করোনা ভ্যাকসিন: বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটুকু?

করোনা ভ্যাকসিন: বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটুকু?

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আমেরিকা-ইউরোপসহ পৃথিবী জুড়ে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। দেশগুলো টিকা পরিবহন, সংরক্ষণ, বিপণন ও প্রয়োগে নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করছে। অত্যন্ত তাপমাত্রা সংবেদী এই ভ্যাকসিন দ্বারা অ্যান্টিবডি নিশ্চিত করতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা জরুরি।

উন্নত দেশগুলোতে হিমাঙ্কের নিচে শীতলতম সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা সহজসাধ্য হলেও বাংলাদেশসহ বহু দেশ কোল্ড চেইন সিস্টেমের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ১০ কোটি ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করলেও ভ্যাকসিন পরিবহন, সেগুলো সংরক্ষণ ও প্রয়োগ, অতিরিক্ত লোকবলের প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে কোল্ড চেইন সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন-বিষয়ক জাতীয় পরিকল্পনার কাজ প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এখন কেবল মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অপেক্ষা।ভ্যাকসিন দেশে এলে কাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে, যোগাযোগ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি, কোল্ড চেইন সক্ষমতা, টিকার নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, পরিবহন, বাজেট প্রভৃতি নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। অক্সফোর্ড থেকে ক্রয় করা ৩ কোটি টিকা প্রথম দফায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নীতিমালা অনুযায়ী জনগণের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে।

ইতিমধ্যে ফাইজার উৎপাদিত ভ্যাকসিনের জরুরি অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও বাহরাইন। আগামী ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই ইউরোপ ও আমেরিকার ভ্যাকসিন বুথগুলোতে টিকাটি পৌঁছানোর কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। ব্রিটেনে সোমবার টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রে চারটি ধাপে করোনা ভ্যাকসিন বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বড়দিনের আগেই ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে ২৭ জাতিগোষ্ঠীর ইউরোপীয় ইউনিয়ন। করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গণহারে ‘স্পুটনিক-ভি’ ভ্যাকসিনের কর্মসূচি শুরু করেছে রাশিয়া।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটুকু : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মা, শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক জানান, প্রথম ধাপে ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট-জিএভিআই বা গ্যাভির কাছে জাতীয় ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান দিতে হবে, কিন্তু তার আগেই সরকারের কাছে এটা জমা দিতে হবে আমাদের। এই প্ল্যান রিভিউ করবে গ্যাভি, সেটা হবে ডিসেম্বর থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে এখানে কথা হচ্ছে, যারা আগে এই প্ল্যান জমা দেবে, তারাই আগে ভ্যাকসিন পাবে। আর আমরা চেষ্টা করছি, প্রথম দিকেই গ্যাভির কাছে সাবমিট করার জন্য। গ্যাভি জানিয়েছে, তাদের ভ্যাকসিনের প্রথম শিপমেন্ট হবে ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে।

বাংলাদেশ গ্যাভি-কোভ্যাক্স থেকে ৬৮ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮০ লাখ (প্রতিজন দুই ডোজ) ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাচ্ছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে ৩ কোটি ভ্যাকসিন পাবে। এর জন্য সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় অর্ধেক পরিমাণ প্রায় ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড় করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ভ্যাকসিন বিতরণের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট টাস্কফোর্স কমিটি, বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠন করেছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটি। এছাড়া কীভাবে টিকা জোগাড় করা হবে, কীভাবে সেটি দেওয়া হবে—সে বিষয়ে একটা ফ্লো চার্ট আমরা তৈরি করেছি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সরকার গঠিত একটি কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন এলে কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হবে, কীভাবে বণ্টন করা হবে—এরকম অনেকগুলো বিষয় নিয়ে খসড়া তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিড-১৯-এর ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনবে। এই টিকা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণযোগ্য, এ ব্যাপারে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *