৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

কবে কাটবে আফগানদের দুর্দশা?

ফাইল ছবি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : টানা ২০ বছরের যুদ্ধ নিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ আফগানিস্তানের মানুষদের একটি বিস্মৃত ট্র্যাজেডি ছিল এবং থাকবে। পশ্চিমা নেতারা এখন ইউক্রেন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক মন্দা কাটানো নিয়ে ব্যস্ত। পশ্চিমারা তালেবান শাসনের স্বীকৃতি দিতে পারে, বা রাষ্ট্রীয় বাজেটের ৭৫ শতাংশ, যা বিদেশি সহায়তা থেকে আসে তা ফিরে আসবে এমন কোনো সংকেত আপাতত নেই। সেকারণে শরিয়া আইন ধারণ করে চলা তালেবানের পথ পরিবর্তন না করার কারণ খুব ক্ষীণ।

২০২১ সালের ৩১ আগস্ট আমেরিকান সেনারা কাবুল ত্যাগ করার পর তালেবানরা দেশটির ক্ষমতার মসনদে বসে। কিন্তু তালেবান ক্ষমতায় বসলেও এরপর থেকেই অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক গোলযোগের মধ্যে পড়ে দেশটি। আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও রিজার্ভ বন্ধ করার কারণে তারল্য সংকটে ভুগছে আফগানিস্তানের অর্থনীতি। সাধারণ মানুষ ব্যাংক থেকে তাদের সঞ্চয় বের করতে পারছে না।

অর্থের অভাবে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা কর্মীদের ছাঁটাই করছে। ব্যাংক নোটের ঘাটতির কারণে সহায়তাকারী সংস্থাগুলো নগদ অর্থে বা সরাসরি পণ্য পাঠিয়ে সহায়তা করছে। তবে অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী স্যুটকেস ভরে সীমান্ত দিয়ে পাচার করছে অর্থ। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির উপদেষ্টা হিসেবে থাকা স্কট গুগেনহেইম বলেছেন, ‘কেউ যদি মানি-লন্ডারিং বা আফিম নিয়ে চিন্তিত হন তবে চোখ বন্ধ করুন।’

দেশটির প্রায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং তাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে, এমন শঙ্কা রয়েছে। সাপের প্যাঁচের ন্যায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম দেশটিতে দারিদ্যের সংখ্যা আরও বাড়াচ্ছে এবং গরীব কৃষকরা আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।

বিশেষ করে দেশটির নারীরা খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। গত এক বছর ধরে, তালেবান সরকার মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। নারীদের জন্য বাইরে কাজ করা কঠিন করে তুলেছে তালেবান সরকার। নতুন নিয়ম চালু করেছে দেশটির সরকার, নারীরা পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবে না। নারীরা যেতে পারবেন না পার্কেও। সাহসী কয়েকজন নারী এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল, কিন্তু পরে তা আর ধোপে টেকেনি।

অনেক আফগান নাগরিকের জন্য একটি সান্ত্বনা হলো বন্দুকের গুলির আওয়াজ কমে গেছে। ক্রাইসিস গ্রুপ, নামে একটি থিংক-ট্যাংক ধারণা দেয়, ২০২২ সালের জুলাই থেকে গত ১০ মাসে সহিংস ঘটনার সংখ্যা এক বছরের আগের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ শতাংশ কমে গেছে দেশটিতে। একদিকে, বড় শহরগুলোতে বসবাসকারীরা দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। অপরদিকে, গ্রামীণ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করছে ও ফসল রোপণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

কিন্তু ২০২৩ সালেও সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে তালেবান। তালেবান শাসনের বিজয় ও পরাজয় দুটোই ঘটেছে এর আগে। দেশটির লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের সঙ্গে বসবাস করায় নাগরিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এখনও জিইয়ে আছে আফগানিস্তানে। ইসলামিক স্টেটের একটি সহযোগী সংগঠন খোরাসান শাখা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। স্কুল ও মসজিদে কয়েক ডজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে ওই সব হামলায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবানরা বিদ্রোহী থেকে শাসনকাল টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে আফগানদের।

  • সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com