করোনাকালের ফিতরা সর্বোচ্চমূল্যে দিন

করোনাকালের ফিতরা সর্বোচ্চমূল্যে দিন

করোনাকালের ফিতরা সর্বোচ্চমূল্যে দিন

মাসউদুল কাদির :: সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। এ সদকায় রোযার বিভিন্ন ত্রুটিবিচ্যুতিরও ক্ষতিপূরণ হয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন। অর্থহীন, অশালীন কথা ও কাজে রোযার যে ক্ষতি তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য। [সুনানে আবু দাউদ ১/২২৭]

তিনটি শর্ত যার মধ্যে পাওয়া যাবে তার উপরই সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। এক. মুসলমান হওয়া। দুই. স্বাধীন হওয়া। তিন. ঋণমুক্ত হওয়া এবং তার ও তার পরিবার-পরিজনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদের উদ্বৃত্ত হয়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে।
মানুষের বাসগৃহ, গৃহের আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, যানবাহন ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অন্তর্ভুক্ত। সদকায়ে ফিতরের জন্য পূর্ণ বছর নেসাব পরিমাণ মালিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি শিশু, পাগলও তার উপরও সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব।

এই সাদাকার পরিমাণ সম্পর্কে হাদীস ও সুন্নাহয় দুটি মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তা হচ্ছে, ‘সা’ ও নিসফে সা’। এক ‘সা’-এর পরিমাণ হলো ৩ কেজি ১৮৩ গ্রাম। আর ‘আধা সা’-এর পরিমাণ হলো, ১ কেজি ৫৯১.৫ গ্রাম। যব, খেজুর, পনির ও কিসমিস দ্বারা আদায় করলে এক ‘সা’ এবং গম দ্বারা আদায় করলে ‘নিসফে সা’ প্রযোজ্য হবে।

এই খাদ্যদ্রব্যের বদলে অর্থ আদায় করার মাধ্যমেও সাদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে। শরীয়ত নির্ধারিত ‘সা’ অথবা ‘নিসফে সা’-এর বাজার মূল্য করলেও সাদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে।

সদকাতুল ফিতর আদায়ের সামর্থ্যবানদের সতর্কভাবে আদায় করা উচিৎ। শরীয়ত নির্ধারিত জিনিসগুলোর দাম এক রকম নয়। তাই সামর্থ্যানুযায়ী বেশী দামের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম।

সাদকাতুল ফিতর মূলত যাকাতেরই একটি প্রকার। কুরআনেও বান্দার প্রতি পবিত্র হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাকাতা বা সাদকাতুল ফিতর আদায়ের মাধ্যমে বান্দা পবিত্রতা লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে যে পবিত্রতা অর্জন করে।’ [সূরা আ’লা : আয়াত ১৪]

এবছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনি¤œ ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার দুই শত টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক আটা, যব, গম, কিশমিশ, খেজুর ও পনির ইত্যাদি পণ্যের যেকোনো একটি দ্বারা ফিতরা দেওয়া যায়। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, গম, কিশমিশ, খেজুর ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্যগুলোর যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই।

আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ৭০ (সত্তর) টাকা দিতে হবে। যব দিয়ে করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ২৭০ টাকা, গম দিয়ে আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ৭০ টাকা, কিশমিশ দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ১ হাজার ৫০০ টাকা, খেজুর দিয়ে করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ১ হাজার ৬৫০ টাকা, পনির দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০’ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা দিতে হবে।

সামর্থ্যবান মানুষের জন্য উচিত সর্বোচ্চ মূল্যের ফিতরা আদায় করা। কারণ, এ টাকা বা পণ্য পায় সাধারণ দুস্থ মানুষ। এদের কল্যাণ চিন্তাই আমাদের করা উচিত। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হলেও এই সাদকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব। আল্লাহ তাআলা সাদকাতুল ফিতর আদায় করে পুণ্যবান ও পবিত্র হওয়ার তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক : গল্পকার ও সাংবাদিক
mkadir1983@gmail.com

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *