে সমস্যা নিয়ে যা হলো তা তো স্পষ্ট৷
এতাআতি ও ওজাহাতি নামে অভিধানে দুটি শব্দ সংযোজন হলো৷ কী লাভ কী ক্ষতি এর হিসাব মিলানোর সময় এসেছে৷
সনদের স্বীকৃতি নিয়ে তো কম হলো না কওমীর মাঝে বিরোধ৷ আরাজাবাদ সমাবেশ থেকে শুকরিয়া মেহফিল তক যা পেলো কওমী তা তো গৌরবের মনে হয় না৷ এই স্বীকৃত সনদে সনদধারীরা কোথাও আবেদনেরও অধিকার পাচ্ছে না, সে চিন্তা কি করেন যারা কওমীতে হাটহাজারীর সিলেবাস চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন!
কওমীর তালেবে ইলমরা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে৷ জীবনময় পরীক্ষার গ্যারাকলে৷ কিন্তু আজও কি একটি মানসম্মত, সময়ের দাবি পূরণ করতে পারে এমন পাঠক্রম ও শিক্ষাক্রম উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন?
হাইআর কো চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি বেফাকের, সিনিয়র সহসভাপতি নিয়ে যে তেলেসমাতি কাণ্ড হয়েছে এটি কি একটি বাজে নজির হয়ে থাকবে না কওমীর আগামীর কাছে?
কথা বললেই বেআদব, সুচিন্তা করলেও কওমীবিরোধী, প্রস্তাবনা দিলেও উপেক্ষিত এইসব মানসিকতা বাদ না দিলে কওমীর আগামী অন্ধকারে৷ গভীর সংকটে৷
হতাশার সাগরে ভাসবে কওমী৷ কথা বলার কেউ থাকবে না এক সময়৷
সময় এখনই ঐতিহ্য সচেতন হয়ে নিজেদের সমস্যা সমাধানে যোগ্য ও দক্ষ লোকবল দিয়ে শূরা ও পরামর্শের ভিত্তিতে কওমীর কাজ এগিয়ে নেওয়া৷ ইসলামী দল সংস্থা ও সংগঠনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়ে আগামীর কর্মসূচি নির্ধারণ করে পথচলা৷ ঐক্য ও ইখলাছ তো লাগবেই৷
অতীতের ব্যর্থতার অন্ধকার থেকে আগামী নির্মাণে আলো দেখতে হবে৷ আলোর সন্ধান করতে হবে৷ এই আলো হোক আগামীর পথচলার পাথেয়৷ এই আলো শুধুই আল্লাহর জন্য দীনের কাজ করে যাওয়া৷ দীনের নুসরাতের নিয়তে অবিরাম কাজ করে যাওয়া সচেতন ও সতর্ক হয়ে৷
দেশের শীর্ষ আল্লাহওয়ালা রব্বানী আলেমদের কাফেলা একে একে চলে যাচ্ছেন ওপারে৷ এই শূন্যতা অপূরণীয় হলেও পূরণ করার কোশেশ করতে হবে সময়ের সজাগ তরুণদের৷
চোখ কান খোলা রেখে৷ দরজা জানালা যেন পৃথিবীর দিকে উন্মুক্ত থাকে৷ তাহলে জেগে ওঠবে উম্মাহ৷
লাবীব আব্দুল্লাহ, ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


