করোনা টেস্ট প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পৃথিবী কাঁপানো করোনা ভাইরাস নিয়ে দুর্নীতি হতে পারে এটা কেউ বিশ^াসও করতে চায়নি। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে এমন মানুষের সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। রিজেন্ট হাসপাতালসহ আরও কিছু কসাই-দুর্বৃত্ত এমন অসহায় করোনাা রোগীদের নিয়ে চরম হেলা করে চিকিৎসা প্রতারণা করে কামাই করে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ডাক্তার সাবরিনা চৌধুরী।
তিনি জেকেজি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে তুলে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ভুয়া নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ায় ওইসব দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থগিত করেছে। এমনকি কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমান থেকে ১২৫ জন বাংলাদেশিকে নামতে দেওয়া হয়নি ইতালির রোমের কিউমিসিনো বিমানবন্দরে। ফলে হাজার হাজার প্রবাসী দেশে আটকা পড়েছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে।
দেশ কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। করোনার ভুয়া রিপোর্ট দানের রমরমা ব্যবসা খুলে বসেছিলেন হুমায়ুন কবির-তানজীনা পাটোয়ারী দম্পতি। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই মনগড়া রিপোর্ট সরবরাহের দায় স্বীকার করে ২৪ জুন জবানবন্দি দিয়েছেন চিকিৎসক নামের কলঙ্ক তানজীনা পাটোয়ারী ও তার স্বামী হুমায়ুন কবির। এ জালিয়াত দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। ১৫ জুন রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে করোনার জাল সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে তিন জালিয়াতকে গ্রেফতার করেন র্যাব-৩-এর সদস্যরা। তাদের কাছ থেকে করোনার বেশকিছু জাল সার্টিফিকেট, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার ও দুটি স্ক্যানার উদ্ধার করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার অনুমতি পেয়েছিল উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতাল। যে হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি সাত বছর ধরে তারা কীভাবে করোনা পরীক্ষার অনুমতি পায় আমাদের বোধগম্য নয়। এ অনুমতির সঙ্গে যারা জড়িত তারা প্রতারকদের গডফাদার কিনা ভাবতে হবে। বড় অদ্ভূত দেশে আমাদের বসবাস।
জীবন-মৃত্যু নিয়ে যেখানে করা হয় ব্যবসা। র্যাব হাসপাতাল সিলগালা করে দিলেও এর মালিক প্রতারক মোঃ সাহেদকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা মনে করি, করোনা পরীক্ষার নামে যারা প্রতারণার ব্যবসা ফেঁদেছে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধী। তারা মাথা উঁচু করা এই দেশের মান-ইজ্জত-আব্রুর সলিল সমাধি দেয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত করেছে। বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে শুরু করেছে। এই অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করেই প্রমাণ করতে হবে- এ দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে বাঁচা যায় না।


