কর্ণাটক হাইকোর্টেও সুরাহা হলো না হিজাব ইস্যু

কর্ণাটক হাইকোর্টেও সুরাহা হলো না হিজাব ইস্যু

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হিজাব ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের কর্ণাটক। হিজাব পরে কয়েকজন ছাত্রীকে স্কুলে ঢুকতে না দেওয়া নিয়ে সেখানে সৃষ্টি হয় বিক্ষুদ্ধ পরিস্থিতির। ক্লাসে ছাত্রীরা হিজাব পরতে পারবে কী না, তার সমাধানে কর্ণাটক হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন কর্ণাটক সরকারি কলেজের পাঁচ ছাত্রী। কিন্তু হাইকোর্টও এ ব্যাপারে কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। বিষয়টি সমাধানের ভার প্রধান বিচারপতির হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন কর্ণাটক হাইকোর্ট।

কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রিতু রাজের নেতৃত্বে বিচারকদের একটি প্যানেলের প্রতি উল্লেখ করে মামলার শুনানিকারী বিচারক বলেন, এই বিষয়গুলো ব্যক্তিগত আইনের কিছু দিক বিবেচনা করে মৌলিক গুরুত্বের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে আনে।

এ ব্যাপারে বিচারপতি কৃষ্ণ এস দীক্ষিত বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো বিবেচনা করে বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা যেতে পারে কী না সেই সিদ্ধান্ত প্রধান বিচারপতিরই নেওয়া উচিত।

এদিকে, হিজাব বিতর্কের জেরে বেঙ্গালুরুতে দুই সপ্তাহ বিক্ষোভ সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিয়ে বিতর্কে সব স্কুল-কলেজ আগামী তিন দিন বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসাভারাজ বোম্মাই।

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজেহিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছে মুসলিম ছাত্রীরা।

অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।

সম্প্রতি ভারতের কর্ণাটকের একটি কলেজে হিজাব পরার কারণে কয়েকজন ছাত্রীকে কলেজ গেটে আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

এতে কর্ণাটকের কুন্দাপুর উপকূল এলাকার উদুপুর জেলায় অধ্যক্ষের কাছে কলেজছাত্রীদের অনুনয় করতে দেখা যায়। তারা অধ্যক্ষকে হিজাব পরে ক্লাসে অংশ নেওয়ার অনুমতি প্রদান করার আহ্বান জানান।

এই ঘটনার এক মাস আগে উদুপুরের পিইউ গার্লস কলেজে প্রথম হিজাব পরা নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। একজন ছাত্র হিজাব, হেডস্কার্ফ পরে শ্রেণিকক্ষে অংশ নিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

কর্ণাটকের রাজ্য সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের শিক্ষানীতি অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীকে (ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুল কর্তৃক নির্ধারিত) একই পোশাক পরে শ্রেণিকক্ষে আসতে হবে। কারণ তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করবে ছাত্র-ছাত্রীরা কেমন পোশাক পরবে।

সুত্র: যুগান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *