কারাগারে করোনা প্রতারক ডা. সাবরিনা

কারাগারে করোনা প্রতারক ডা. সাবরিনা

কারাগারে করোনা প্রতারক ডা. সাবরিনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অনুমতি বাতিল হওয়া জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফের দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের এ আদেশ দেন।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডা. সাবরিনাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এ আদেশ দেন।

এ সময় সাবরিনার পক্ষের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ১৩ জুলাই প্রথম দফায় তিন দিন ও ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দু’দিন মোট পাঁচ দিনের রিমান্ডে ছিলেন ডাক্তার সাবরিনা। গত ১২ জুলাই দুপুর ১টার দিকে ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেয় তেজগাঁও পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডা. সাবরিনা একজন সরকারি চিকিৎসক হয়েও নিজেকে জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান পরিচয় দিতেন। অনুমতি না থাকলেও বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করিয়েও টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে জেকেজি’র বিরুদ্ধে। অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় ডা. সাবরিনাকে বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চার সংস্থায় দুদকের চিঠি

জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন আরিফ চৌধুরীর তথ্য চেয়ে চার প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের একটি সূত্র জানায়।

দুদক সূত্র জানায়, সাবরিনার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে করোনার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি এবং সরবরাহ করে আট কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক মোছা. সেলিনা আখতার মনির স্বাক্ষরিত চারটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিআইএফইউ): জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১০ এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর (আরজেএসসি) বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তা অনুসন্ধানের প্রয়োজনে চিঠি দিতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই। গত ১৩ জুলাই জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহায়তায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহপূর্বক ১৫ হাজার ৪৬০ টি ভুয়া মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহ করে আট কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

এর আগে কমিশনের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম, ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমসহ বিভিন্ন্ উৎস থেকে ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংগ্রহ করে। এসব তথ্য-উপাত্ত সংবলিত অভিযোগগুলো কমিশনের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল কমিশনে উপস্থাপন করলে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মাধ্যমে এ অভিযোগটি অনুসন্ধান করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *