পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হযরত মুআবিয়া রা.কে উদ্দেশ্য করে কোনোরূপ সমালোচনা করা জায়েয নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেছেন, কারবালার ময়দানে হযরত হুসাইন রা. এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে হযরত মুআবিয়াকে কোনোরূপ দোষারোপ করা, তাঁকে কোনোরূপ গালিগালাজ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ। কারণ, কারবালার ঘটনার সময় হযরত মুআবিয়া রা. জীবিত ছিলেন না। তাই তার প্রতি এরকম অহেতুক অভিযোগ করা ইসলামের দৃষ্টিতে ঘোর অন্যায়। তাছাড়া সন্তানের জন্য পিতাকে গালি দেয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
মোহাররম মাসের প্রথম জুমা সম্পর্কে বাংলাদেশ জমিয়তু উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আজকে পবিত্র মোহাররম মাসের প্রথম জুমা। আল্লাহ তাআলার শোকর আমরা আজকের জুমাতে মসজিদে হাযির হতে পেরেছি। এজন্য আমরা শোকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ।
শোকরিয়া আদায়ে নেয়ামত বৃদ্ধি পায় জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর নেয়ামতকে বৃদ্ধি করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকারী উপায় হলো নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করা। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ছোট একটা শব্দ, কিন্তু এটার শক্তি অনেক বেশি। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন, তোমারা যদি নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করো, তাহলে আমি নেয়ামতকে আরো বাড়িয়ে দেবো। তাই আসুন আমরা নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করি।
মোহাররম মাসকে নিয়ে মানুষের মাঝে অনেক ভুল বিশ্বাস আছে উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, সমাজে মোহাররম মাসকে নিয়ে অনেক ভ্রান্ত বিশ্বাস ছড়িয়ে আছে। যেমন কারবালার ময়দানে হযরত হুসাইন রা. এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে অনেকেই হযরত মুআবিয়াকে গালমন্দ করে থাকে। অথচ নবীজী সা. এর স্পষ্ট হাদীস, কোনো সাহাবীকেই গালি দেয়া যাবে না। সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেয়া মানে স্বয়ং নবীজিকেই গালি দেয়া। নাউজুবিল্লাহী মিন জালিক।
কারবালার ঘটনার সাথে মোহাররম মাসের ফজিলতের কোনো সম্পর্ক নেই মন্তব্য করে এই আধ্যাত্মিক রাহবার বলেন, সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ মনে করে ও বিশ্বাস করে যে, কেবল কারবালার ময়দানে হযরত হুসাইনের শাহাদাতকে কেন্দ্র করেই আল্লাহ তাআলা আশুরা ও মোহাররমকে সম্মানিত করেছেন, যা ইসলামী শারীআ অনুযায়ী একেবারেই সঠিক নয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর আর কোনো ঘটনা, কোনো কিছুই শরীয়তের বিধিবিধান হিসাবে গণ্য হবে না। সুতরাং আমাদেরও এই ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে সরে আসা উচিত।


